জনতার প্রেস

মূল পাতা

সারাদেশ

অব্যবহৃত ঝুড়ি, বালতি ও মগে শোভা পাচ্ছে নানা প্রজাতির গাছ; ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখতে ময়মনসিংহে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু

চার তরুণের উদ্যোগে বদলে গেল বাঁশবাড়ি কলোনি, দেয়ালে দেয়ালে ফুলের বাগান

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
চার তরুণের উদ্যোগে বদলে গেল বাঁশবাড়ি কলোনি, দেয়ালে দেয়ালে ফুলের বাগান
ময়মনসিংহ নগরের বাঁশবাড়ি কলোনি ঘুরে দেখে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। ৯ অক্টোবর ২০২৬ছবি: জনতার প্রেস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

একসময় যেখানে ছিল আবর্জনার দুর্গন্ধ, সেখানে এখন ছড়াচ্ছে ফুলের সুবাস। দেয়ালে দেয়ালে ঝুলছে নানা প্রজাতির ফুল ও পাতাবাহারের গাছ। অব্যবহৃত ঝুড়ি, বালতি ও মগকে টব হিসেবে ব্যবহার করে গড়ে তোলা হয়েছে ব্যতিক্রমী দেয়ালবাগান। চার তরুণের উদ্যোগে বদলে যাওয়া ময়মনসিংহ নগরের বাঁশবাড়ি কলোনি এখন পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পরিবেশের অনন্য উদাহরণ।

এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখতে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে নগরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশবাড়ি কলোনি পরিদর্শন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং দেশের অন্যান্য শহরেও এ ধরনের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের পরিবেশমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বাঁশবাড়ি কলোনির একটি ছবি পাঠিয়েছিলেন। ছোট একটি সড়ককে এলাকার মানুষ যেভাবে সুন্দর করে তুলেছেন, তা দেখে তিনি অভিভূত হয়েছেন। মানুষের বসবাসের জায়গাগুলো পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সেখানে গাছ লাগানোর মাধ্যমে পরিবেশের উন্নয়ন ঘটানো প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় মানুষের মধ্যে এ ধরনের উদ্যোগের প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে হবে। দেশের অন্যান্য শহরেও এ মডেল চালু করা যায় কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বিভিন্ন এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হলে তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, সরকার পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর কথা বললেও এ লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছর সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় কোটি গাছ লাগানোর আশা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগী ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধক গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ ও মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

চার তরুণের উদ্যোগে বদলে যায় কলোনির পরিবেশ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে বাঁশবাড়ি কলোনির ভাঙাচোরা সড়ক ও নালা সংস্কার করে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। সংস্কার করা সড়ক ও উন্নত পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে এলাকার পরিবেশ বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন চার তরুণ—মুরাদ হাসান কানন, মেহেদী হাসান মুহিত, সাইফুল ইসলাম ও উত্তম সরকার।

তাঁরা এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠক করে দেয়ালে বাগান গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বাসিন্দারাও তাঁদের উদ্যোগে সমর্থন দেন। এরপর মাত্র তিন মাসের মধ্যে কলোনির প্রায় ৮০০ ফুট সড়কের দুই পাশের দেয়ালে গড়ে তোলা হয় ব্যতিক্রমী এই বাগান।

অব্যবহৃত ঝুড়ি, বালতি ও মগকে টব হিসেবে ব্যবহার করে দেয়ালে লাগানো হয় বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও পাতাবাহার। কোথাও অর্কিড, কোথাও সুগন্ধি ফুলের গাছ। রাতে হাসনাহেনার সুবাসে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। গাছের ফাঁকে ফাঁকে লাগানো কাগজে লেখা রয়েছে—‘এ গাছগুলো বিক্রির জন্য নহে’।

ফেলে দেওয়ার মতো উপকরণ পুনর্ব্যবহার করে গড়ে তোলা এই দেয়ালবাগান একদিকে যেমন কলোনির সৌন্দর্য বাড়িয়েছে, অন্যদিকে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সবুজায়নের আগ্রহও তৈরি করেছে।

মন্ত্রীর পরিদর্শনে অনুপ্রাণিত উদ্যোক্তারা

চার তরুণের অন্যতম উদ্যোক্তা মুরাদ হাসান বলেন, ‘আমাদের ছোট একটি উদ্যোগ এলাকার পরিবেশ বদলে দিয়েছে। আজ মন্ত্রী এসে ঘুরে দেখলেন। এটি আমাদের জন্য আরও অনেক বেশি প্রেরণার।’

স্থানীয় পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগ, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণের ব্যবহার এবং গাছ লাগানোর মাধ্যমে কীভাবে একটি এলাকার পরিবেশ ও সৌন্দর্য বদলে দেওয়া যায়, বাঁশবাড়ি কলোনি তারই উদাহরণ হয়ে উঠেছে। উদ্যোক্তাদের আশা, তাঁদের এই উদ্যোগ দেখে দেশের অন্যান্য এলাকার মানুষও নিজেদের বসবাসের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও সবুজ করে তুলতে উৎসাহিত হবেন।

ময়মনসিংহ, বাঁশবাড়ি কলোনি, আবদুল আউয়াল মিন্টু পরিবেশমন্ত্রী, দেয়ালবাগান চার তরুণের উদ্যোগ

আপনার মতামত লিখুন

চার তরুণের উদ্যোগে বদলে গেল বাঁশবাড়ি কলোনি, দেয়ালে দেয়ালে ফুলের বাগান
0:00 0:00
1.0x
জনতার প্রেস

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


চার তরুণের উদ্যোগে বদলে গেল বাঁশবাড়ি কলোনি, দেয়ালে দেয়ালে ফুলের বাগান

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

একসময় যেখানে ছিল আবর্জনার দুর্গন্ধ, সেখানে এখন ছড়াচ্ছে ফুলের সুবাস। দেয়ালে দেয়ালে ঝুলছে নানা প্রজাতির ফুল ও পাতাবাহারের গাছ। অব্যবহৃত ঝুড়ি, বালতি ও মগকে টব হিসেবে ব্যবহার করে গড়ে তোলা হয়েছে ব্যতিক্রমী দেয়ালবাগান। চার তরুণের উদ্যোগে বদলে যাওয়া ময়মনসিংহ নগরের বাঁশবাড়ি কলোনি এখন পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পরিবেশের অনন্য উদাহরণ।

এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখতে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে নগরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশবাড়ি কলোনি পরিদর্শন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং দেশের অন্যান্য শহরেও এ ধরনের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের পরিবেশমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বাঁশবাড়ি কলোনির একটি ছবি পাঠিয়েছিলেন। ছোট একটি সড়ককে এলাকার মানুষ যেভাবে সুন্দর করে তুলেছেন, তা দেখে তিনি অভিভূত হয়েছেন। মানুষের বসবাসের জায়গাগুলো পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সেখানে গাছ লাগানোর মাধ্যমে পরিবেশের উন্নয়ন ঘটানো প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় মানুষের মধ্যে এ ধরনের উদ্যোগের প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে হবে। দেশের অন্যান্য শহরেও এ মডেল চালু করা যায় কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বিভিন্ন এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হলে তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, সরকার পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর কথা বললেও এ লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছর সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় কোটি গাছ লাগানোর আশা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগী ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধক গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ ও মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

চার তরুণের উদ্যোগে বদলে যায় কলোনির পরিবেশ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে বাঁশবাড়ি কলোনির ভাঙাচোরা সড়ক ও নালা সংস্কার করে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। সংস্কার করা সড়ক ও উন্নত পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে এলাকার পরিবেশ বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন চার তরুণ—মুরাদ হাসান কানন, মেহেদী হাসান মুহিত, সাইফুল ইসলাম ও উত্তম সরকার।

তাঁরা এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠক করে দেয়ালে বাগান গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বাসিন্দারাও তাঁদের উদ্যোগে সমর্থন দেন। এরপর মাত্র তিন মাসের মধ্যে কলোনির প্রায় ৮০০ ফুট সড়কের দুই পাশের দেয়ালে গড়ে তোলা হয় ব্যতিক্রমী এই বাগান।

অব্যবহৃত ঝুড়ি, বালতি ও মগকে টব হিসেবে ব্যবহার করে দেয়ালে লাগানো হয় বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও পাতাবাহার। কোথাও অর্কিড, কোথাও সুগন্ধি ফুলের গাছ। রাতে হাসনাহেনার সুবাসে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। গাছের ফাঁকে ফাঁকে লাগানো কাগজে লেখা রয়েছে—‘এ গাছগুলো বিক্রির জন্য নহে’।

ফেলে দেওয়ার মতো উপকরণ পুনর্ব্যবহার করে গড়ে তোলা এই দেয়ালবাগান একদিকে যেমন কলোনির সৌন্দর্য বাড়িয়েছে, অন্যদিকে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সবুজায়নের আগ্রহও তৈরি করেছে।

মন্ত্রীর পরিদর্শনে অনুপ্রাণিত উদ্যোক্তারা

চার তরুণের অন্যতম উদ্যোক্তা মুরাদ হাসান বলেন, ‘আমাদের ছোট একটি উদ্যোগ এলাকার পরিবেশ বদলে দিয়েছে। আজ মন্ত্রী এসে ঘুরে দেখলেন। এটি আমাদের জন্য আরও অনেক বেশি প্রেরণার।’

স্থানীয় পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগ, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণের ব্যবহার এবং গাছ লাগানোর মাধ্যমে কীভাবে একটি এলাকার পরিবেশ ও সৌন্দর্য বদলে দেওয়া যায়, বাঁশবাড়ি কলোনি তারই উদাহরণ হয়ে উঠেছে। উদ্যোক্তাদের আশা, তাঁদের এই উদ্যোগ দেখে দেশের অন্যান্য এলাকার মানুষও নিজেদের বসবাসের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও সবুজ করে তুলতে উৎসাহিত হবেন।


জনতার প্রেস

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ আরেফিন ইসলাম 
নির্বাহী সম্পাদক
আবুল কালাম আজাদ
বার্তা সম্পাদক
মুক্তা আক্তার

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস