জনতার প্রেস

মূল পাতা

সারাদেশ

বমি, তীব্র পেটব্যথা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত; খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি

আলমডাঙ্গায় বিরিয়ানি খেয়ে তিন পরিবারের ৯ জন হাসপাতালে

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আলমডাঙ্গায় বিরিয়ানি খেয়ে তিন পরিবারের ৯ জন হাসপাতালে
শিশুসহ হাসপাতালে ভর্তি অন্যরা।জনতার প্রেস

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় একটি খাবারের দোকান থেকে বিরিয়ানি কিনে খাওয়ার পর তিন পরিবারের ৯ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আলমডাঙ্গা পৌর শহরের হাইরোডে অবস্থিত হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে বিরিয়ানি খাওয়ার পরই তাঁদের বমি, তীব্র পেটব্যথা ও ডায়রিয়া শুরু হয়।

জানা গেছে, গত সোমবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ভুক্তভোগীরা হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা ওই খাবার খাওয়ার পর রাতে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত মঙ্গলবার সকালে তাঁদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাঁরা হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।

অসুস্থদের মধ্যে রয়েছেন আলমডাঙ্গার নাগদাহ ইউনিয়নের জোড়গাছা গ্রামের ফারুক হোসেনের স্ত্রী মরিয়ম খাতুন (২৭), তাঁদের দুই সন্তান তাওহিদ (২) ও তাওসিফ (৮); জেহালা ইউনিয়নের রোয়াকুলি গ্রামের জিনারুল ইসলাম (৪৬), তাঁর স্ত্রী পান্না খাতুন (৪২) ও ছেলে সাহেদ (১৩)। এছাড়া সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের জাহিদ হোসেন, তাঁর স্ত্রী ও ভাগনিও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

ফারুক হোসেন বলেন, ‘অফিস শেষে আলমডাঙ্গার হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে নিয়ে যাই। আমার স্ত্রী ও দুই সন্তান ওই খাবার খাওয়ার পর রাত ১২টার পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিরিয়ানি খাওয়া ব্যক্তিরাই শুধু অসুস্থ হয়েছেন। খাবারে কোনো সমস্যা ছিল কি না, সেটি খতিয়ে দেখা দরকার।’

আরেক ভুক্তভোগী জাহিদ হোসেন বলেন, তিনি হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে বিরিয়ানি কিনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খেয়েছিলেন। এরপর তাঁর পরিবারের সদস্যরাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। একই প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা খাবার খেয়ে একাধিক ব্যক্তি অসুস্থ হওয়ায় বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের দাবি জানান তিনি।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। খাবারের মান, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। একই প্রতিষ্ঠান থেকে খাবার খেয়ে একাধিক ব্যক্তি অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফারহানা ওয়াহিদ বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা থেকে শিশুসহ ৯ জন বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীদের ভাষ্য, বিরিয়ানি খাওয়ার পরই তাঁদের অসুস্থতা শুরু হয়।’

তবে বিরিয়ানি খাওয়ার কারণেই অসুস্থতার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও খাবারের নমুনা পরীক্ষা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আপনার মতামত লিখুন

আলমডাঙ্গায় বিরিয়ানি খেয়ে তিন পরিবারের ৯ জন হাসপাতালে
0:00 0:00
1.0x
জনতার প্রেস

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


আলমডাঙ্গায় বিরিয়ানি খেয়ে তিন পরিবারের ৯ জন হাসপাতালে

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় একটি খাবারের দোকান থেকে বিরিয়ানি কিনে খাওয়ার পর তিন পরিবারের ৯ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আলমডাঙ্গা পৌর শহরের হাইরোডে অবস্থিত হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে বিরিয়ানি খাওয়ার পরই তাঁদের বমি, তীব্র পেটব্যথা ও ডায়রিয়া শুরু হয়।

জানা গেছে, গত সোমবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ভুক্তভোগীরা হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা ওই খাবার খাওয়ার পর রাতে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত মঙ্গলবার সকালে তাঁদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাঁরা হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।

অসুস্থদের মধ্যে রয়েছেন আলমডাঙ্গার নাগদাহ ইউনিয়নের জোড়গাছা গ্রামের ফারুক হোসেনের স্ত্রী মরিয়ম খাতুন (২৭), তাঁদের দুই সন্তান তাওহিদ (২) ও তাওসিফ (৮); জেহালা ইউনিয়নের রোয়াকুলি গ্রামের জিনারুল ইসলাম (৪৬), তাঁর স্ত্রী পান্না খাতুন (৪২) ও ছেলে সাহেদ (১৩)। এছাড়া সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের জাহিদ হোসেন, তাঁর স্ত্রী ও ভাগনিও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

ফারুক হোসেন বলেন, ‘অফিস শেষে আলমডাঙ্গার হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে নিয়ে যাই। আমার স্ত্রী ও দুই সন্তান ওই খাবার খাওয়ার পর রাত ১২টার পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিরিয়ানি খাওয়া ব্যক্তিরাই শুধু অসুস্থ হয়েছেন। খাবারে কোনো সমস্যা ছিল কি না, সেটি খতিয়ে দেখা দরকার।’

আরেক ভুক্তভোগী জাহিদ হোসেন বলেন, তিনি হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে বিরিয়ানি কিনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খেয়েছিলেন। এরপর তাঁর পরিবারের সদস্যরাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। একই প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা খাবার খেয়ে একাধিক ব্যক্তি অসুস্থ হওয়ায় বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের দাবি জানান তিনি।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। খাবারের মান, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। একই প্রতিষ্ঠান থেকে খাবার খেয়ে একাধিক ব্যক্তি অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফারহানা ওয়াহিদ বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা থেকে শিশুসহ ৯ জন বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীদের ভাষ্য, বিরিয়ানি খাওয়ার পরই তাঁদের অসুস্থতা শুরু হয়।’

তবে বিরিয়ানি খাওয়ার কারণেই অসুস্থতার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও খাবারের নমুনা পরীক্ষা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


জনতার প্রেস

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ আরেফিন ইসলাম 
নির্বাহী সম্পাদক
আবুল কালাম আজাদ
বার্তা সম্পাদক
মুক্তা আক্তার

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস