জনতার প্রেস

গাজীপুরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাসায় হামলার অভিযোগ, আহত দম্পতি

গাজীপুরের গাছা এলাকায় গভীর রাতে বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে একটি বাসায় হামলার অভিযোগ উঠেছে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ফুয়াদ আলম ওরফে ফাহিম (২৭) চাপাতির কোপে আহত হয়েছেন। তাঁর স্ত্রী নওরীন মহসীনের (২১) চোখেও গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে অভিযোগ। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে নগদ টাকা ও মুঠোফোন লুটের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালেও পরে থানায় মামলা করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তাঁরা।গত রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার কুনা এলাকায় নিজেদের চারতলা পৈতৃক বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী দম্পতি। গত মঙ্গলবার রাজধানীর কাওরান বাজারে দৈনিক ইত্তেফাক কার্যালয়ে এসে তাঁরা হামলা, মালামাল লুট এবং পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন।ফুয়াদের অভিযোগ, পৈতৃক সম্পত্তি থেকে তাঁকে বঞ্চিত করে বাড়িছাড়া করার উদ্দেশ্যে তাঁর বোন ভাড়াটে লোকজন দিয়ে এ হামলা করিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে তাঁর বোনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে হামলার অভিযোগফুয়াদ জানান, কুনা এলাকায় আট কাঠার বেশি জমির ওপর তাঁদের চারতলা পৈতৃক বাড়ি। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তিনি বাড়িটির দ্বিতীয় তলায় বসবাস করেন। বাবার মৃত্যুর পর তিনি ও তাঁর মা বাড়ির নিচতলায় পারিবারিক চালের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। ২০২২ সালে মায়ের মৃত্যুর পর তাঁকে ওই ব্যবসা থেকে বঞ্চিত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে হেনস্তা ও মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি তাঁর।ফুয়াদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে হামলাকারীরা প্রথমে বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এরপর লাঠিসোঁটা ও চাপাতি নিয়ে বাসায় ঢুকে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাঁর ডান হাতে চাপাতি দিয়ে কোপ দেওয়া হয়।স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে নওরীনও মারধর ও শ্লীলতাহানির শিকার হন বলে অভিযোগ করেন। এতে তাঁর চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। হামলাকারীরা তাঁদের নগদ টাকা ও মুঠোফোন নিয়ে যায় বলেও দাবি করেন এই দম্পতি।নওরীন জানান, হামলার সময় মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার আগেই তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান। পরে গাছা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে টঙ্গী হাসপাতালে নিয়ে যায়।তাঁর অভিযোগ, এ সময় হামলাকারীরা তাঁদের ও সন্তানদের হত্যার হুমকি দেয় এবং বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফুয়াদকে থানায় নেওয়ার অভিযোগভুক্তভোগী দম্পতির অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশ ফুয়াদকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। খবর পেয়ে নওরীন তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলেও পুলিশ তাতে সাড়া দেয়নি। পরে নওরীন তাঁর মুঠোফোনে ধারণ করা হামলার ভিডিও পুলিশকে দেখান। এরপর ফুয়াদকে ছেড়ে দেওয়া হলেও হামলার ঘটনায় তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তাঁরা।ফুয়াদ ও নওরীন জানান, ঘটনার পর গাছা থানায় গিয়ে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখিয়ে মামলা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশ তাঁদের মামলা গ্রহণ করেনি।পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে ফুয়াদ বলেন, প্রাণনাশের হুমকির কারণে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বাড়ি ছেড়ে থাকতে হচ্ছে তাঁদের। অভিযোগের প্রতিকার না পেয়ে পরিবার নিয়ে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটছে বলেও জানান তিনি।ফুয়াদের আরও অভিযোগ, এর আগেও তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তাঁদের মায়ের গহনা, টাকা-পয়সা ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর। পুলিশের বক্তব্যএ বিষয়ে বুধবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে হামলা করে আহত করার কোনো ঘটনা পাওয়া যায়নি। এ কারণে মামলা নেওয়া হয়নি।ওসি আরও বলেন, পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে ভাই-বোনের মধ্যে প্রায় পাঁচ বছর ধরে বিরোধ চলছে। এ বিরোধের জেরে এর আগেও তাঁদের মধ্যে থানা ও আদালতে একাধিক মামলা হয়েছে।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ এবং পুলিশের বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

গাজীপুরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাসায় হামলার অভিযোগ, আহত দম্পতি