বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির দায়িত্বের শেষ দিনে দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। দীর্ঘ দায়িত্ব পালনে সহযোগিতার জন্য বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব, ছাত্রদলের নেতাকর্মী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতা ও সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে নিজের রাজনৈতিক পথচলা, ছাত্রদলের দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক কার্যক্রম, সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নিজের অনুভূতি তুলে ধরেন নাছির উদ্দীন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতা।
‘দীর্ঘ কঠিন অধ্যায়ের সমাপ্তি’
বিদায়ী বার্তায় নাছির উদ্দীন বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের দুঃসময়ে তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, সংগ্রাম, ত্যাগ, নির্যাতন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পথ চলেছেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের দিন শেষ হচ্ছে। এ সময় তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে অসংখ্য স্মৃতি, সংগ্রাম, সাফল্য-ব্যর্থতা, আনন্দ-বেদনা এবং সহযোদ্ধাদের ভালোবাসা।
নোয়াখালীর সুবর্ণচরের সন্তান হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে নাছির বলেন, একসময় তিনি ভাবেননি যে এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন।
তার ভাষায়, রাজনীতি শুধু পদ-পদবির বিষয় নয়; মানুষের জন্য কাজ করা, সংকটে পাশে দাঁড়ানো এবং নিজের বিশ্বাসের পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকার দীর্ঘ যাত্রাই রাজনীতির মূল বিষয়।
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে ছাত্রদলের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন
২০২৪ সালের ১ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণের পর কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে ছাত্রদলকে এগিয়ে নিতে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন নাছির উদ্দীন। তবে তার দায়িত্বকালের সবচেয়ে কঠিন সময় হিসেবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
নাছির বলেন, ওই সময়ে নেতাকর্মীদের রাজপথে সক্রিয় রাখা, সাহস জোগানো এবং সংগঠনের বিভিন্ন স্তরকে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
ঢাকার পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়, পাঁচ কলেজ এবং চার মহানগরের তৎকালীন নেতৃত্বের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, আন্দোলনে অনেক নেতাকর্মী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে ছিলেন। তাদের অনেকের নাম হয়তো ইতিহাসে আলাদাভাবে লেখা হবে না, তবে একটি গণআন্দোলনের পেছনে হাজারো পরিচয়হীন তরুণের ত্যাগ থাকে।
আন্দোলনের সময় নাহিদ, আসিফ, হাসনাত, সারজিস, কাদের, মাহিন, রিফাত রশিদ ও হান্নান মাসুদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সংকটের সময়ে তাদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান নাছির।
বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর স্মৃতিও তুলে ধরেন
জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পর নোয়াখালী-ফেনী অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার কথা উল্লেখ করে নাছির উদ্দীন বলেন, ওই এলাকার সন্তান হিসেবে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ পেয়েছিলেন তিনি।
তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্দেশনা এবং তারেক রহমানের ফোন পাওয়ার পর রাতেই ফেনীর উদ্দেশে রওনা হন। পরে ছাত্রদলের অন্য শীর্ষ নেতারাও ফেনী ও বৃহত্তর নোয়াখালী এলাকায় ছুটে যান।
নাছিরের মতে, ওই অভিজ্ঞতা তাকে আবারও বুঝিয়েছে—রাজনীতি শুধু মিছিল-মিটিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের দুর্দিনে তাদের পাশে দাঁড়ানোই রাজনীতির সবচেয়ে বড় পরিচয়।
দুই হাজারের বেশি সাংগঠনিক কমিটি গঠনের দাবি
দায়িত্ব পালনকালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ‘মব সংস্কৃতি’, বিভিন্ন প্রচারণা, অপপ্রচার ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও ছাত্রদলকে সক্রিয় রাখার চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন নাছির।
তিনি জানান, তাদের দায়িত্ব পালনের সময়ে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এটিকে কোনো ব্যক্তির একক কৃতিত্ব হিসেবে দেখেননি তিনি। বরং ছাত্রদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে কিছু কমিটি সম্পন্ন করতে না পারার আক্ষেপও প্রকাশ করেন তিনি। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত অংশ সম্পন্ন করতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন ছাত্রদলের এই নেতা।
‘পদই যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি নয়’
যারা বিভিন্ন কমিটিতে দায়িত্ব পেয়েছেন, তাদের পাশাপাশি যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যারা পদ পাননি, তাদের প্রতিও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন নাছির উদ্দীন।
তিনি বলেন, কোনো একটি পদ একজন ব্যক্তির যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি নয়। যারা একটি কমিটিতে দায়িত্ব পাননি, তাদের অনেকেই ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
ছাত্রসংসদ নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়াকেও নিজের দায়িত্বকালের একটি আক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন নাছির। কোথায় ঘাটতি ছিল এবং আরও কীভাবে ভালো করা যেত—এসব প্রশ্ন তাকে ভাবিয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে এ ধরনের পরাজয় থেকেও শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে ছাত্রদল আরও শক্তিশালী, গ্রহণযোগ্য ও সংগঠিত ছাত্রসংগঠনে পরিণত হবে।
শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা
বিদায়ী বার্তায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল বকুলসহ বিএনপি ও ছাত্রদলের সিনিয়র নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান নাছির।
একই সঙ্গে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা, জেলা, মহানগর, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
নাছির বলেন, দায়িত্ব পালনের সময়ে ভুল, সীমাবদ্ধতা কিংবা সিদ্ধান্তগত ঘাটতি থাকতে পারে। তবে ছাত্রদলের স্বার্থের বাইরে গিয়ে কাজ করার ইচ্ছা তার কখনো ছিল না।
‘ছাত্রদল থেকে নয়, দায়িত্ব থেকে বিদায়’
বিদায়ী বার্তার সবচেয়ে আবেগঘন অংশে নাছির উদ্দীন বলেন, তিনি দায়িত্ব থেকে বিদায় নিচ্ছেন, কিন্তু ছাত্রদল থেকে নয়।
তিনি বলেন, পদ থেকে বিদায় নেওয়া যায়, কিন্তু আদর্শ, ভালোবাসা ও সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়া যায় না। ভবিষ্যতে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা থাকবে বলেও জানান তিনি।
প্রয়োজনে নতুন নেতৃত্বের ডাকে আগের মতোই পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে নাছির বলেন, ছাত্রদল তাকে যে পরিচয় দিয়েছে, তা কোনো পদ দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। সংগঠনের পতাকার নিচে পাওয়া বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও সম্পর্ককেই নিজের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
সহযোদ্ধাদের কাছে ক্ষমা চাইলেন
দায়িত্ব পালনের সময়ে কোনো আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে, কোনো সিদ্ধান্তে অন্যায় হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে প্রাপ্য সম্মান দিতে ব্যর্থ হলে ক্ষমা চেয়েছেন নাছির উদ্দীন।
তিনি তার পরিবারের সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। রাজনৈতিক জীবনের অনিশ্চয়তা, ব্যস্ততা, অনুপস্থিতি ও কঠিন সময়গুলো নীরবে সহ্য করার জন্য পরিবারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, সংবাদকর্মীরা তাদের কার্যক্রম মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন এবং কখনো প্রশংসা, কখনো সমালোচনা করেছেন। সেই সমালোচনাকেও প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সবশেষে নাছির উদ্দীন বলেন, তিনি একটি দায়িত্ব থেকে বিদায় নিচ্ছেন, সম্পর্ক, সংগ্রাম কিংবা আদর্শ থেকে নয়। নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
বাংলাদেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও সফল বাংলাদেশ দেখার স্বপ্ন নিয়েই তার রাজনৈতিক পথচলা অব্যাহত থাকবে বলেও বার্তায় উল্লেখ করেন ছাত্রদলের বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক।

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির দায়িত্বের শেষ দিনে দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। দীর্ঘ দায়িত্ব পালনে সহযোগিতার জন্য বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব, ছাত্রদলের নেতাকর্মী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতা ও সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে নিজের রাজনৈতিক পথচলা, ছাত্রদলের দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক কার্যক্রম, সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নিজের অনুভূতি তুলে ধরেন নাছির উদ্দীন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতা।
‘দীর্ঘ কঠিন অধ্যায়ের সমাপ্তি’
বিদায়ী বার্তায় নাছির উদ্দীন বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের দুঃসময়ে তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, সংগ্রাম, ত্যাগ, নির্যাতন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পথ চলেছেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের দিন শেষ হচ্ছে। এ সময় তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে অসংখ্য স্মৃতি, সংগ্রাম, সাফল্য-ব্যর্থতা, আনন্দ-বেদনা এবং সহযোদ্ধাদের ভালোবাসা।
নোয়াখালীর সুবর্ণচরের সন্তান হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে নাছির বলেন, একসময় তিনি ভাবেননি যে এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন।
তার ভাষায়, রাজনীতি শুধু পদ-পদবির বিষয় নয়; মানুষের জন্য কাজ করা, সংকটে পাশে দাঁড়ানো এবং নিজের বিশ্বাসের পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকার দীর্ঘ যাত্রাই রাজনীতির মূল বিষয়।
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে ছাত্রদলের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন
২০২৪ সালের ১ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণের পর কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে ছাত্রদলকে এগিয়ে নিতে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন নাছির উদ্দীন। তবে তার দায়িত্বকালের সবচেয়ে কঠিন সময় হিসেবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
নাছির বলেন, ওই সময়ে নেতাকর্মীদের রাজপথে সক্রিয় রাখা, সাহস জোগানো এবং সংগঠনের বিভিন্ন স্তরকে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
ঢাকার পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়, পাঁচ কলেজ এবং চার মহানগরের তৎকালীন নেতৃত্বের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, আন্দোলনে অনেক নেতাকর্মী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে ছিলেন। তাদের অনেকের নাম হয়তো ইতিহাসে আলাদাভাবে লেখা হবে না, তবে একটি গণআন্দোলনের পেছনে হাজারো পরিচয়হীন তরুণের ত্যাগ থাকে।
আন্দোলনের সময় নাহিদ, আসিফ, হাসনাত, সারজিস, কাদের, মাহিন, রিফাত রশিদ ও হান্নান মাসুদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সংকটের সময়ে তাদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান নাছির।
বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর স্মৃতিও তুলে ধরেন
জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পর নোয়াখালী-ফেনী অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার কথা উল্লেখ করে নাছির উদ্দীন বলেন, ওই এলাকার সন্তান হিসেবে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ পেয়েছিলেন তিনি।
তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্দেশনা এবং তারেক রহমানের ফোন পাওয়ার পর রাতেই ফেনীর উদ্দেশে রওনা হন। পরে ছাত্রদলের অন্য শীর্ষ নেতারাও ফেনী ও বৃহত্তর নোয়াখালী এলাকায় ছুটে যান।
নাছিরের মতে, ওই অভিজ্ঞতা তাকে আবারও বুঝিয়েছে—রাজনীতি শুধু মিছিল-মিটিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের দুর্দিনে তাদের পাশে দাঁড়ানোই রাজনীতির সবচেয়ে বড় পরিচয়।
দুই হাজারের বেশি সাংগঠনিক কমিটি গঠনের দাবি
দায়িত্ব পালনকালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ‘মব সংস্কৃতি’, বিভিন্ন প্রচারণা, অপপ্রচার ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও ছাত্রদলকে সক্রিয় রাখার চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন নাছির।
তিনি জানান, তাদের দায়িত্ব পালনের সময়ে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এটিকে কোনো ব্যক্তির একক কৃতিত্ব হিসেবে দেখেননি তিনি। বরং ছাত্রদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে কিছু কমিটি সম্পন্ন করতে না পারার আক্ষেপও প্রকাশ করেন তিনি। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত অংশ সম্পন্ন করতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন ছাত্রদলের এই নেতা।
‘পদই যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি নয়’
যারা বিভিন্ন কমিটিতে দায়িত্ব পেয়েছেন, তাদের পাশাপাশি যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যারা পদ পাননি, তাদের প্রতিও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন নাছির উদ্দীন।
তিনি বলেন, কোনো একটি পদ একজন ব্যক্তির যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি নয়। যারা একটি কমিটিতে দায়িত্ব পাননি, তাদের অনেকেই ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
ছাত্রসংসদ নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়াকেও নিজের দায়িত্বকালের একটি আক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন নাছির। কোথায় ঘাটতি ছিল এবং আরও কীভাবে ভালো করা যেত—এসব প্রশ্ন তাকে ভাবিয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে এ ধরনের পরাজয় থেকেও শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে ছাত্রদল আরও শক্তিশালী, গ্রহণযোগ্য ও সংগঠিত ছাত্রসংগঠনে পরিণত হবে।
শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা
বিদায়ী বার্তায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল বকুলসহ বিএনপি ও ছাত্রদলের সিনিয়র নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান নাছির।
একই সঙ্গে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা, জেলা, মহানগর, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
নাছির বলেন, দায়িত্ব পালনের সময়ে ভুল, সীমাবদ্ধতা কিংবা সিদ্ধান্তগত ঘাটতি থাকতে পারে। তবে ছাত্রদলের স্বার্থের বাইরে গিয়ে কাজ করার ইচ্ছা তার কখনো ছিল না।
‘ছাত্রদল থেকে নয়, দায়িত্ব থেকে বিদায়’
বিদায়ী বার্তার সবচেয়ে আবেগঘন অংশে নাছির উদ্দীন বলেন, তিনি দায়িত্ব থেকে বিদায় নিচ্ছেন, কিন্তু ছাত্রদল থেকে নয়।
তিনি বলেন, পদ থেকে বিদায় নেওয়া যায়, কিন্তু আদর্শ, ভালোবাসা ও সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়া যায় না। ভবিষ্যতে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা থাকবে বলেও জানান তিনি।
প্রয়োজনে নতুন নেতৃত্বের ডাকে আগের মতোই পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে নাছির বলেন, ছাত্রদল তাকে যে পরিচয় দিয়েছে, তা কোনো পদ দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। সংগঠনের পতাকার নিচে পাওয়া বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও সম্পর্ককেই নিজের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
সহযোদ্ধাদের কাছে ক্ষমা চাইলেন
দায়িত্ব পালনের সময়ে কোনো আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে, কোনো সিদ্ধান্তে অন্যায় হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে প্রাপ্য সম্মান দিতে ব্যর্থ হলে ক্ষমা চেয়েছেন নাছির উদ্দীন।
তিনি তার পরিবারের সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। রাজনৈতিক জীবনের অনিশ্চয়তা, ব্যস্ততা, অনুপস্থিতি ও কঠিন সময়গুলো নীরবে সহ্য করার জন্য পরিবারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, সংবাদকর্মীরা তাদের কার্যক্রম মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন এবং কখনো প্রশংসা, কখনো সমালোচনা করেছেন। সেই সমালোচনাকেও প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সবশেষে নাছির উদ্দীন বলেন, তিনি একটি দায়িত্ব থেকে বিদায় নিচ্ছেন, সম্পর্ক, সংগ্রাম কিংবা আদর্শ থেকে নয়। নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
বাংলাদেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও সফল বাংলাদেশ দেখার স্বপ্ন নিয়েই তার রাজনৈতিক পথচলা অব্যাহত থাকবে বলেও বার্তায় উল্লেখ করেন ছাত্রদলের বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক।

আপনার মতামত লিখুন