জনতার প্রেস

মূল পাতা

আন্তর্জাতিক

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করল আমিরাত

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করল আমিরাত

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আবুধাবি এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

ইউএই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক আফরা আল হামেলি এক বিবৃতিতে বলেন, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক ট্রানজেকশন বন্ধ থাকবে।

বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিতের ঘোষণার প্রায় দুই ঘণ্টা আগে ইউএইর বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো ওই বার্তায় বাসিন্দাদের দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ ভবনে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সতর্কবার্তাটি প্রত্যাহার করা হয়।

এরপর ইউএই অভিযোগ করে, ইরান পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সমুদ্রসীমায় দুটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে একটি আঞ্চলিক সীমার বাইরে এবং অন্যটি ইউএইর জলসীমার ভেতরে সাগরে গিয়ে পড়ে। হামলাগুলো আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে বলেও দাবি করে আবুধাবি।

তবে ইউএইর এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাকায়ি বলেন, ইরান কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেনি। তাঁর দাবি, এ ধরনের অভিযোগ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এদিকে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি ইউএইর বন্দরগুলো থেকে বৈশ্বিক বাজারে পণ্য পরিবহন ও জ্বালানি রপ্তানির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইউএই ইরানি হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এ সময় দেশটিতে প্রায় ৩ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জুনে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার পর কয়েক দিনের জন্য হামলা বন্ধ ছিল।

সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি অ্যাডনকের (ADNOC) একাধিক তেলবাহী ট্যাংকারও হামলার শিকার হয়েছে। সর্বশেষ নিরাপত্তা সতর্কতা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্ক স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিল ইউএই।

আপনার মতামত লিখুন

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করল আমিরাত
0:00 0:00
1.0x
জনতার প্রেস

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬


ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করল আমিরাত

প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আবুধাবি এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

ইউএই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক আফরা আল হামেলি এক বিবৃতিতে বলেন, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক ট্রানজেকশন বন্ধ থাকবে।

বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিতের ঘোষণার প্রায় দুই ঘণ্টা আগে ইউএইর বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো ওই বার্তায় বাসিন্দাদের দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ ভবনে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সতর্কবার্তাটি প্রত্যাহার করা হয়।

এরপর ইউএই অভিযোগ করে, ইরান পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সমুদ্রসীমায় দুটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে একটি আঞ্চলিক সীমার বাইরে এবং অন্যটি ইউএইর জলসীমার ভেতরে সাগরে গিয়ে পড়ে। হামলাগুলো আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে বলেও দাবি করে আবুধাবি।

তবে ইউএইর এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাকায়ি বলেন, ইরান কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেনি। তাঁর দাবি, এ ধরনের অভিযোগ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এদিকে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি ইউএইর বন্দরগুলো থেকে বৈশ্বিক বাজারে পণ্য পরিবহন ও জ্বালানি রপ্তানির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইউএই ইরানি হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এ সময় দেশটিতে প্রায় ৩ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জুনে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার পর কয়েক দিনের জন্য হামলা বন্ধ ছিল।

সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি অ্যাডনকের (ADNOC) একাধিক তেলবাহী ট্যাংকারও হামলার শিকার হয়েছে। সর্বশেষ নিরাপত্তা সতর্কতা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্ক স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিল ইউএই।


জনতার প্রেস

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ আরেফিন ইসলাম 
নির্বাহী সম্পাদক
আবুল কালাম আজাদ
বার্তা সম্পাদক
মুক্তা আক্তার

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস