জনতার প্রেস প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির (বার) আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। সভাপতি পদে প্রার্থিতা নিয়ে সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আনোয়ার প্রধানের অনুসারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র মতবিরোধ। এরই মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।
আইনজীবী অঙ্গনে সাখাওয়াত হোসেন খান ও আনোয়ার প্রধানকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও পেশাগত সহকর্মী হিসেবে দেখা হলেও বর্তমানে তাঁরা অনেকটাই মুখোমুখি অবস্থানে। আইনজীবীদের মধ্যে তাঁদের সম্পর্ক ‘গুরু-শিষ্য’ হিসেবেও পরিচিত।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনে সভাপতি পদে আনোয়ার প্রধানের প্রার্থিতা নিয়ে মূল বিরোধের সূত্রপাত। আনোয়ার প্রধান এর আগে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সমর্থনে দুবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। এবার তিনি সভাপতি পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী। অন্যদিকে সাখাওয়াত হোসেন খান ও তাঁর অনুসারীরা সভাপতি পদে আইনজীবী জাকির হোসেনকে প্রার্থী করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
তবে এখনো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি। কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে প্যানেল ঘোষণা করেনি। প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়টি আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে। এর মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
হাতাহাতিতে উত্তেজনা প্রকাশ্যে
এই বিরোধের মধ্যেই গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আইনজীবী লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গতকাল বুধবার রাত ৯টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা করেনি।
বারের সভাপতি সরকার হুমায়ুন কবির বলেন, সাখাওয়াত হোসেন তাঁদের আমন্ত্রণে বারে এসেছিলেন। সেখানে আদালত স্থানান্তর নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে সাখাওয়াত হোসেনকে উদ্দেশ করে অশোভন মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। তাঁর দাবি, আগামী নির্বাচনে আনোয়ার প্রধানকে সভাপতি পদে প্রার্থী করা হবে না—এটি বুঝতে পেরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়।
তবে সাখাওয়াত হোসেনের অভিযোগ, তাঁকে উদ্দেশ করে অশোভন ও অশ্লীল মন্তব্য করা হয়। এর প্রতিবাদ করলে তাঁকে হেনস্তা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, আনোয়ার প্রধান ও পিপি আবুল কালাম আজাদের অনুসারীরা উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছেন।
অন্যদিকে পিপি আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করেন, সাখাওয়াত হোসেনের অনুসারীরা তাঁদের ওপর হামলা করেছেন। এতে তিনি আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন।
পিপি নিয়োগ নিয়েও বিরোধ
দুই পক্ষের বিরোধের আরেকটি কারণ হিসেবে উঠে এসেছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিয়োগের বিষয়টি।
গত ২৫ আগস্ট আইনজীবী সুমন মিয়াকে ওই ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি নিয়োগ দেয় সরকার। তবে তাঁকে নির্ধারিত চেম্বারে বসতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
সুমন মিয়া বলেন, পিপি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পরও আইনজীবীদের একটি অংশের বিরোধিতার কারণে তিনি নির্ধারিত চেম্বারে বসতে পারছেন না।
তবে আনোয়ার প্রধানের বক্তব্য, সুমন মিয়া আইনজীবী সমিতির সদস্য নন। তাঁকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়ায় আইনজীবীদের আপত্তি রয়েছে। বারের সদস্যদের মধ্য থেকে ওই পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার দাবি তাঁদের।
অন্যদিকে সাখাওয়াত হোসেনের পক্ষের বক্তব্য, সরকার যাঁকে পিপি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে, তাঁকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া উচিত।
আদালত স্থানান্তর নিয়েও মতবিরোধ
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (বিদ্যুৎ ও শ্রম আদালত) কার্যক্রম কোথায় পরিচালিত হবে, তা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
আনোয়ার প্রধানের অনুসারী আইনজীবীদের একটি অংশ শহরের চানমারী এলাকা থেকে আদালত স্থানান্তরের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আইনজীবীদের মতে, আদালত স্থানান্তরের সঙ্গে তাঁদের চেম্বার, মামলা পরিচালনা, মক্কেলের যাতায়াত ও পেশাগত সুবিধার বিষয় জড়িত। ফলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত বারের রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলে।
‘বারকে কুক্ষিগত করে রাখতে চান’—আনোয়ার
আনোয়ার প্রধান বলেন, তাঁদের রাজনৈতিক মতাদর্শ একই হলেও সাখাওয়াত হোসেনের অনুসারীরা বারকে কুক্ষিগত করে রাখতে চান।
সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে তাঁর বিরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, একসময় তাঁদের মধ্যে গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসকের দায়িত্ব পাওয়ার পর সাখাওয়াত হোসেন তাঁদের আর প্রয়োজন মনে করছেন না। একই সঙ্গে বারের সদস্য নন—এমন একজনকে পিপি নিয়োগ দেওয়ার বিষয়েও তাঁর আপত্তি রয়েছে।
‘দুইবার দায়িত্ব পালন করেছেন, এবার অন্যদের সুযোগ’—সাখাওয়াত
সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আনোয়ার প্রধান ইতিমধ্যে দুবার সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। এবার সভাপতি পদে জাকির হোসেনকে তাঁরা চান।
তিনি আরও বলেন, এর আগে তাঁদের মধ্যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল—যাঁরা দুই মেয়াদে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁরা একই পদে আর নির্বাচন করবেন না। এরপরও আনোয়ার প্রধান সভাপতি পদে প্রার্থী হতে চাইছেন বলে তাঁর দাবি।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আইন পেশায় দীর্ঘদিন আমার শিষ্য ছিলেন আনোয়ার প্রধান। এবার সভাপতি পদে তাঁকে প্রার্থী না করার সিদ্ধান্ত মানতে না পেরে মঙ্গলবারের ঘটনা ঘটেছে।’
গুরু-শিষ্যের দ্বন্দ্বে বিব্রত আইনজীবীরা
সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। অন্যদিকে আনোয়ার প্রধান নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
সাত খুন মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দেশব্যাপী পরিচিতি পান সাখাওয়াত হোসেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। ২০১৬ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হিসেবেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি।
অন্যদিকে আনোয়ার প্রধান জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সমর্থনে পরপর দুইবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের দুই পক্ষের এই বিরোধে সাধারণ আইনজীবীদের অনেকেই বিব্রত। তাঁদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক বিভাজনের প্রভাব পেশাগত পরিবেশেও পড়তে পারে।
গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সভাপতি আইনজীবী আওলাদ হোসেন বলেন, আইনজীবীরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়া বা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই পক্ষের এই বিরোধ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
জনতার প্রেস প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির (বার) আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। সভাপতি পদে প্রার্থিতা নিয়ে সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আনোয়ার প্রধানের অনুসারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র মতবিরোধ। এরই মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।
আইনজীবী অঙ্গনে সাখাওয়াত হোসেন খান ও আনোয়ার প্রধানকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও পেশাগত সহকর্মী হিসেবে দেখা হলেও বর্তমানে তাঁরা অনেকটাই মুখোমুখি অবস্থানে। আইনজীবীদের মধ্যে তাঁদের সম্পর্ক ‘গুরু-শিষ্য’ হিসেবেও পরিচিত।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনে সভাপতি পদে আনোয়ার প্রধানের প্রার্থিতা নিয়ে মূল বিরোধের সূত্রপাত। আনোয়ার প্রধান এর আগে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সমর্থনে দুবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। এবার তিনি সভাপতি পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী। অন্যদিকে সাখাওয়াত হোসেন খান ও তাঁর অনুসারীরা সভাপতি পদে আইনজীবী জাকির হোসেনকে প্রার্থী করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
তবে এখনো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি। কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে প্যানেল ঘোষণা করেনি। প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়টি আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে। এর মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
হাতাহাতিতে উত্তেজনা প্রকাশ্যে
এই বিরোধের মধ্যেই গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আইনজীবী লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গতকাল বুধবার রাত ৯টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা করেনি।
বারের সভাপতি সরকার হুমায়ুন কবির বলেন, সাখাওয়াত হোসেন তাঁদের আমন্ত্রণে বারে এসেছিলেন। সেখানে আদালত স্থানান্তর নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে সাখাওয়াত হোসেনকে উদ্দেশ করে অশোভন মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। তাঁর দাবি, আগামী নির্বাচনে আনোয়ার প্রধানকে সভাপতি পদে প্রার্থী করা হবে না—এটি বুঝতে পেরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়।
তবে সাখাওয়াত হোসেনের অভিযোগ, তাঁকে উদ্দেশ করে অশোভন ও অশ্লীল মন্তব্য করা হয়। এর প্রতিবাদ করলে তাঁকে হেনস্তা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, আনোয়ার প্রধান ও পিপি আবুল কালাম আজাদের অনুসারীরা উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছেন।
অন্যদিকে পিপি আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করেন, সাখাওয়াত হোসেনের অনুসারীরা তাঁদের ওপর হামলা করেছেন। এতে তিনি আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন।
পিপি নিয়োগ নিয়েও বিরোধ
দুই পক্ষের বিরোধের আরেকটি কারণ হিসেবে উঠে এসেছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিয়োগের বিষয়টি।
গত ২৫ আগস্ট আইনজীবী সুমন মিয়াকে ওই ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি নিয়োগ দেয় সরকার। তবে তাঁকে নির্ধারিত চেম্বারে বসতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
সুমন মিয়া বলেন, পিপি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পরও আইনজীবীদের একটি অংশের বিরোধিতার কারণে তিনি নির্ধারিত চেম্বারে বসতে পারছেন না।
তবে আনোয়ার প্রধানের বক্তব্য, সুমন মিয়া আইনজীবী সমিতির সদস্য নন। তাঁকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়ায় আইনজীবীদের আপত্তি রয়েছে। বারের সদস্যদের মধ্য থেকে ওই পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার দাবি তাঁদের।
অন্যদিকে সাখাওয়াত হোসেনের পক্ষের বক্তব্য, সরকার যাঁকে পিপি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে, তাঁকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া উচিত।
আদালত স্থানান্তর নিয়েও মতবিরোধ
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (বিদ্যুৎ ও শ্রম আদালত) কার্যক্রম কোথায় পরিচালিত হবে, তা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
আনোয়ার প্রধানের অনুসারী আইনজীবীদের একটি অংশ শহরের চানমারী এলাকা থেকে আদালত স্থানান্তরের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আইনজীবীদের মতে, আদালত স্থানান্তরের সঙ্গে তাঁদের চেম্বার, মামলা পরিচালনা, মক্কেলের যাতায়াত ও পেশাগত সুবিধার বিষয় জড়িত। ফলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত বারের রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলে।
‘বারকে কুক্ষিগত করে রাখতে চান’—আনোয়ার
আনোয়ার প্রধান বলেন, তাঁদের রাজনৈতিক মতাদর্শ একই হলেও সাখাওয়াত হোসেনের অনুসারীরা বারকে কুক্ষিগত করে রাখতে চান।
সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে তাঁর বিরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, একসময় তাঁদের মধ্যে গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসকের দায়িত্ব পাওয়ার পর সাখাওয়াত হোসেন তাঁদের আর প্রয়োজন মনে করছেন না। একই সঙ্গে বারের সদস্য নন—এমন একজনকে পিপি নিয়োগ দেওয়ার বিষয়েও তাঁর আপত্তি রয়েছে।
‘দুইবার দায়িত্ব পালন করেছেন, এবার অন্যদের সুযোগ’—সাখাওয়াত
সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আনোয়ার প্রধান ইতিমধ্যে দুবার সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। এবার সভাপতি পদে জাকির হোসেনকে তাঁরা চান।
তিনি আরও বলেন, এর আগে তাঁদের মধ্যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল—যাঁরা দুই মেয়াদে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁরা একই পদে আর নির্বাচন করবেন না। এরপরও আনোয়ার প্রধান সভাপতি পদে প্রার্থী হতে চাইছেন বলে তাঁর দাবি।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আইন পেশায় দীর্ঘদিন আমার শিষ্য ছিলেন আনোয়ার প্রধান। এবার সভাপতি পদে তাঁকে প্রার্থী না করার সিদ্ধান্ত মানতে না পেরে মঙ্গলবারের ঘটনা ঘটেছে।’
গুরু-শিষ্যের দ্বন্দ্বে বিব্রত আইনজীবীরা
সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। অন্যদিকে আনোয়ার প্রধান নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
সাত খুন মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দেশব্যাপী পরিচিতি পান সাখাওয়াত হোসেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। ২০১৬ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হিসেবেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি।
অন্যদিকে আনোয়ার প্রধান জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সমর্থনে পরপর দুইবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের দুই পক্ষের এই বিরোধে সাধারণ আইনজীবীদের অনেকেই বিব্রত। তাঁদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক বিভাজনের প্রভাব পেশাগত পরিবেশেও পড়তে পারে।
গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সভাপতি আইনজীবী আওলাদ হোসেন বলেন, আইনজীবীরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়া বা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই পক্ষের এই বিরোধ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন