জনতার প্রেস
সর্বশেষ
ঢাকাকে বাসযোগ্য রাখতে বিআইপির সাত সুপারিশ

ঢাকাকে বাসযোগ্য রাখতে বিআইপির সাত সুপারিশ

রাজধানী ঢাকাকে বাসযোগ্য রাখতে পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা রক্ষা ও বাস্তবায়নসহ সাতটি সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। সংগঠনটি বলেছে, এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে রাজধানীর বাসযোগ্যতার আরও দ্রুত অবনতি ঘটবে।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামটরে প্ল্যানার্স টাওয়ারে ‘ঢাকা শহরের বাসযোগ্যতা: চ্যালেঞ্জ ও পরিকল্পিত সমাধানের পথরেখা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব সুপারিশ তুলে ধরে বিআইপি।সংবাদ সম্মেলনে বিআইপির পক্ষ থেকে বলা হয়, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিবর্তন হলেও চলমান পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক কিংবা ব্যক্তিস্বার্থে অনুমোদিত পরিকল্পনার মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন বা বাতিল করা যাবে না।বিআইপি বলেছে, পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অক্ষুণ্ন রেখে প্রতি পাঁচ বছর পরপর পরিকল্পনার অগ্রগতি ও প্রতিবন্ধকতা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে পরিকল্পনাবিদ, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় অংশীজনদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।সংগঠনটির আরেকটি সুপারিশ হলো, খণ্ডিত এলাকাভিত্তিক, একক খাতভিত্তিক বা স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার পরিবর্তে ভূমি ব্যবহার, পরিবহন, পরিবেশ, আবাসন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সমন্বিত করে জাতীয় ও আঞ্চলিক স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা।এ ছাড়া অনুমোদিত পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত না করে জলাভূমি, কৃষিজমি, জলাধারসহ পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ না করার দাবি জানিয়েছে বিআইপি।যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনার সঙ্গে প্রকল্পটির সামঞ্জস্য যাচাই করে একটি সংক্ষিপ্ত ‘পরিকল্পনা সামঞ্জস্যতা প্রতিবেদন’ বাধ্যতামূলকভাবে জমা দেওয়ার ব্যবস্থারও সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।বিআইপি মনে করে, উন্নয়ন কার্যক্রমকে বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আগামী কয়েক দশকের নগর ও আঞ্চলিক চাহিদা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পনাভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।সংবাদ সম্মেলনে বিআইপির সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি ড. আদিল মুহাম্মদ খান, স্থানিক পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ পরিকল্পনাবিদ এ. কে. এম. রিয়াজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান, পরিকল্পনাবিদ তালহা তাসনিমসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।সূচনা বক্তব্যে বিআইপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান বলেন, পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলেও এর যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়া, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে ঢাকার বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।বিআইপির সাবেক সভাপতি ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, গত ছয় মাসে নগরীর বাসযোগ্যতা উন্নয়নে সরকার কার্যকর ও দৃশ্যমানভাবে কতটুকু উদ্যোগ নিয়েছে, তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ঢাকার ফুটপাত দখল, অবৈধ ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং নগর ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়গুলো উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।বিআইপির সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, দ্রুত নগরায়ণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিকল্পিত অবকাঠামো ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা না গেলে ঢাকা ক্রমেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। তাই দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে রাজধানীর বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

ভিডিও কলে ছেলের সেই হাসি রইল শেষ স্মৃতি হয়ে

ভিডিও কলে ছেলের সেই হাসি রইল শেষ স্মৃতি হয়ে

স্ত্রী-সন্তান, শ্বশুরসহ ভারতের কলকাতা থেকে বুধবার দেশে ফেরার কথা ছিল কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের। আগের রাতে মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে তার কথা হয়। মা-বাবা আর তাদের কাছে রেখে যাওয়া ৮ বছরের মেয়ের জন্য কত কেনাকাটা করেছেন, সেগুলো দেখিয়েছিলেন। তখন মিটিমিটি হাসছিলেন। এসব কথা বলেন মা স্বপ্না দত্ত আর কাঁদেন। কে জানত, তার স্নেহের দেবার সঙ্গে এই তাঁর শেষ দেখা, শেষ কথা! দেশে ফিরে আসবে তাঁর ছেলে, ছেলের বউ, নাতি ও বেয়াইয়ের মরদেহ।  মঙ্গলবার গভীর রাত ২টার দিকে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ আগুনে শ্বাসরোধে যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে; তাদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি। এর মধ্যে সবার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। সাতজনের চারজনই একই পরিবারের। তাঁরা হলেন-দেবাশীষ দত্ত (৩৮) ছিলেন জাতীয় দৈনিক আজকের পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইন-এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি এবং স্থানীয় দৈনিক আজকের আলোর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক। অগ্নিকাণ্ডে দেবাশীষ দত্তের আড়াই বছরের ছেলে শর্ণশীষ দত্ত, স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৭) ও তাঁর শ্বশুর আকরাম আলীরও (৬৫) মৃত্যু হয়। অন্যজন হলেন সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকার আহম্মেদ বাবু (৩৭)। তিনি ব্যবসার কাজে কলকাতা গিয়েছিলেন। সাতক্ষীরা কালীগঞ্জের রেবাতি সরকার ও এস এম আলীমুজ্জামান।  এছাড়া ভারতীয় দুইজন হলেন- ঝারখান্ডের স্বন্দীপ পাসওয়ার ও শিলিগুড়ির নারায়াণ আগারওয়াল।  কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার একটি ভাড়া বাসায় সপরিবারে থাকতেন দেবাশীষ। গতকাল বেলা ২টায় আড়ুয়াপাড়ার বাসায় গিয়ে দেখা যায়, মা স্বপ্না দত্ত বিলাপ করে বারবার বলছেন তাঁর দেবাকে ফিরিয়ে এনে দিতে। স্বজনরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। দেবাশীষের বড় মেয়ে দিবানীতা (৮) ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। চোখ ছলছল। কোনো কথা বলছে না সে। তবে বুঝতে পেরেছে, মা-বাবা আর তার আদরের ভাইটি নেই।     দেবাশীষের বাবা দিলীপ কুমার জানান, সকালে টিভিতে খবর দেখেন– কলকাতায় হোটেলে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। এতে যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি। অজানা আশঙ্কায় তাঁর বুক ছাঁৎ করে ওঠে। ছেলের নম্বরে বারবার কল দেন। রিং হয়, কিন্তু কেউ ধরে না। এতে দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায়। পরে জানতে পারেন, তাঁর ছেলে, ছেলের বউ, নাতি ও বেয়াই মারা গেছেন।   একমাত্র উপর্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন দিলীপ কুমার। তিনি বলেন, ‘দেবাশীষ আমার একমাত্র সন্তান। সে পরিবারের খরচ চালাত। আমাদের আয়ের একমাত্র অবলম্বন ছিল সে। প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকার ওষুধ লাগে আমার ও তার মায়ের। এখন পরিবার কীভাবে চলবে! ওর মেয়েটা মা-বাবা ও ভাইহারা হয়ে গেল। ওকে আমরা কী বলে সান্ত্বনা দেব? কেমন করে বড় করব!’  দেবাশীষের ভায়রা ভাই ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে দেবাশীষ ৩ আগস্ট কলকাতা গিয়েছিলেন। সেখান থেকে যান কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু। আমি ও আমার শ্বশুর আকরাম হোসেনও চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরু গিয়েছিলাম। চিকিৎসা শেষে আমি গত সোমবার দেশে ফিরে আসি। আমার শ্বশুর থেকে যান দেবাশীষের সঙ্গে। আজ (গতকাল) বুধবার তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল।’  ফিরোজ হোসেন আরও বলেন, ‘সকালে অনেকবার দেবাশীষের মোবাইলে কল করলেও কেউ সাড়া দেননি। পরে দূতাবাসের একজন ফোন রিসিভ করেন। তখনই মর্মান্তিক খবরটি জানতে পারি। আমি কলকাতায় যাচ্ছি মরদেহ গ্রহণ করার জন্য। সব প্রক্রিয়া শেষ করে কাল (আজ বৃহস্পতিবার) হয়তো মরদেহগুলো নিয়ে ফিরতে পারব।’  জানা গেছে, দেবাশীষের আত্মীয় ভারতের মালদহের বাসিন্দা কৃষ্ণ নন্দী ব্যবসার কাজে কলকাতাতেই ছিলেন। বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিউমার্কেট থানায় যান। পরে মর্গে গিয়ে দেবাশীষদের মরদেহ শনাক্ত করেন।  কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার ৪ তলা বাসার দোতলায় ভাড়া থাকতেন দেবাশীষ। বিকেল ৪টার দিকে আরেকবার গিয়ে দেখা যায় সংবাদকর্মীর ভিড়। অনেকেই লাইভ করছেন। প্রিয় সংবাদকর্মীকে নিয়ে এমন সংবাদ পড়তে হবে কিংবা লিখতে হবে, সেটা অনেকে কল্পনায়ও আনতে পারেননি। কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু বলেন, ‘দেবাশীষ ছিল সবার প্রিয় একজন মানুষ। সে আপাদমস্তক সাংবাদিক ছিল। তার ধ্যান-জ্ঞান ছিল সংবাদ নিয়ে। ভারতে যাওয়ার আগের দিনও আমার অফিসে এসেছিল। সকালে টেলিভিশন খুলে খবর দেখছিলাম– কলকাতায় হোটেলে আগুনে বাংলাদেশের সাতজন মারা গেছে। এর মধ্যে দেবাশীষও ছিল– এটা মানতে পারছি না। ওর হাসিমাখা মুখটা বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে।’ 

১৫ আগস্ট ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?

১৫ আগস্ট ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।  বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। আরও পড়ুনআরও পড়ুনদেশে স্বর্ণের দাম বাড়ল নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ২০৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে। এর আগে, সবশেষ গত ১৪ আগস্ট সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই। আরও পড়ুনআরও পড়ুনআজকের স্বর্ণের দাম: ১৫ আগস্ট ২০২৬ এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৫২ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৫১ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

শিক্ষার্থীদের সাফল্যে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: বাউবি উপাচার্য

শিক্ষার্থীদের সাফল্যে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: বাউবি উপাচার্য

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান এইচএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এর বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। গতকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে তিনি গাজীপুর উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রাধীন ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ ও কাজী আজিম উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে উপাচার্য পরীক্ষা কার্যক্রমের সার্বিক পরিবেশ, পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং পরীক্ষা পরিচালনার বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন। সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরীক্ষার নির্ধারিত নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে অনুসরণ এবং যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও অসদুপায় কঠোরভাবে প্রতিরোধের নির্দেশনা দেন। উপাচার্য বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম অগ্রাধিকার। শিক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্ন ও সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে উপাচার্য বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময়কালে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যয়ন, সময়ের যথাযথ ব্যবহার এবং পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি সন্তানদের পড়াশোনার প্রতি উৎসাহিত করা এবং নিয়মিত পড়ার টেবিলে বসার অভ্যাস গড়ে তুলতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের সম্মিলিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় মূলত শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক একটি প্রতিষ্ঠান। তাই শিক্ষার্থী সেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সেবামূলক মনোভাব নিয়ে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সেবা দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে নিশ্চিত করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। উপাচার্যের এই পরিদর্শন ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে পরীক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং শিক্ষার্থীসেবার মান আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

ভিডিও কলে ছেলের সেই হাসি রইল শেষ স্মৃতি হয়ে

ভিডিও কলে ছেলের সেই হাসি রইল শেষ স্মৃতি হয়ে

স্ত্রী-সন্তান, শ্বশুরসহ ভারতের কলকাতা থেকে বুধবার দেশে ফেরার কথা ছিল কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের। আগের রাতে মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে তার কথা হয়। মা-বাবা আর তাদের কাছে রেখে যাওয়া ৮ বছরের মেয়ের জন্য কত কেনাকাটা করেছেন, সেগুলো দেখিয়েছিলেন। তখন মিটিমিটি হাসছিলেন। এসব কথা বলেন মা স্বপ্না দত্ত আর কাঁদেন। কে জানত, তার স্নেহের দেবার সঙ্গে এই তাঁর শেষ দেখা, শেষ কথা! দেশে ফিরে আসবে তাঁর ছেলে, ছেলের বউ, নাতি ও বেয়াইয়ের মরদেহ।  মঙ্গলবার গভীর রাত ২টার দিকে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ আগুনে শ্বাসরোধে যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে; তাদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি। এর মধ্যে সবার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। সাতজনের চারজনই একই পরিবারের। তাঁরা হলেন-দেবাশীষ দত্ত (৩৮) ছিলেন জাতীয় দৈনিক আজকের পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইন-এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি এবং স্থানীয় দৈনিক আজকের আলোর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক। অগ্নিকাণ্ডে দেবাশীষ দত্তের আড়াই বছরের ছেলে শর্ণশীষ দত্ত, স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৭) ও তাঁর শ্বশুর আকরাম আলীরও (৬৫) মৃত্যু হয়। অন্যজন হলেন সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকার আহম্মেদ বাবু (৩৭)। তিনি ব্যবসার কাজে কলকাতা গিয়েছিলেন। সাতক্ষীরা কালীগঞ্জের রেবাতি সরকার ও এস এম আলীমুজ্জামান।  এছাড়া ভারতীয় দুইজন হলেন- ঝারখান্ডের স্বন্দীপ পাসওয়ার ও শিলিগুড়ির নারায়াণ আগারওয়াল।  কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার একটি ভাড়া বাসায় সপরিবারে থাকতেন দেবাশীষ। গতকাল বেলা ২টায় আড়ুয়াপাড়ার বাসায় গিয়ে দেখা যায়, মা স্বপ্না দত্ত বিলাপ করে বারবার বলছেন তাঁর দেবাকে ফিরিয়ে এনে দিতে। স্বজনরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। দেবাশীষের বড় মেয়ে দিবানীতা (৮) ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। চোখ ছলছল। কোনো কথা বলছে না সে। তবে বুঝতে পেরেছে, মা-বাবা আর তার আদরের ভাইটি নেই।     দেবাশীষের বাবা দিলীপ কুমার জানান, সকালে টিভিতে খবর দেখেন– কলকাতায় হোটেলে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। এতে যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি। অজানা আশঙ্কায় তাঁর বুক ছাঁৎ করে ওঠে। ছেলের নম্বরে বারবার কল দেন। রিং হয়, কিন্তু কেউ ধরে না। এতে দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায়। পরে জানতে পারেন, তাঁর ছেলে, ছেলের বউ, নাতি ও বেয়াই মারা গেছেন।   একমাত্র উপর্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন দিলীপ কুমার। তিনি বলেন, ‘দেবাশীষ আমার একমাত্র সন্তান। সে পরিবারের খরচ চালাত। আমাদের আয়ের একমাত্র অবলম্বন ছিল সে। প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকার ওষুধ লাগে আমার ও তার মায়ের। এখন পরিবার কীভাবে চলবে! ওর মেয়েটা মা-বাবা ও ভাইহারা হয়ে গেল। ওকে আমরা কী বলে সান্ত্বনা দেব? কেমন করে বড় করব!’  দেবাশীষের ভায়রা ভাই ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে দেবাশীষ ৩ আগস্ট কলকাতা গিয়েছিলেন। সেখান থেকে যান কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু। আমি ও আমার শ্বশুর আকরাম হোসেনও চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরু গিয়েছিলাম। চিকিৎসা শেষে আমি গত সোমবার দেশে ফিরে আসি। আমার শ্বশুর থেকে যান দেবাশীষের সঙ্গে। আজ (গতকাল) বুধবার তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল।’  ফিরোজ হোসেন আরও বলেন, ‘সকালে অনেকবার দেবাশীষের মোবাইলে কল করলেও কেউ সাড়া দেননি। পরে দূতাবাসের একজন ফোন রিসিভ করেন। তখনই মর্মান্তিক খবরটি জানতে পারি। আমি কলকাতায় যাচ্ছি মরদেহ গ্রহণ করার জন্য। সব প্রক্রিয়া শেষ করে কাল (আজ বৃহস্পতিবার) হয়তো মরদেহগুলো নিয়ে ফিরতে পারব।’  জানা গেছে, দেবাশীষের আত্মীয় ভারতের মালদহের বাসিন্দা কৃষ্ণ নন্দী ব্যবসার কাজে কলকাতাতেই ছিলেন। বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিউমার্কেট থানায় যান। পরে মর্গে গিয়ে দেবাশীষদের মরদেহ শনাক্ত করেন।  কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার ৪ তলা বাসার দোতলায় ভাড়া থাকতেন দেবাশীষ। বিকেল ৪টার দিকে আরেকবার গিয়ে দেখা যায় সংবাদকর্মীর ভিড়। অনেকেই লাইভ করছেন। প্রিয় সংবাদকর্মীকে নিয়ে এমন সংবাদ পড়তে হবে কিংবা লিখতে হবে, সেটা অনেকে কল্পনায়ও আনতে পারেননি। কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু বলেন, ‘দেবাশীষ ছিল সবার প্রিয় একজন মানুষ। সে আপাদমস্তক সাংবাদিক ছিল। তার ধ্যান-জ্ঞান ছিল সংবাদ নিয়ে। ভারতে যাওয়ার আগের দিনও আমার অফিসে এসেছিল। সকালে টেলিভিশন খুলে খবর দেখছিলাম– কলকাতায় হোটেলে আগুনে বাংলাদেশের সাতজন মারা গেছে। এর মধ্যে দেবাশীষও ছিল– এটা মানতে পারছি না। ওর হাসিমাখা মুখটা বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে।’ 

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে  ‘অআকখ’-এর সাহিত্য আড্ডার আয়োজন

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘অআকখ’-এর সাহিত্য আড্ডার আয়োজন

ভালো গল্প কি সত্যিই একটি ভালো পৃথিবী গড়ে তুলতে পারে? সাহিত্য কি শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ, নাকি মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কও তৈরি করে? এমন নানা প্রশ্ন, ভাবনা আর স্বপ্নকে কেন্দ্র করেই রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো ‘অআকখ’-এর আয়োজিত সাহিত্য আড্ডা। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সাহিত্য হয়ে উঠেছিল পরিচয়ের সেতুবন্ধন, চিন্তার বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার এক মিলনমঞ্চ। আড্ডায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি, বিভিন্ন কলেজ এবং আলিয়া মাদ্রাসাসহ নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন। ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষাঙ্গন থেকে এলেও তাদের মিলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল একটিই—সাহিত্য। অনুষ্ঠানে অআকখ-এর নির্বাহী সাগর মল্লিক বলেন, পৃথিবী মূলত গল্পের মধ্য দিয়েই নির্মিত হয়। তাই ভালো গল্পের চর্চা মানে একটি ভালো সমাজ গড়ে তোলার চেষ্টা। তার ভাষায়, এ কাজ কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়; প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য সংগঠনগুলো একসঙ্গে কাজ করলে সাহিত্যচর্চায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যেতে পারে। আড্ডায় আলোচনায় উঠে আসে সাহিত্যের মানবিক শক্তির কথাও। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, রুমি কিংবা কাজী নজরুল ইসলাম—দুজনেই মানুষকে ভালোবাসা, মুক্তচিন্তা ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছেন। সাহিত্য শুধু অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের মনের জানালা খুলে দেয় এবং নতুনভাবে পৃথিবীকে দেখতে শেখায়। শুধু বক্তৃতা নয়, অনুষ্ঠানের বড় আকর্ষণ ছিল অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মুক্ত মতবিনিময়। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাহি জানান, তাদের সাহিত্য ক্লাব বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যৌথভাবে পাঠচক্র আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, পাঠ ও চিন্তার বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা সাহিত্যচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করছে। মুক্ত আলোচনায় অনেকেই নিজেদের প্রিয় বই, পাঠের অভিজ্ঞতা এবং সাহিত্য নিয়ে ব্যক্তিগত উপলব্ধি তুলে ধরেন। আলিয়া মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে সাহিত্যপাঠের সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। তবে এমন আয়োজন তাদের নতুন বই, নতুন লেখক এবং নতুন ভাবনার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। সমাপনী বক্তব্যে অআকখ-এর শেখ ফাতিমা পাপিয়া বলেন, সাহিত্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি স্থায়ী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। নিয়মিত পাঠচক্র, সাহিত্য আড্ডা ও যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে এই বন্ধন আরও দৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আয়োজকদের মতে, সাহিত্য আড্ডার মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ পাঠকের কণ্ঠকে সামনে নিয়ে আসা। তারা কী পড়ছেন, কী ভাবছেন, সাহিত্য থেকে কী প্রত্যাশা করছেন এবং সমাজে সাহিত্যের ভূমিকা কী হতে পারে—এসব বিষয়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। ডিজিটাল যুগে যখন মনোযোগের বড় একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আটকে যাচ্ছে, তখন এমন সাহিত্যভিত্তিক আয়োজন তরুণদের বইয়ের কাছে ফিরিয়ে আনতে পারে বলে মনে করেন অংশগ্রহণকারীরা। তাদের বিশ্বাস, নিয়মিত পাঠচক্র ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্যচর্চা কেবল বই পড়ার অভ্যাসই বাড়াবে না, বরং ভিন্ন মত ও ভিন্ন অভিজ্ঞতার মানুষের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তুলবে। সাহিত্যের মাধ্যমে নাগরিক সচেতনতা এবং গণমানুষের কাছে সাহিত্যকে পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে অআকখ। আয়োজকদের বিশ্বাস ভালো গল্প মানুষকে বদলায়, আর বদলে যাওয়া মানুষই গড়ে তোলে একটি সুন্দর সমাজ। সেই বিশ্বাস থেকেই  ভবিষ্যতেও সাহিত্যকে মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছে দিতে এবং তরুণদের মধ্যে পাঠাভ্যাস বিস্তারে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখাতে কাজ করছে অআকখ।

অনলাইন জরিপ
১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
শিক্ষামন্ত্রীর প/দ/ত্যা/গ দাবিতে আন্দো/লন করছেন শিক্ষার্থীরা। আপনি কী মনে করেন,
এই দাবি যৌক্তিক না অ/যৌক্তিক?

শিক্ষামন্ত্রীর প/দ/ত্যা/গ দাবিতে আন্দো/লন করছেন শিক্ষার্থীরা। আপনি কী মনে করেন, এই দাবি যৌক্তিক না অ/যৌক্তিক?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন