প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
দেশজুড়ে সর্বনাশা মাদকের থাবা: তরুণ সমাজ রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
জাহিদুল ইসলাম , মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার ||
রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল—সবখানেই মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়েছে সর্বনাশা মাদকের ব্যবহার ও প্রকাশ্যে বিকিকিনি। ইয়াবা ও অনলাইন জুয়ার মতো মারাত্মক নেশায় আসক্ত হয়ে ধ্বংসের মুখে পড়ছে দেশের তরুণ ও শিক্ষার্থী সমাজ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মাদকের মূল হোতা ও গডফাদারদের দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।দেশেই তৈরি হচ্ছে ইয়াবা, ক্ষুণ্ন হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তামনোরোগ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়াবা এখন তরুণ সমাজকে ধ্বংস করার এক ভয়ংকর ‘টাইম বোমা’। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সীমান্ত দিয়ে আসা মাদকের পাশাপাশি এখন দেশেই অবৈধ কারখানায় তৈরি হচ্ছে ইয়াবা। ইতিপূর্বে কেরানীগঞ্জসহ একাধিক স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের কারখানার সন্ধান পেয়েছে।সহজলভ্যতার কারণে তরুণরা দ্রুত আসক্ত হয়ে পড়ছে। এর প্রভাবে পারিবারিক সহিংসতা ও নিষ্ঠুর অপরাধ চরম আকার ধারণ করেছে। মাদকের টাকার জন্য সন্তান কর্তৃক মা-বাবা কিংবা আপনজনকে হত্যার মতো নৃশংস ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক ছত্রছায়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক শ্রেণির অসাধু সদস্যের চাঁদাবাজির কারণে এই ব্যবসা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।জিরো টলারেন্স নীতি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানকক্সবাজারে অনুষ্ঠিত এক সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মাদকের মূল হোতাদের দমনে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সদর দপ্তর যৌথভাবে শীর্ষ মাদক কারবারিদের নতুন তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা যে তথ্য ও উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন:
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম: রাজধানীর প্রতিটি এলাকার মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা অনুযায়ী প্রতিদিনই অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
র্যাব প্রধান আহসান হাবীব পলাশ: রাজধানীসহ সারা দেশে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। অপরাধী বা গডফাদারদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তেজগাঁও বিভাগের ডিসি মো. ইবনে মিজান: হটস্পট হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদপুরের ‘জেনেভা ক্যাম্প’সহ আশপাশের এলাকায় ২৪ ঘণ্টা পুলিশের টহল অব্যাহত রয়েছে। গড়ে প্রতিদিন অর্ধশতাধিক মাদক বিক্রেতা ও অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
"দেশের অভ্যন্তরে যারা মাদকের কারবারে জড়িত হবে, তাদের বিরুদ্ধে চীন, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তবেই এটি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব।"
— শীর্ষ কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
বিশেষজ্ঞদের তাগিদ: আইনি প্রয়োগের পাশাপাশি চাই সামাজিক প্রতিরোধ
দেশবরেণ্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল জানান, চিকিৎসা নিতে আসা মাদকাসক্তদের ৮০ শতাংশেরই মূল সমস্যা ইয়াবা, যাদের একটি বড় অংশ ছাত্র সমাজ।
তিনি বলেন, "হাতের নাগালে মাদক পাওয়ায় চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার পরও অনেকে আবার আসক্ত হয়ে পড়ে। মাদক নিয়ন্ত্রণ সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।"অন্যতম মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রায়হানুল ইসলাম সতর্ক করে বলেন, তরুণ সমাজকে শারীরিক ও মানসিক মরণব্যাধি থেকে বাঁচাতে মাদক নির্মূলের কোনো বিকল্প নেই। সীমানা পাহারা শক্ত করার পাশাপাশি মাদক কারবারিদের আইনি প্রক্রিয়ায় এনে দ্রুত কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস