ময়মনসিংহের নান্দাইলে চিকিৎসক দেখাতে আসা এক গৃহবধূকে স্ত্রী দাবি করে দুই পুরুষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একজন নিজেকে ওই নারীর বর্তমান স্বামী হিসেবে দাবি করেন, অন্যজন দেখান বিয়ের কাবিননামা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একপর্যায়ে পুলিশ গিয়ে উভয় পক্ষকে থানায় নিয়ে যায়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নান্দাইল পৌরশহরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় একটি বেসরকারি প্যাথলজি সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। বিকেল থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনা গড়ায় রাত পর্যন্ত।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের সিংদই গ্রামের ওই গৃহবধূ চিকিৎসক দেখাতে নান্দাইল শহরের রিতা প্যাথলজিতে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পার্শ্ববর্তী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার প্রবাসী আবু হানিফ। সেখানে তিনি নিজেকে ওই নারীর স্বামী হিসেবে পরিচয় দেন।
বিষয়টি জানতে পেরে মো. শরীফ নামে আরেক ব্যক্তি প্যাথলজিতে উপস্থিত হন। তিনিও ওই গৃহবধূকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেন। এ সময় তিনি ওই নারীর সঙ্গে তাঁর বিয়ের কাবিননামা দেখান।
এরপর শরীফ তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজনকে নিয়ে আবু হানিফকে আটকে রাখেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে এক দফা হাতাহাতিও হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় আবু হানিফকে প্যাথলজির একটি কক্ষে রাখা হয়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।
শরীফের দাবি, বিয়ের পর চাকরি করে উপার্জন করা তাঁর পুরো অর্থ তিনি স্ত্রীকে দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, স্ত্রী তাঁকে তালাক দেওয়ার কথা বলছেন এবং পরে অন্য একজনকে বিয়ে করেছেন।
শরীফ বলেন, তাঁকে তালাক দেওয়া হলে তিনি, তাঁর পরিবারের সদস্য কিংবা গ্রামের লোকজন বিষয়টি জানতে পারতেন। কিন্তু এ ধরনের কোনো বিষয় তাঁরা জানতেন না। এ কারণে তিনি গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে এবং তাঁর উপার্জিত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলেন।
তবে শরীফের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই গৃহবধূ ও তাঁর বাবা আবদুল কাইয়ুম।
আবদুল কাইয়ুমের দাবি, তাঁর মেয়ে আদালতের এফিডেভিটের মাধ্যমে শরীফকে তালাক দিয়েছেন এবং সেই সংক্রান্ত কাগজপত্র শরীফের কাছেও পাঠানো হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, তালাকের পর তাঁর মেয়ে অন্যত্র বিয়ে করে সংসার করছেন। শরীফ এখন অযথা বিষয়টি নিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি করছেন।
এদিকে শরীফের বাবা দুলাল মিয়া অভিযোগ করেন, তাঁর পুত্রবধূ তাঁর ছেলের কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা নিয়েছেন। তাঁর দাবি, তালাকের বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে হলে ওই অর্থ ফেরত দিতে হবে।
নান্দাইল মডেল থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশের সড়কটিতে রোগী ও স্বজনদের ব্যাপক চলাচল রয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে জন্য উভয় পক্ষকে থানায় নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, বিষয়টি পারিবারিক হওয়ায় ওই গৃহবধূকে তাঁর বাবার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে দুই ব্যক্তির দাবির মধ্যে কার সঙ্গে ওই নারীর বৈধ বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগের সত্যতা কী—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ময়মনসিংহের নান্দাইলে চিকিৎসক দেখাতে আসা এক গৃহবধূকে স্ত্রী দাবি করে দুই পুরুষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একজন নিজেকে ওই নারীর বর্তমান স্বামী হিসেবে দাবি করেন, অন্যজন দেখান বিয়ের কাবিননামা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একপর্যায়ে পুলিশ গিয়ে উভয় পক্ষকে থানায় নিয়ে যায়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নান্দাইল পৌরশহরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় একটি বেসরকারি প্যাথলজি সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। বিকেল থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনা গড়ায় রাত পর্যন্ত।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের সিংদই গ্রামের ওই গৃহবধূ চিকিৎসক দেখাতে নান্দাইল শহরের রিতা প্যাথলজিতে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পার্শ্ববর্তী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার প্রবাসী আবু হানিফ। সেখানে তিনি নিজেকে ওই নারীর স্বামী হিসেবে পরিচয় দেন।
বিষয়টি জানতে পেরে মো. শরীফ নামে আরেক ব্যক্তি প্যাথলজিতে উপস্থিত হন। তিনিও ওই গৃহবধূকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেন। এ সময় তিনি ওই নারীর সঙ্গে তাঁর বিয়ের কাবিননামা দেখান।
এরপর শরীফ তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজনকে নিয়ে আবু হানিফকে আটকে রাখেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে এক দফা হাতাহাতিও হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় আবু হানিফকে প্যাথলজির একটি কক্ষে রাখা হয়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।
শরীফের দাবি, বিয়ের পর চাকরি করে উপার্জন করা তাঁর পুরো অর্থ তিনি স্ত্রীকে দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, স্ত্রী তাঁকে তালাক দেওয়ার কথা বলছেন এবং পরে অন্য একজনকে বিয়ে করেছেন।
শরীফ বলেন, তাঁকে তালাক দেওয়া হলে তিনি, তাঁর পরিবারের সদস্য কিংবা গ্রামের লোকজন বিষয়টি জানতে পারতেন। কিন্তু এ ধরনের কোনো বিষয় তাঁরা জানতেন না। এ কারণে তিনি গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে এবং তাঁর উপার্জিত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলেন।
তবে শরীফের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই গৃহবধূ ও তাঁর বাবা আবদুল কাইয়ুম।
আবদুল কাইয়ুমের দাবি, তাঁর মেয়ে আদালতের এফিডেভিটের মাধ্যমে শরীফকে তালাক দিয়েছেন এবং সেই সংক্রান্ত কাগজপত্র শরীফের কাছেও পাঠানো হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, তালাকের পর তাঁর মেয়ে অন্যত্র বিয়ে করে সংসার করছেন। শরীফ এখন অযথা বিষয়টি নিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি করছেন।
এদিকে শরীফের বাবা দুলাল মিয়া অভিযোগ করেন, তাঁর পুত্রবধূ তাঁর ছেলের কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা নিয়েছেন। তাঁর দাবি, তালাকের বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে হলে ওই অর্থ ফেরত দিতে হবে।
নান্দাইল মডেল থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশের সড়কটিতে রোগী ও স্বজনদের ব্যাপক চলাচল রয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে জন্য উভয় পক্ষকে থানায় নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, বিষয়টি পারিবারিক হওয়ায় ওই গৃহবধূকে তাঁর বাবার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে দুই ব্যক্তির দাবির মধ্যে কার সঙ্গে ওই নারীর বৈধ বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগের সত্যতা কী—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন