জনতার প্রেস

মূল পাতা

সারাদেশ

ঝিনাইদহে সার না পেয়ে ডিলার পয়েন্ট ঘেরাও

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
ঝিনাইদহে সার না পেয়ে ডিলার পয়েন্ট ঘেরাও
আজ সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার জামাল ইউনিয়নের দুধরাজপুর গ্রামের ডিলার পয়েন্ট ঘেরাও করেছেন কৃষকরা।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সার না পেয়ে ডিলার পয়েন্ট ঘেরাও করেছেন কৃষকরা। পরে কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়। তবে এ সময় ডিলার শহিদুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার জামাল ইউনিয়নের দুধরাজপুর গ্রামের ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। শহিদুল ইসলাম জামাল ইউনিয়নের নির্ধারিত সার ডিলার।

কৃষকদের অভিযোগ, রোববার সার দেওয়া হবে বলে তাদের জানানো হয়েছিল। নির্ধারিত দিনে তারা ডিলার পয়েন্টে গেলে জানানো হয়, শুক্রবার ও শনিবার সার বিতরণ করা হয়েছে, তাই রোববার আর সার দেওয়া হবে না। এ নিয়ে সেখানে উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে আরও কৃষক সেখানে জড়ো হলে ডিলার পক্ষের সহযোগিতায় গোডাউন খুলে প্রায় ৬০ বস্তা সার দেখতে পান তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডিলার শহিদুল ইসলামের চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ৬৪ টন সারের চাহিদা ছিল। এর মধ্যে তিনি প্রথম সপ্তাহে ৫৮ টন সার উত্তোলন করেছেন। ৫৮ টন সারে প্রায় ১ হাজার ২০০ বস্তা হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা ডিলার পয়েন্টে থাকা সার বিতরণ রেজিস্টার পর্যালোচনা করে দেখতে পান, বিতরণ করা সারের তালিকায় মাত্র ৫ শতাংশ কৃষকের ফোন নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকা থেকে নয়জন কৃষককে ফোন দেওয়া হলে একজন জানান, তিনি সার পেয়েছেন। বাকি আটজনের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত জামিল বলেন, ‘এখানে যে সার আছে, তা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করছি। উপজেলা কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় আরও সার আনা হচ্ছে। সেগুলোও কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি সার বিতরণের রেজিস্টার পরীক্ষা করে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা দেখা হচ্ছে।’

অভিযুক্ত ডিলার শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি যে সার উত্তোলন করেছিলাম, তা বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণ করা সারের রেজিস্টার রয়েছে, চাইলে দেখতে পারেন। চাহিদার তুলনায় কম সার পাওয়া গেলে আমার কী করার আছে?’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে আমরা দ্রুত সেখানে কৃষি কর্মকর্তাদের পাঠিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হচ্ছে। সেখানে আরও সার পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর সকালে জেলার শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ বাজারে সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কৃষকরা। স্থানীয় কৃষকরা গাড়াগঞ্জ পুরাতন বাজারের সার ডিলার শুভ এন্টারপ্রাইজে সার নিতে গেলে ডিলার সার দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে কৃষকরা গাড়াগঞ্জ-শৈলকুপা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেন।

সম্প্রতি চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ার বিষয়টি সামনে এলেও জেলা কৃষি বিভাগ ও বাফার গোডাউন কর্তৃপক্ষের দাবি, জেলায় সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। প্রতিমাসের চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ করা সার ডিলাররা উত্তোলন করছেন। তবে কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার পয়েন্টে চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ বেশি দাম দিলে খোলা বাজারে সারের সংকট নেই।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘সারের কোনো ঘাটতি নেই। কিছু মানুষ কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরির চেষ্টা করছে।’

জেলার খবর খুলনা বিভাগ ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) কৃষক

আপনার মতামত লিখুন

ঝিনাইদহে সার না পেয়ে ডিলার পয়েন্ট ঘেরাও
0:00 0:00
1.0x
জনতার প্রেস

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


ঝিনাইদহে সার না পেয়ে ডিলার পয়েন্ট ঘেরাও

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সার না পেয়ে ডিলার পয়েন্ট ঘেরাও করেছেন কৃষকরা। পরে কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়। তবে এ সময় ডিলার শহিদুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার জামাল ইউনিয়নের দুধরাজপুর গ্রামের ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। শহিদুল ইসলাম জামাল ইউনিয়নের নির্ধারিত সার ডিলার।

কৃষকদের অভিযোগ, রোববার সার দেওয়া হবে বলে তাদের জানানো হয়েছিল। নির্ধারিত দিনে তারা ডিলার পয়েন্টে গেলে জানানো হয়, শুক্রবার ও শনিবার সার বিতরণ করা হয়েছে, তাই রোববার আর সার দেওয়া হবে না। এ নিয়ে সেখানে উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে আরও কৃষক সেখানে জড়ো হলে ডিলার পক্ষের সহযোগিতায় গোডাউন খুলে প্রায় ৬০ বস্তা সার দেখতে পান তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডিলার শহিদুল ইসলামের চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ৬৪ টন সারের চাহিদা ছিল। এর মধ্যে তিনি প্রথম সপ্তাহে ৫৮ টন সার উত্তোলন করেছেন। ৫৮ টন সারে প্রায় ১ হাজার ২০০ বস্তা হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা ডিলার পয়েন্টে থাকা সার বিতরণ রেজিস্টার পর্যালোচনা করে দেখতে পান, বিতরণ করা সারের তালিকায় মাত্র ৫ শতাংশ কৃষকের ফোন নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকা থেকে নয়জন কৃষককে ফোন দেওয়া হলে একজন জানান, তিনি সার পেয়েছেন। বাকি আটজনের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত জামিল বলেন, ‘এখানে যে সার আছে, তা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করছি। উপজেলা কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় আরও সার আনা হচ্ছে। সেগুলোও কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি সার বিতরণের রেজিস্টার পরীক্ষা করে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা দেখা হচ্ছে।’

অভিযুক্ত ডিলার শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি যে সার উত্তোলন করেছিলাম, তা বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণ করা সারের রেজিস্টার রয়েছে, চাইলে দেখতে পারেন। চাহিদার তুলনায় কম সার পাওয়া গেলে আমার কী করার আছে?’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে আমরা দ্রুত সেখানে কৃষি কর্মকর্তাদের পাঠিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হচ্ছে। সেখানে আরও সার পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর সকালে জেলার শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ বাজারে সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কৃষকরা। স্থানীয় কৃষকরা গাড়াগঞ্জ পুরাতন বাজারের সার ডিলার শুভ এন্টারপ্রাইজে সার নিতে গেলে ডিলার সার দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে কৃষকরা গাড়াগঞ্জ-শৈলকুপা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেন।

সম্প্রতি চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ার বিষয়টি সামনে এলেও জেলা কৃষি বিভাগ ও বাফার গোডাউন কর্তৃপক্ষের দাবি, জেলায় সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। প্রতিমাসের চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ করা সার ডিলাররা উত্তোলন করছেন। তবে কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার পয়েন্টে চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ বেশি দাম দিলে খোলা বাজারে সারের সংকট নেই।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘সারের কোনো ঘাটতি নেই। কিছু মানুষ কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরির চেষ্টা করছে।’


জনতার প্রেস

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ আরেফিন ইসলাম 
নির্বাহী সম্পাদক
আবুল কালাম আজাদ
বার্তা সম্পাদক
মুক্তা আক্তার

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস