বিদ্রোহ, মানবতা, সাম্য, প্রেম ও স্বাধীনতার কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকে ঘিরে রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘নজরুল সন্ধ্যা’। গান, আবৃত্তি ও নৃত্যের সম্মিলনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উঠে আসে জাতীয় কবির সাহিত্য ও সংগীতসৃষ্টির বহুমাত্রিক অনুষঙ্গ।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এ আয়োজন করে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। এ ছাড়া শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সরকারি প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম শক্তিশালী ‘সেতু’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নজরুল মানুষের সম্মিলিত চেতনাকে পরিবর্তনের লক্ষ্যে লড়াই করেছেন। কবিকে স্মরণের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যকার সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে কাজী নজরুল ইসলামের মানবতাবাদী দর্শনের কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, ধর্ম ও বর্ণের বিভাজন অতিক্রম করে নজরুল মানুষের কবি হয়ে উঠেছিলেন।
মন্ত্রী জানান, সরকার ২০২৬ সালকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। ফলে জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্য ও সংগীতসৃষ্টিকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের আয়োজনগুলো বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বের শুরুতেই নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা। তাঁর পরিবেশনায় নজরুলের গানের প্রেম, বিরহ, প্রতিবাদ ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষার বিভিন্ন দিক ফুটে ওঠে।
নজরুলের সংগীতের বহুমাত্রিকতা শিল্পীর কণ্ঠে নতুন মাত্রা পায়। দর্শক-শ্রোতারাও পরিবেশনা উপভোগ করেন।
এরপর নজরুলের কবিতা আবৃত্তি করেন অভিনেতা ও আবৃত্তিশিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। তাঁর আবৃত্তিতে কবির দ্রোহ, সাম্য এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়গুলো উঠে আসে।
নৃত্য পর্বে নজরুলের সৃষ্টির বিভিন্ন অনুষঙ্গ উপস্থাপন করেন মণিপুরি নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার সামিনা হুসাইন প্রেমা। নৃত্যভঙ্গি, ছন্দ ও সংগীতের সমন্বয়ে কবির সৃষ্টির আবেগকে মঞ্চে দৃশ্যমান করে তোলেন তিনি।
নজরুলের গানের প্রেম, প্রকৃতি ও মানবিক অনুভূতির সঙ্গে নৃত্যের সমন্বয় পরিবেশনায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
গান, আবৃত্তি ও নৃত্যের সম্মিলনে ‘নজরুল সন্ধ্যা’ হয়ে ওঠে কবির সৃষ্টির বহুমাত্রিকতার এক সাংস্কৃতিক উপস্থাপন। তাঁর সাহিত্য ও সংগীতে ফিরে আসা মানবতা, সাম্য, সম্প্রীতি, প্রেম ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষার বিভিন্ন দিক শিল্পীদের পরিবেশনায় ফুটে ওঠে।
আয়োজনে শুধু কাজী নজরুল ইসলামকে স্মরণই করা হয়নি; তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে প্রকাশিত মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকেও সামনে আনা হয়। বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আলোচনার পাশাপাশি গান, আবৃত্তি ও নৃত্যের এই আয়োজন নজরুলের সৃষ্টির দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক আবেদনকে নতুন করে তুলে ধরে।

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিদ্রোহ, মানবতা, সাম্য, প্রেম ও স্বাধীনতার কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকে ঘিরে রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘নজরুল সন্ধ্যা’। গান, আবৃত্তি ও নৃত্যের সম্মিলনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উঠে আসে জাতীয় কবির সাহিত্য ও সংগীতসৃষ্টির বহুমাত্রিক অনুষঙ্গ।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এ আয়োজন করে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। এ ছাড়া শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সরকারি প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম শক্তিশালী ‘সেতু’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নজরুল মানুষের সম্মিলিত চেতনাকে পরিবর্তনের লক্ষ্যে লড়াই করেছেন। কবিকে স্মরণের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যকার সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে কাজী নজরুল ইসলামের মানবতাবাদী দর্শনের কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, ধর্ম ও বর্ণের বিভাজন অতিক্রম করে নজরুল মানুষের কবি হয়ে উঠেছিলেন।
মন্ত্রী জানান, সরকার ২০২৬ সালকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। ফলে জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্য ও সংগীতসৃষ্টিকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের আয়োজনগুলো বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বের শুরুতেই নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা। তাঁর পরিবেশনায় নজরুলের গানের প্রেম, বিরহ, প্রতিবাদ ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষার বিভিন্ন দিক ফুটে ওঠে।
নজরুলের সংগীতের বহুমাত্রিকতা শিল্পীর কণ্ঠে নতুন মাত্রা পায়। দর্শক-শ্রোতারাও পরিবেশনা উপভোগ করেন।
এরপর নজরুলের কবিতা আবৃত্তি করেন অভিনেতা ও আবৃত্তিশিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। তাঁর আবৃত্তিতে কবির দ্রোহ, সাম্য এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়গুলো উঠে আসে।
নৃত্য পর্বে নজরুলের সৃষ্টির বিভিন্ন অনুষঙ্গ উপস্থাপন করেন মণিপুরি নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার সামিনা হুসাইন প্রেমা। নৃত্যভঙ্গি, ছন্দ ও সংগীতের সমন্বয়ে কবির সৃষ্টির আবেগকে মঞ্চে দৃশ্যমান করে তোলেন তিনি।
নজরুলের গানের প্রেম, প্রকৃতি ও মানবিক অনুভূতির সঙ্গে নৃত্যের সমন্বয় পরিবেশনায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
গান, আবৃত্তি ও নৃত্যের সম্মিলনে ‘নজরুল সন্ধ্যা’ হয়ে ওঠে কবির সৃষ্টির বহুমাত্রিকতার এক সাংস্কৃতিক উপস্থাপন। তাঁর সাহিত্য ও সংগীতে ফিরে আসা মানবতা, সাম্য, সম্প্রীতি, প্রেম ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষার বিভিন্ন দিক শিল্পীদের পরিবেশনায় ফুটে ওঠে।
আয়োজনে শুধু কাজী নজরুল ইসলামকে স্মরণই করা হয়নি; তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে প্রকাশিত মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকেও সামনে আনা হয়। বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আলোচনার পাশাপাশি গান, আবৃত্তি ও নৃত্যের এই আয়োজন নজরুলের সৃষ্টির দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক আবেদনকে নতুন করে তুলে ধরে।

আপনার মতামত লিখুন