খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে জেলার চার উপজেলায় বিশেষ অভিযান শুরু করেছে যৌথবাহিনী। র্যাব, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে রূপসা, দিঘলিয়া, তেরখাদা ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) থেকে এ অভিযান শুরু হয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক।
পুলিশ সুপার বলেন, বিশেষ অভিযানের প্রধান লক্ষ্য মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার। খুলনায় মাদককেন্দ্রিক বিরোধ থেকেই অধিকাংশ টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনা ঘটছে বলেও তিনি জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার জানান, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত খুলনা জেলায় ৩৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ২৫টি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। বাকি ১০টি হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনো উদ্ঘাটিত হয়নি।
পুলিশের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ৩৫টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে ৯টি। মাদককেন্দ্রিক বিরোধে ৩টি, সামাজিক কারণে ১৩টি, রাজনৈতিক কারণে ২টি এবং অজ্ঞাত কারণে ২টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এ ছাড়া নবজাতক হত্যা করা হয়েছে ২টি এবং পারিবারিক কলহের জেরে ঘটেছে ৪টি হত্যাকাণ্ড।
খুলনার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অপরাধীরা দ্রুত এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলে যাওয়ার সুযোগ পায় বলে জানান পুলিশ সুপার।
তিনি বলেন, খুলনা শহর নদীবেষ্টিত। রূপসা নদী ও ভৈরব নদের এক পাশে নগরী এবং অন্য পাশে জেলার বিভিন্ন এলাকা। ফলে অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত স্থান পরিবর্তন করতে পারে অপরাধীরা। এতে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জটিলতা তৈরি হয়।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, রূপসা উপজেলা ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় অপরাধীরা সেখানে সহজেই আত্মগোপন করতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগামী এক সপ্তাহকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে সরকার ওমর ফারুক বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।
এ সময় বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করার কথা জানান তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া অস্ত্রের একটি অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এসব অস্ত্রের কিছু এখনো সন্ত্রাসীদের হাতে রয়েছে বলে জানান তিনি।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণে যৌথবাহিনীর এ বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে জেলার চার উপজেলায় বিশেষ অভিযান শুরু করেছে যৌথবাহিনী। র্যাব, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে রূপসা, দিঘলিয়া, তেরখাদা ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) থেকে এ অভিযান শুরু হয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক।
পুলিশ সুপার বলেন, বিশেষ অভিযানের প্রধান লক্ষ্য মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার। খুলনায় মাদককেন্দ্রিক বিরোধ থেকেই অধিকাংশ টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনা ঘটছে বলেও তিনি জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার জানান, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত খুলনা জেলায় ৩৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ২৫টি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। বাকি ১০টি হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনো উদ্ঘাটিত হয়নি।
পুলিশের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ৩৫টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে ৯টি। মাদককেন্দ্রিক বিরোধে ৩টি, সামাজিক কারণে ১৩টি, রাজনৈতিক কারণে ২টি এবং অজ্ঞাত কারণে ২টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এ ছাড়া নবজাতক হত্যা করা হয়েছে ২টি এবং পারিবারিক কলহের জেরে ঘটেছে ৪টি হত্যাকাণ্ড।
খুলনার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অপরাধীরা দ্রুত এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলে যাওয়ার সুযোগ পায় বলে জানান পুলিশ সুপার।
তিনি বলেন, খুলনা শহর নদীবেষ্টিত। রূপসা নদী ও ভৈরব নদের এক পাশে নগরী এবং অন্য পাশে জেলার বিভিন্ন এলাকা। ফলে অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত স্থান পরিবর্তন করতে পারে অপরাধীরা। এতে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জটিলতা তৈরি হয়।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, রূপসা উপজেলা ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় অপরাধীরা সেখানে সহজেই আত্মগোপন করতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগামী এক সপ্তাহকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে সরকার ওমর ফারুক বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।
এ সময় বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করার কথা জানান তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া অস্ত্রের একটি অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এসব অস্ত্রের কিছু এখনো সন্ত্রাসীদের হাতে রয়েছে বলে জানান তিনি।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণে যৌথবাহিনীর এ বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন