কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | জনতার প্রেস
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন শাহর আখড়াবাড়ির দানবাক্সে পাওয়া গেছে ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৮ টাকা। শনিবার (১০ অক্টোবর) জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্স খুলে এ অর্থ গণনা করা হয়। এর আগে বছরে চারবার দানবাক্স খোলা হলেও তা গণমাধ্যম ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে করা হতো না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দানবাক্সের তালা খুলে টাকা বের করা হয়। পরে লালন একাডেমির একটি কক্ষে শুরু হয় গণনার কাজ, যা চলে বেলা ২টা পর্যন্ত। গণনা শেষে পাওয়া অর্থ আগামীকাল লালন একাডেমির ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নাভিদ সারওয়ার বলেন, ফকির লালন শাহর দুটি প্রধান উৎসবকে কেন্দ্র করে বছরে চারবার আখড়াবাড়ির দানবাক্স খোলা হয়। এর ধারাবাহিকতায় আগামী ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ১৩৬তম তিরোধান দিবসের আগে শনিবার দানবাক্স খোলা হয়। এতে ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৮ টাকা পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, গত বছর ১৩৫তম তিরোধান দিবসের আগে দানবাক্স খুলে ৪ লাখ ৯২ হাজার ২৬৪ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। তিরোধান দিবসের তিন দিন পর আবার দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৯ লাখ ২২ হাজার ২৪২ টাকা। এবারের তিরোধান দিবসের পরও প্রকাশ্যে দানবাক্স খুলে অর্থ গণনা করা হবে।
লালন আখড়াবাড়ির দানবাক্স প্রকাশ্যে খোলা ও অর্থ গণনার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। তাঁদের প্রত্যাশা, দানের অর্থ যথাযথ আর্থিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে লালন একাডেমির উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।
লালন একাডেমির কর্মচারী টগর আলী বলেন, উৎসবের আগে ও পরে বছরে চারবার দানবাক্স খোলা হয়। তিনি গণনার কাজে সহযোগিতা করেন। তবে এবারই প্রথম সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে দানবাক্সের টাকা গণনা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক দর্শনার্থী বলেন, এবারই প্রথম ফকির লালন শাহর আখড়াবাড়ির দানবাক্স প্রকাশ্যে খোলা ও টাকা গণনা করা হয়েছে। দানের এই অর্থ সঠিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যবহার করা হোক—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাকির হোসেন বলেন, এবারই প্রথম লালন একাডেমির সিন্দুক প্রকাশ্যে খুলে অর্থ গণনা করা হয়েছে। গণনা করা টাকা লালন একাডেমির তহবিলে জমা হবে।
ফকির লালন শাহর তিরোধান দিবস ও দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় আখড়াবাড়িতে সরকারি ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন আয়োজন করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক বাউল, সাধু, ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।
এ ছাড়া সারা বছরই লালনভক্ত ও অনুরাগীরা আখড়াবাড়ি পরিদর্শনে আসেন। তাঁদের অনেকে আখড়াবাড়ির ভেতরে রাখা দানবাক্সে অর্থ দান করেন। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে সংগৃহীত অর্থের হিসাব প্রকাশ্যে গণনার উদ্যোগকে তাই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | জনতার প্রেস
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন শাহর আখড়াবাড়ির দানবাক্সে পাওয়া গেছে ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৮ টাকা। শনিবার (১০ অক্টোবর) জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্স খুলে এ অর্থ গণনা করা হয়। এর আগে বছরে চারবার দানবাক্স খোলা হলেও তা গণমাধ্যম ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে করা হতো না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দানবাক্সের তালা খুলে টাকা বের করা হয়। পরে লালন একাডেমির একটি কক্ষে শুরু হয় গণনার কাজ, যা চলে বেলা ২টা পর্যন্ত। গণনা শেষে পাওয়া অর্থ আগামীকাল লালন একাডেমির ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নাভিদ সারওয়ার বলেন, ফকির লালন শাহর দুটি প্রধান উৎসবকে কেন্দ্র করে বছরে চারবার আখড়াবাড়ির দানবাক্স খোলা হয়। এর ধারাবাহিকতায় আগামী ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ১৩৬তম তিরোধান দিবসের আগে শনিবার দানবাক্স খোলা হয়। এতে ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৮ টাকা পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, গত বছর ১৩৫তম তিরোধান দিবসের আগে দানবাক্স খুলে ৪ লাখ ৯২ হাজার ২৬৪ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। তিরোধান দিবসের তিন দিন পর আবার দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৯ লাখ ২২ হাজার ২৪২ টাকা। এবারের তিরোধান দিবসের পরও প্রকাশ্যে দানবাক্স খুলে অর্থ গণনা করা হবে।
লালন আখড়াবাড়ির দানবাক্স প্রকাশ্যে খোলা ও অর্থ গণনার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। তাঁদের প্রত্যাশা, দানের অর্থ যথাযথ আর্থিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে লালন একাডেমির উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।
লালন একাডেমির কর্মচারী টগর আলী বলেন, উৎসবের আগে ও পরে বছরে চারবার দানবাক্স খোলা হয়। তিনি গণনার কাজে সহযোগিতা করেন। তবে এবারই প্রথম সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে দানবাক্সের টাকা গণনা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক দর্শনার্থী বলেন, এবারই প্রথম ফকির লালন শাহর আখড়াবাড়ির দানবাক্স প্রকাশ্যে খোলা ও টাকা গণনা করা হয়েছে। দানের এই অর্থ সঠিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যবহার করা হোক—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাকির হোসেন বলেন, এবারই প্রথম লালন একাডেমির সিন্দুক প্রকাশ্যে খুলে অর্থ গণনা করা হয়েছে। গণনা করা টাকা লালন একাডেমির তহবিলে জমা হবে।
ফকির লালন শাহর তিরোধান দিবস ও দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় আখড়াবাড়িতে সরকারি ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন আয়োজন করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক বাউল, সাধু, ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।
এ ছাড়া সারা বছরই লালনভক্ত ও অনুরাগীরা আখড়াবাড়ি পরিদর্শনে আসেন। তাঁদের অনেকে আখড়াবাড়ির ভেতরে রাখা দানবাক্সে অর্থ দান করেন। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে সংগৃহীত অর্থের হিসাব প্রকাশ্যে গণনার উদ্যোগকে তাই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন