মনোরোগ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়াবা এখন তরুণ সমাজকে ধ্বংস করার এক ভয়ংকর ‘টাইম বোমা’। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সীমান্ত দিয়ে আসা মাদকের পাশাপাশি এখন দেশেই অবৈধ কারখানায় তৈরি হচ্ছে ইয়াবা। ইতিপূর্বে কেরানীগঞ্জসহ একাধিক স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের কারখানার সন্ধান পেয়েছে।
সহজলভ্যতার কারণে তরুণরা দ্রুত আসক্ত হয়ে পড়ছে। এর প্রভাবে পারিবারিক সহিংসতা ও নিষ্ঠুর অপরাধ চরম আকার ধারণ করেছে। মাদকের টাকার জন্য সন্তান কর্তৃক মা-বাবা কিংবা আপনজনকে হত্যার মতো নৃশংস ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক ছত্রছায়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক শ্রেণির অসাধু সদস্যের চাঁদাবাজির কারণে এই ব্যবসা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত এক সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মাদকের মূল হোতাদের দমনে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সদর দপ্তর যৌথভাবে শীর্ষ মাদক কারবারিদের নতুন তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা যে তথ্য ও উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন:
"দেশের অভ্যন্তরে যারা মাদকের কারবারে জড়িত হবে, তাদের বিরুদ্ধে চীন, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তবেই এটি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব।"
— শীর্ষ কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
দেশবরেণ্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল জানান, চিকিৎসা নিতে আসা মাদকাসক্তদের ৮০ শতাংশেরই মূল সমস্যা ইয়াবা, যাদের একটি বড় অংশ ছাত্র সমাজ।
তিনি বলেন, "হাতের নাগালে মাদক পাওয়ায় চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার পরও অনেকে আবার আসক্ত হয়ে পড়ে। মাদক নিয়ন্ত্রণ সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।"অন্যতম মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রায়হানুল ইসলাম সতর্ক করে বলেন, তরুণ সমাজকে শারীরিক ও মানসিক মরণব্যাধি থেকে বাঁচাতে মাদক নির্মূলের কোনো বিকল্প নেই। সীমানা পাহারা শক্ত করার পাশাপাশি মাদক কারবারিদের আইনি প্রক্রিয়ায় এনে দ্রুত কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
মনোরোগ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়াবা এখন তরুণ সমাজকে ধ্বংস করার এক ভয়ংকর ‘টাইম বোমা’। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সীমান্ত দিয়ে আসা মাদকের পাশাপাশি এখন দেশেই অবৈধ কারখানায় তৈরি হচ্ছে ইয়াবা। ইতিপূর্বে কেরানীগঞ্জসহ একাধিক স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের কারখানার সন্ধান পেয়েছে।
সহজলভ্যতার কারণে তরুণরা দ্রুত আসক্ত হয়ে পড়ছে। এর প্রভাবে পারিবারিক সহিংসতা ও নিষ্ঠুর অপরাধ চরম আকার ধারণ করেছে। মাদকের টাকার জন্য সন্তান কর্তৃক মা-বাবা কিংবা আপনজনকে হত্যার মতো নৃশংস ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক ছত্রছায়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক শ্রেণির অসাধু সদস্যের চাঁদাবাজির কারণে এই ব্যবসা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত এক সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মাদকের মূল হোতাদের দমনে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সদর দপ্তর যৌথভাবে শীর্ষ মাদক কারবারিদের নতুন তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা যে তথ্য ও উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন:
"দেশের অভ্যন্তরে যারা মাদকের কারবারে জড়িত হবে, তাদের বিরুদ্ধে চীন, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তবেই এটি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব।"
— শীর্ষ কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
দেশবরেণ্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল জানান, চিকিৎসা নিতে আসা মাদকাসক্তদের ৮০ শতাংশেরই মূল সমস্যা ইয়াবা, যাদের একটি বড় অংশ ছাত্র সমাজ।
তিনি বলেন, "হাতের নাগালে মাদক পাওয়ায় চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার পরও অনেকে আবার আসক্ত হয়ে পড়ে। মাদক নিয়ন্ত্রণ সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।"অন্যতম মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রায়হানুল ইসলাম সতর্ক করে বলেন, তরুণ সমাজকে শারীরিক ও মানসিক মরণব্যাধি থেকে বাঁচাতে মাদক নির্মূলের কোনো বিকল্প নেই। সীমানা পাহারা শক্ত করার পাশাপাশি মাদক কারবারিদের আইনি প্রক্রিয়ায় এনে দ্রুত কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।

আপনার মতামত লিখুন