সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার তালায় ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগে সাধন বিশ্বাস (৪৫) নামে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ‘তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিক’ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা ক্লিনিকটির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের সময় ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম। তিনি জানান, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে রোববার অফিস সময়ে লিখিতভাবে জানানো হবে।
নিহত সাধন বিশ্বাস খুলনার পাইকগাছা উপজেলার মাহামুদকাটি গ্রামের কার্তিক বিশ্বাসের ছেলে।
স্বজনদের অভিযোগ, প্রায় এক মাস আগে পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে সাধন বিশ্বাসকে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ক্লিনিকের মালিক বিধান চন্দ্র রায়ের পরামর্শে সেখানে ডা. আব্দুর রহমান তার অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচার করেন।
স্বজনদের দাবি, প্রথম অস্ত্রোপচারের কয়েক দিন পর অস্ত্রোপচারে ত্রুটি হয়েছে বলে জানানো হয়। এরপর ক্লিনিকের মালিক বিধান চন্দ্র রায় নিজেই দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করেন বলে অভিযোগ তাঁদের।
এরপরও সাধনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তৃতীয় দফায় অস্ত্রোপচারের পর শুক্রবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
সাধনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার সন্ধ্যার পর স্বজন ও স্থানীয় লোকজন মরদেহ নিয়ে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকের সামনে জড়ো হন। সেখানে তাঁরা বিক্ষোভ করেন এবং ক্লিনিকটি ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একপর্যায়ে ক্লিনিক ভাঙচুরের চেষ্টাও করা হয়। এ সময় ক্লিনিকের মালিক বিধান চন্দ্র রায় বিক্ষুব্ধদের তোপের মুখে পড়েন বলে তাঁরা দাবি করেন।
তবে তালা থানা পুলিশের বক্তব্য, ক্লিনিকের সামনে লোকজন জড়ো হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো ভাঙচুর বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, ‘এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্লিনিকের সামনে কিছু লোকজন জড়ো হয়েছিল। তবে সেখানে ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
স্বজনদের আনা ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগের বিষয়ে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকের মালিক বিধান চন্দ্র রায় বলেন, ‘দুই পক্ষের বিষয়টি মিটমাট হয়ে গেছে।’
তবে কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর শনিবার সকালে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ।
সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, ‘শনিবার সকালে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রোববার অফিস সময়ে চিঠি করে দেওয়া হবে।’
রোগীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, অস্ত্রোপচারে কোনো চিকিৎসাগত ত্রুটি হয়েছিল কি না এবং ক্লিনিকের চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় নিয়মের ব্যত্যয় ছিল কি না—এসব বিষয় এখন তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার তালায় ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগে সাধন বিশ্বাস (৪৫) নামে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ‘তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিক’ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা ক্লিনিকটির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের সময় ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম। তিনি জানান, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে রোববার অফিস সময়ে লিখিতভাবে জানানো হবে।
নিহত সাধন বিশ্বাস খুলনার পাইকগাছা উপজেলার মাহামুদকাটি গ্রামের কার্তিক বিশ্বাসের ছেলে।
স্বজনদের অভিযোগ, প্রায় এক মাস আগে পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে সাধন বিশ্বাসকে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ক্লিনিকের মালিক বিধান চন্দ্র রায়ের পরামর্শে সেখানে ডা. আব্দুর রহমান তার অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচার করেন।
স্বজনদের দাবি, প্রথম অস্ত্রোপচারের কয়েক দিন পর অস্ত্রোপচারে ত্রুটি হয়েছে বলে জানানো হয়। এরপর ক্লিনিকের মালিক বিধান চন্দ্র রায় নিজেই দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করেন বলে অভিযোগ তাঁদের।
এরপরও সাধনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তৃতীয় দফায় অস্ত্রোপচারের পর শুক্রবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
সাধনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার সন্ধ্যার পর স্বজন ও স্থানীয় লোকজন মরদেহ নিয়ে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকের সামনে জড়ো হন। সেখানে তাঁরা বিক্ষোভ করেন এবং ক্লিনিকটি ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একপর্যায়ে ক্লিনিক ভাঙচুরের চেষ্টাও করা হয়। এ সময় ক্লিনিকের মালিক বিধান চন্দ্র রায় বিক্ষুব্ধদের তোপের মুখে পড়েন বলে তাঁরা দাবি করেন।
তবে তালা থানা পুলিশের বক্তব্য, ক্লিনিকের সামনে লোকজন জড়ো হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো ভাঙচুর বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, ‘এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্লিনিকের সামনে কিছু লোকজন জড়ো হয়েছিল। তবে সেখানে ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
স্বজনদের আনা ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগের বিষয়ে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকের মালিক বিধান চন্দ্র রায় বলেন, ‘দুই পক্ষের বিষয়টি মিটমাট হয়ে গেছে।’
তবে কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর শনিবার সকালে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ।
সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, ‘শনিবার সকালে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রোববার অফিস সময়ে চিঠি করে দেওয়া হবে।’
রোগীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, অস্ত্রোপচারে কোনো চিকিৎসাগত ত্রুটি হয়েছিল কি না এবং ক্লিনিকের চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় নিয়মের ব্যত্যয় ছিল কি না—এসব বিষয় এখন তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন