জনতার প্রেস

মূল পাতা

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা অন্যের প্রেম কি আপনার সম্পর্কে ফাটল ধরাচ্ছে?

শাহীন
শাহীন
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা অন্যের প্রেম কি আপনার সম্পর্কে ফাটল ধরাচ্ছে?
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য যুগলের রোমান্টিক মুহূর্ত, দামি উপহার কিংবা চমকপ্রদ আয়োজন দেখে নিজের সম্পর্কের সঙ্গে তুলনা করার প্রবণতা বাড়ছে। অন্যের সম্পর্কের এসব দৃশ্য থেকে অনেকের মনে সঙ্গীর কাছ থেকে বাড়তি মনোযোগ, বিশেষ আয়োজন কিংবা সিনেমার মতো ভালোবাসা পাওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়। কিন্তু সেই প্রত্যাশা বাস্তবে পূরণ না হলে সম্পর্কে দেখা দিতে পারে হতাশা, অভিমান ও দ্বন্দ্ব।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সম্পর্কবিষয়ক রিলস ও পরামর্শ মানুষের প্রেম এবং ডেটিংয়ের ধারণাকে প্রভাবিত করছে। এসব ভিডিওতে সম্পর্কের জটিল সমস্যার সহজ সমাধান তুলে ধরা হলেও বাস্তব জীবনের প্রতিটি সম্পর্কের পরিস্থিতি এক নয়। ফলে অনলাইনে দেখা কোনো পরামর্শ নিজের সম্পর্কে প্রয়োগ করতে গিয়ে অনেকে ভুল বোঝাবুঝিতে জড়িয়ে পড়েন।

সম্প্রতি ভারতের ডেটিং অ্যাপ কোয়াককোয়াক-এর একটি জরিপে ২২ থেকে ৩৮ বছর বয়সি ১০ হাজারের বেশি মানুষের মতামত নেওয়া হয়। বড় শহর থেকে ছোট শহরের ডেটিংয়ে থাকা ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, সামাজিক মাধ্যমে সম্পর্কবিষয়ক কনটেন্ট দেখে অনেকে নিজেদের সম্পর্ককে নতুন করে মূল্যায়ন করেন। তবে অনলাইনে দেওয়া পরামর্শ সব যুগলের জন্য সমানভাবে কার্যকর হয় না।

ভাইরাল পরামর্শ কি সম্পর্কে প্রত্যাশা বাড়াচ্ছে?

সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই এমন বক্তব্য দেখা যায়, সঙ্গী সত্যিই ভালোবাসলে নিজে থেকেই সব বুঝে নেবেন কিংবা ভালোবাসার প্রমাণ দিতে বিশেষ আয়োজন করবেন। এ ধরনের কনটেন্ট দেখে কেউ কেউ নিজের সঙ্গীর কাছ থেকেও একই রকম আচরণ আশা করতে শুরু করেন। প্রত্যাশা পূরণ না হলে জন্ম নেয় অভিমান, যা কখনো কখনো বড় ধরনের বিরোধে রূপ নিতে পারে।

জরিপে ২৫ বছরের বেশি বয়সি ৪ হাজার ৬৯৪ জন অংশগ্রহণকারীর মতামত বিশ্লেষণ করা হয়। সেখানে অনেকে মনে করেন, সব সম্পর্কের জন্য একই নিয়ম নির্ধারণ করে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়।

যেমন, কর্মব্যস্ত দিনের পর কেউ একা কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে সেটিকে সবসময় সঙ্গীর প্রতি অনাগ্রহ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। জরিপে অংশ নেওয়া ৬০ শতাংশ পুরুষ এমন ধারণার সঙ্গে দ্বিমত জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ৩৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, বড় আয়োজন করে ডেটের ব্যবস্থা করতে না পারলেই কাউকে কম যত্নশীল ভাবা উচিত নয়।

ডেটিং অ্যাপ কোয়াককোয়াক-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী রবি মিত্তালের মতে, সম্পর্কে বাস্তব পরিস্থিতি ও পারস্পরিক বোঝাপড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া প্রতিটি পরামর্শ যাচাই না করে নিজের সম্পর্কে প্রয়োগ করা ঠিক নয়। সঙ্গীর ফোন না করাকে কখনো অবহেলা মনে হতে পারে, কিন্তু প্রতিটি পরিস্থিতিতে এর অর্থ একই নয়।

সম্পর্ক বোঝার ক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যমের ইতিবাচক দিকও আছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব যে পুরোপুরি নেতিবাচক, এমনটিও মনে করেন না অংশগ্রহণকারীরা। জরিপে ৪৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, সম্পর্কের ওপর সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। ত্রিশের কোঠায় থাকা নারীদের প্রায় ২৭ শতাংশের মতে, সম্পর্কবিষয়ক কনটেন্ট কখনো কখনো বিভিন্ন বিষয় নতুনভাবে বুঝতে সাহায্য করে।

এছাড়া জরিপে প্রতি ১০ জনে চারজন জানিয়েছেন, অন্যের সম্পর্কবিষয়ক পোস্ট বা ভিডিও থেকে তারা ব্যক্তিগত সীমারেখা এবং সম্পর্কে নিজেদের প্রয়োজন সম্পর্কে কিছু বিষয় শিখেছেন। অর্থাৎ, সঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারলে এসব কনটেন্ট সম্পর্কের কিছু দিক বুঝতে সহায়ক হতে পারে।

অন্যের সাজানো মুহূর্তের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের তুলনা

সামাজিক মাধ্যমে দেখা রোমান্টিক দৃশ্য অনেক সময় একটি সম্পর্কের নির্বাচিত কিছু মুহূর্ত মাত্র। নিখুঁত ছবি, বিশেষ আয়োজন কিংবা বারবার ধারণ করা ভিডিওর মাধ্যমে সম্পর্কের সুন্দর দিকগুলো তুলে ধরা হয়। ফলে দর্শকেরা বুঝতে পারলেও যে অনলাইনে একটি সম্পর্কের পুরো চিত্র দেখা যায় না, তবু অনেকেই নিজের জীবনের সঙ্গে সেসব দৃশ্যের তুলনা করেন।

জরিপে ৩ হাজার ৩৪৭ জন অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, তারা জানেন সামাজিক মাধ্যমে সম্পর্কের বাছাই করা মুহূর্তগুলোই বেশি প্রকাশ করা হয়। তারপরও সেগুলোর সঙ্গে নিজেদের সম্পর্কের তুলনা করার প্রবণতা তাদের মধ্যে রয়েছে।

জরিপে অংশ নেওয়া একাংশের মতে, সামাজিক মাধ্যমে জমকালো বিয়ের প্রস্তাব, দামি উপহার কিংবা স্বপ্নের মতো যুগল ছবির প্রচলন সাধারণ সম্পর্ককেও কখনো কখনো অপর্যাপ্ত বলে মনে করাতে পারে। অন্যের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া ইতিবাচক হলেও তা তুলনার কারণ হয়ে দাঁড়ালে নিজের সম্পর্কের ছোট ছোট ভালোবাসার প্রকাশগুলোও গুরুত্ব হারাতে পারে।

সুস্থ সম্পর্কের জন্য কী করা জরুরি?

অন্যের প্রেমের দৃশ্য দেখে সঙ্গীর কাছ থেকে একই ধরনের আচরণ আশা করার আগে নিজের চাহিদা ও প্রত্যাশা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। সম্পর্কে বেশি সময় কাটানো, নিয়মিত যোগাযোগ কিংবা মানসিক আশ্বাস—কোন বিষয়টি নিজের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তা সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা যেতে পারে।

মনে রাখা জরুরি, প্রতিটি মানুষের ভালোবাসা প্রকাশের ধরন আলাদা। কেউ উপহার দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করেন, কেউ সময় দিয়ে, আবার কেউ দায়িত্ব পালন ও পাশে থাকার মাধ্যমে যত্ন দেখান। তাই সামাজিক মাধ্যমে দেখা সম্পর্কের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের তুলনা না করে দুজনের চাহিদা, সীমারেখা ও বোঝাপড়াকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সবশেষে বলা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্পর্ক সম্পর্কে নতুন ধারণা দিতে পারে, আবার অবাস্তব প্রত্যাশাও তৈরি করতে পারে। অন্যের সম্পর্কের সাজানো মুহূর্তকে আদর্শ ধরে নেওয়ার পরিবর্তে নিজের সম্পর্কের বাস্তবতা বোঝা এবং পারস্পরিক সম্মান, যোগাযোগ ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়াই দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রেম

আপনার মতামত লিখুন

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা অন্যের প্রেম কি আপনার সম্পর্কে ফাটল ধরাচ্ছে?
0:00 0:00
1.0x
জনতার প্রেস

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬


সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা অন্যের প্রেম কি আপনার সম্পর্কে ফাটল ধরাচ্ছে?

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য যুগলের রোমান্টিক মুহূর্ত, দামি উপহার কিংবা চমকপ্রদ আয়োজন দেখে নিজের সম্পর্কের সঙ্গে তুলনা করার প্রবণতা বাড়ছে। অন্যের সম্পর্কের এসব দৃশ্য থেকে অনেকের মনে সঙ্গীর কাছ থেকে বাড়তি মনোযোগ, বিশেষ আয়োজন কিংবা সিনেমার মতো ভালোবাসা পাওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়। কিন্তু সেই প্রত্যাশা বাস্তবে পূরণ না হলে সম্পর্কে দেখা দিতে পারে হতাশা, অভিমান ও দ্বন্দ্ব।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সম্পর্কবিষয়ক রিলস ও পরামর্শ মানুষের প্রেম এবং ডেটিংয়ের ধারণাকে প্রভাবিত করছে। এসব ভিডিওতে সম্পর্কের জটিল সমস্যার সহজ সমাধান তুলে ধরা হলেও বাস্তব জীবনের প্রতিটি সম্পর্কের পরিস্থিতি এক নয়। ফলে অনলাইনে দেখা কোনো পরামর্শ নিজের সম্পর্কে প্রয়োগ করতে গিয়ে অনেকে ভুল বোঝাবুঝিতে জড়িয়ে পড়েন।

সম্প্রতি ভারতের ডেটিং অ্যাপ কোয়াককোয়াক-এর একটি জরিপে ২২ থেকে ৩৮ বছর বয়সি ১০ হাজারের বেশি মানুষের মতামত নেওয়া হয়। বড় শহর থেকে ছোট শহরের ডেটিংয়ে থাকা ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, সামাজিক মাধ্যমে সম্পর্কবিষয়ক কনটেন্ট দেখে অনেকে নিজেদের সম্পর্ককে নতুন করে মূল্যায়ন করেন। তবে অনলাইনে দেওয়া পরামর্শ সব যুগলের জন্য সমানভাবে কার্যকর হয় না।

ভাইরাল পরামর্শ কি সম্পর্কে প্রত্যাশা বাড়াচ্ছে?

সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই এমন বক্তব্য দেখা যায়, সঙ্গী সত্যিই ভালোবাসলে নিজে থেকেই সব বুঝে নেবেন কিংবা ভালোবাসার প্রমাণ দিতে বিশেষ আয়োজন করবেন। এ ধরনের কনটেন্ট দেখে কেউ কেউ নিজের সঙ্গীর কাছ থেকেও একই রকম আচরণ আশা করতে শুরু করেন। প্রত্যাশা পূরণ না হলে জন্ম নেয় অভিমান, যা কখনো কখনো বড় ধরনের বিরোধে রূপ নিতে পারে।

জরিপে ২৫ বছরের বেশি বয়সি ৪ হাজার ৬৯৪ জন অংশগ্রহণকারীর মতামত বিশ্লেষণ করা হয়। সেখানে অনেকে মনে করেন, সব সম্পর্কের জন্য একই নিয়ম নির্ধারণ করে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়।

যেমন, কর্মব্যস্ত দিনের পর কেউ একা কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে সেটিকে সবসময় সঙ্গীর প্রতি অনাগ্রহ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। জরিপে অংশ নেওয়া ৬০ শতাংশ পুরুষ এমন ধারণার সঙ্গে দ্বিমত জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ৩৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, বড় আয়োজন করে ডেটের ব্যবস্থা করতে না পারলেই কাউকে কম যত্নশীল ভাবা উচিত নয়।

ডেটিং অ্যাপ কোয়াককোয়াক-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী রবি মিত্তালের মতে, সম্পর্কে বাস্তব পরিস্থিতি ও পারস্পরিক বোঝাপড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া প্রতিটি পরামর্শ যাচাই না করে নিজের সম্পর্কে প্রয়োগ করা ঠিক নয়। সঙ্গীর ফোন না করাকে কখনো অবহেলা মনে হতে পারে, কিন্তু প্রতিটি পরিস্থিতিতে এর অর্থ একই নয়।

সম্পর্ক বোঝার ক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যমের ইতিবাচক দিকও আছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব যে পুরোপুরি নেতিবাচক, এমনটিও মনে করেন না অংশগ্রহণকারীরা। জরিপে ৪৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, সম্পর্কের ওপর সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। ত্রিশের কোঠায় থাকা নারীদের প্রায় ২৭ শতাংশের মতে, সম্পর্কবিষয়ক কনটেন্ট কখনো কখনো বিভিন্ন বিষয় নতুনভাবে বুঝতে সাহায্য করে।

এছাড়া জরিপে প্রতি ১০ জনে চারজন জানিয়েছেন, অন্যের সম্পর্কবিষয়ক পোস্ট বা ভিডিও থেকে তারা ব্যক্তিগত সীমারেখা এবং সম্পর্কে নিজেদের প্রয়োজন সম্পর্কে কিছু বিষয় শিখেছেন। অর্থাৎ, সঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারলে এসব কনটেন্ট সম্পর্কের কিছু দিক বুঝতে সহায়ক হতে পারে।

অন্যের সাজানো মুহূর্তের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের তুলনা

সামাজিক মাধ্যমে দেখা রোমান্টিক দৃশ্য অনেক সময় একটি সম্পর্কের নির্বাচিত কিছু মুহূর্ত মাত্র। নিখুঁত ছবি, বিশেষ আয়োজন কিংবা বারবার ধারণ করা ভিডিওর মাধ্যমে সম্পর্কের সুন্দর দিকগুলো তুলে ধরা হয়। ফলে দর্শকেরা বুঝতে পারলেও যে অনলাইনে একটি সম্পর্কের পুরো চিত্র দেখা যায় না, তবু অনেকেই নিজের জীবনের সঙ্গে সেসব দৃশ্যের তুলনা করেন।

জরিপে ৩ হাজার ৩৪৭ জন অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, তারা জানেন সামাজিক মাধ্যমে সম্পর্কের বাছাই করা মুহূর্তগুলোই বেশি প্রকাশ করা হয়। তারপরও সেগুলোর সঙ্গে নিজেদের সম্পর্কের তুলনা করার প্রবণতা তাদের মধ্যে রয়েছে।

জরিপে অংশ নেওয়া একাংশের মতে, সামাজিক মাধ্যমে জমকালো বিয়ের প্রস্তাব, দামি উপহার কিংবা স্বপ্নের মতো যুগল ছবির প্রচলন সাধারণ সম্পর্ককেও কখনো কখনো অপর্যাপ্ত বলে মনে করাতে পারে। অন্যের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া ইতিবাচক হলেও তা তুলনার কারণ হয়ে দাঁড়ালে নিজের সম্পর্কের ছোট ছোট ভালোবাসার প্রকাশগুলোও গুরুত্ব হারাতে পারে।

সুস্থ সম্পর্কের জন্য কী করা জরুরি?

অন্যের প্রেমের দৃশ্য দেখে সঙ্গীর কাছ থেকে একই ধরনের আচরণ আশা করার আগে নিজের চাহিদা ও প্রত্যাশা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। সম্পর্কে বেশি সময় কাটানো, নিয়মিত যোগাযোগ কিংবা মানসিক আশ্বাস—কোন বিষয়টি নিজের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তা সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা যেতে পারে।

মনে রাখা জরুরি, প্রতিটি মানুষের ভালোবাসা প্রকাশের ধরন আলাদা। কেউ উপহার দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করেন, কেউ সময় দিয়ে, আবার কেউ দায়িত্ব পালন ও পাশে থাকার মাধ্যমে যত্ন দেখান। তাই সামাজিক মাধ্যমে দেখা সম্পর্কের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের তুলনা না করে দুজনের চাহিদা, সীমারেখা ও বোঝাপড়াকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সবশেষে বলা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্পর্ক সম্পর্কে নতুন ধারণা দিতে পারে, আবার অবাস্তব প্রত্যাশাও তৈরি করতে পারে। অন্যের সম্পর্কের সাজানো মুহূর্তকে আদর্শ ধরে নেওয়ার পরিবর্তে নিজের সম্পর্কের বাস্তবতা বোঝা এবং পারস্পরিক সম্মান, যোগাযোগ ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়াই দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


জনতার প্রেস

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ আরেফিন ইসলাম 
নির্বাহী সম্পাদক
আবুল কালাম আজাদ
বার্তা সম্পাদক
মুক্তা আক্তার

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস