টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পিকআপভর্তি মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলার সময় আটকের ঘটনায় ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নইম মোহাম্মদ সোহেলকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পার-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন যুগ্মসচিব সাইফুল ইসলাম।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। বদলি ও পদায়ন করা কর্মকর্তাকে তিন দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে ওই সময় শেষে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন তিনি।
এর আগে গত বুধবার (২৬ আগস্ট) মধ্যরাতে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি পিকআপে করে সরকারি ওষুধ ভূঞাপুরের যমুনা নদীতে ফেলার সময় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে। পরে স্থানীয়রা পিকআপচালককে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওষুধসহ পিকআপটি থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নইম মোহাম্মদ সোহেল বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
তবে মামলায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তিদের আড়াল করে শুধু পিকআপচালক আজমতের বিরুদ্ধে চুরির মামলা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠে। পরে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে আজমতকে কারাগারে পাঠানো হয়।
চালকের বিরুদ্ধে মামলা হলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। শুক্রবার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের ঘাটাইল খাদ্যগুদামের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সরকারি ওষুধ যমুনায় ফেলার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঘাটাইল থানা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘেরাও এবং সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা।
উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। মিছিলটি প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে বিক্ষোভকারীরা টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কলেজ মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন তারা।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে ওএসডি করার সিদ্ধান্তে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, সরকারি ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলার ঘটনায় শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যথেষ্ট নয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ঘটনায় আরও যারা জড়িত রয়েছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে পরিচয় প্রকাশ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
জনতার প্রেস/টাঙ্গাইল

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পিকআপভর্তি মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলার সময় আটকের ঘটনায় ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নইম মোহাম্মদ সোহেলকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পার-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন যুগ্মসচিব সাইফুল ইসলাম।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। বদলি ও পদায়ন করা কর্মকর্তাকে তিন দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে ওই সময় শেষে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন তিনি।
এর আগে গত বুধবার (২৬ আগস্ট) মধ্যরাতে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি পিকআপে করে সরকারি ওষুধ ভূঞাপুরের যমুনা নদীতে ফেলার সময় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে। পরে স্থানীয়রা পিকআপচালককে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওষুধসহ পিকআপটি থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নইম মোহাম্মদ সোহেল বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
তবে মামলায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তিদের আড়াল করে শুধু পিকআপচালক আজমতের বিরুদ্ধে চুরির মামলা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠে। পরে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে আজমতকে কারাগারে পাঠানো হয়।
চালকের বিরুদ্ধে মামলা হলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। শুক্রবার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের ঘাটাইল খাদ্যগুদামের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সরকারি ওষুধ যমুনায় ফেলার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঘাটাইল থানা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘেরাও এবং সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা।
উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। মিছিলটি প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে বিক্ষোভকারীরা টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কলেজ মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন তারা।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে ওএসডি করার সিদ্ধান্তে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, সরকারি ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলার ঘটনায় শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যথেষ্ট নয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ঘটনায় আরও যারা জড়িত রয়েছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে পরিচয় প্রকাশ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
জনতার প্রেস/টাঙ্গাইল

আপনার মতামত লিখুন