জনতার প্রেস

মূল পাতা

সারাদেশ

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামিনে মুক্ত, বাদীকে হুমকির অভিযোগ

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামিনে মুক্ত, বাদীকে হুমকির অভিযোগ

জনতার প্রেস ডেস্ক:
নাটোরের গুরুদাসপুরে ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ফিরোজুল ইসলাম (৪৮) উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মামলার বাদীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উচ্চ আদালতের আদেশে রাজশাহী কারাগার থেকে মুক্তি পান ফিরোজুল ইসলাম। তাঁর মুক্তির সময় গাড়িবহর ও ফুলের মালা নিয়ে সমর্থকদের উপস্থিত থাকার কথাও জানা গেছে।

পরদিন বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুরে একটি সভায় সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন ফিরোজুল ইসলাম। ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘বিচার হবে। বিচার কিন্তু শুরু হয়েছে। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, এই নাজিরপুরের মাটিতেই বিচার হবে।’ তবে বক্তব্যটি কাকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হয়েছে, তা ভিডিওতে স্পষ্ট নয়।

বাদীপক্ষের দাবি, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা অভিযোগ করেন, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, নাজিরপুরের মাটিতেই ‘বিচার’ করার কথা বলায় তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

বাদী জানান, বিষয়টি তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন।

আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ফিরোজুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই মামলায় অপহরণের ঘটনায় পৃথক ধারায় তাঁকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মামলার সরকারি কৌঁসুলি মুন্সি আবুল কালাম আজাদ বলেন, আদালতের রায়ে নির্যাতিত শিক্ষার্থীর পরিবার সন্তুষ্ট ছিল। তবে উচ্চ আদালতে আপিলের পর ফিরোজুল ইসলাম জামিনে মুক্ত হওয়ায় বাদীপক্ষের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে।

মামলার সূত্রপাত ২০২২ সালে

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১ অক্টোবর এসএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় এক শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের ফটকের সামনে থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে প্রধান শিক্ষক ফিরোজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। পরে তাঁকে রাজশাহীর একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর বাবা ফিরোজুল ইসলাম ও তাঁর দুই ভাইকে আসামি করে গুরুদাসপুর থানায় মামলা করেন।

পরে ওই বছরের ১১ অক্টোবর রাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের তকীতলার একটি আবাসিক হোটেল থেকে ফিরোজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৫।

বিএনপির দায়িত্বশীল পদেও ছিলেন

ফিরোজুল ইসলাম গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর মরিয়ম মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি নাজিরপুরের দৌলতপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে।

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি একসময় গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীল পদে ছিলেন। পরে বিভিন্ন বিতর্কের কারণে পদ হারান বলে দলটির স্থানীয় নেতারা জানান।

অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা: পুলিশ

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, ধর্ষণ মামলার বাদীকে অন্যায়ভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।হুমকির অভিযোগের বিষয়ে ফিরোজুল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

 

Image

নাটোর, গুরুদাসপুর, ফিরোজুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক,

আপনার মতামত লিখুন

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামিনে মুক্ত, বাদীকে হুমকির অভিযোগ
0:00 0:00
1.0x
জনতার প্রেস

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামিনে মুক্ত, বাদীকে হুমকির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

জনতার প্রেস ডেস্ক:
নাটোরের গুরুদাসপুরে ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ফিরোজুল ইসলাম (৪৮) উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মামলার বাদীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উচ্চ আদালতের আদেশে রাজশাহী কারাগার থেকে মুক্তি পান ফিরোজুল ইসলাম। তাঁর মুক্তির সময় গাড়িবহর ও ফুলের মালা নিয়ে সমর্থকদের উপস্থিত থাকার কথাও জানা গেছে।

পরদিন বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুরে একটি সভায় সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন ফিরোজুল ইসলাম। ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘বিচার হবে। বিচার কিন্তু শুরু হয়েছে। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, এই নাজিরপুরের মাটিতেই বিচার হবে।’ তবে বক্তব্যটি কাকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হয়েছে, তা ভিডিওতে স্পষ্ট নয়।

বাদীপক্ষের দাবি, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা অভিযোগ করেন, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, নাজিরপুরের মাটিতেই ‘বিচার’ করার কথা বলায় তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

বাদী জানান, বিষয়টি তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন।

আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ফিরোজুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই মামলায় অপহরণের ঘটনায় পৃথক ধারায় তাঁকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মামলার সরকারি কৌঁসুলি মুন্সি আবুল কালাম আজাদ বলেন, আদালতের রায়ে নির্যাতিত শিক্ষার্থীর পরিবার সন্তুষ্ট ছিল। তবে উচ্চ আদালতে আপিলের পর ফিরোজুল ইসলাম জামিনে মুক্ত হওয়ায় বাদীপক্ষের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে।

মামলার সূত্রপাত ২০২২ সালে

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১ অক্টোবর এসএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় এক শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের ফটকের সামনে থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে প্রধান শিক্ষক ফিরোজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। পরে তাঁকে রাজশাহীর একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর বাবা ফিরোজুল ইসলাম ও তাঁর দুই ভাইকে আসামি করে গুরুদাসপুর থানায় মামলা করেন।

পরে ওই বছরের ১১ অক্টোবর রাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের তকীতলার একটি আবাসিক হোটেল থেকে ফিরোজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৫।

বিএনপির দায়িত্বশীল পদেও ছিলেন

ফিরোজুল ইসলাম গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর মরিয়ম মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি নাজিরপুরের দৌলতপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে।

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি একসময় গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীল পদে ছিলেন। পরে বিভিন্ন বিতর্কের কারণে পদ হারান বলে দলটির স্থানীয় নেতারা জানান।

অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা: পুলিশ

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, ধর্ষণ মামলার বাদীকে অন্যায়ভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।হুমকির অভিযোগের বিষয়ে ফিরোজুল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

 


জনতার প্রেস

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ আরেফিন ইসলাম 
নির্বাহী সম্পাদক
আবুল কালাম আজাদ
বার্তা সম্পাদক
মুক্তা আক্তার

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস