মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে গুম, খুন ও নির্যাতনবিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি মানবাধিকারভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার। এমন একটি সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে ‘গুম’, ‘অত্যাচার’ ও ‘নির্যাতন’ শব্দগুলোর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।
আগামী ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার দুপুরে ওই আলোচনা সভার ভেন্যু পরিদর্শন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তারা।
আহমেদ আযম খান বলেন, দেশে যেন আর কখনো গুম, নির্যাতন বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার কাজ করছে। কোনো ধরনের গুম, খুন কিংবা অত্যাচার-নির্যাতনে সরকার বিশ্বাস করে না।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদেশে অবস্থান করেও গুম-খুনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এবং নিজেও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। তার পরিবারের সদস্যদেরও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
আহমেদ আযম খান আরও বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থের প্রশ্নে তিনি আপস করেননি। বর্তমান সরকারকে তিনি ‘জনগণের সরকার’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গুম-নির্যাতন বন্ধে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, বাংলাদেশে গুমের দিন শেষ হয়ে গেছে। অতীতের ভয়াবহ ও কালো অধ্যায় অতিক্রম করে আগামী দিনে ন্যায়বিচারভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার।
তিনি বলেন, জোরপূর্বক গুম বা বলপূর্বক অন্তর্ধান—যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন, এ ধরনের ঘৃণিত মানবতাবিরোধী অপরাধ আর বাংলাদেশে সংঘটিত হতে দেওয়া হবে না।
ইশরাক হোসেন বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। তাই অতীতে গুম ও নির্যাতনের যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোরও বিচার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ওই সময় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও মামলা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে।
তার ভাষ্য, অভিযুক্তদের বিচার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা হবে। বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সর্বোচ্চ বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
ইশরাক হোসেন বলেন, অভিযুক্তদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। মামলা, তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে গুম, খুন ও নির্যাতনবিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি মানবাধিকারভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার। এমন একটি সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে ‘গুম’, ‘অত্যাচার’ ও ‘নির্যাতন’ শব্দগুলোর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।
আগামী ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার দুপুরে ওই আলোচনা সভার ভেন্যু পরিদর্শন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তারা।
আহমেদ আযম খান বলেন, দেশে যেন আর কখনো গুম, নির্যাতন বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার কাজ করছে। কোনো ধরনের গুম, খুন কিংবা অত্যাচার-নির্যাতনে সরকার বিশ্বাস করে না।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদেশে অবস্থান করেও গুম-খুনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এবং নিজেও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। তার পরিবারের সদস্যদেরও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
আহমেদ আযম খান আরও বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থের প্রশ্নে তিনি আপস করেননি। বর্তমান সরকারকে তিনি ‘জনগণের সরকার’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গুম-নির্যাতন বন্ধে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, বাংলাদেশে গুমের দিন শেষ হয়ে গেছে। অতীতের ভয়াবহ ও কালো অধ্যায় অতিক্রম করে আগামী দিনে ন্যায়বিচারভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার।
তিনি বলেন, জোরপূর্বক গুম বা বলপূর্বক অন্তর্ধান—যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন, এ ধরনের ঘৃণিত মানবতাবিরোধী অপরাধ আর বাংলাদেশে সংঘটিত হতে দেওয়া হবে না।
ইশরাক হোসেন বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। তাই অতীতে গুম ও নির্যাতনের যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোরও বিচার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ওই সময় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও মামলা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে।
তার ভাষ্য, অভিযুক্তদের বিচার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা হবে। বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সর্বোচ্চ বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
ইশরাক হোসেন বলেন, অভিযুক্তদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। মামলা, তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আপনার মতামত লিখুন