সরকারি কর্মকর্তারা কোনো দলের নন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী: সাঈদ আহমেদ
জনতার প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদকসরকারি কর্মকর্তাদের দলীয় প্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাঈদ আহমেদ এমপি। তিনি বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তারা কোনো নির্দিষ্ট দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নন; তাঁরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। দেশের মানুষের কল্যাণে সবাইকে পেশাদারত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে কমিটির সদস্য, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।বৈঠকে নাগরিক সেবা সহজ ও দ্রুত করা, সরকারি কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক জবাবদিহি বাড়ানো এবং তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রচলিত ধ্যান-ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ববৈঠকে সাঈদ আহমেদ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোনো আইনগত, প্রশাসনিক বা বাস্তবসম্মত প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা সংসদীয় কমিটির সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। কোনো তথ্য বা প্রাসঙ্গিক নথি গোপন না করে প্রকৃত পরিস্থিতি উপস্থাপন করতে হবে।তিনি বলেন, নাগরিক সেবা সহজ ও গতিশীল করার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। ডিজিটাল সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের সময়, অর্থ ও শ্রম সাশ্রয় করা সম্ভব। এ জন্য সরকারি দপ্তরগুলোতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।কর্মকর্তাদের মানসিকতা পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সমস্যা সমাধানে পুরোনো ধ্যান-ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে স্বচ্ছতা ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। সংসদীয় কমিটিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা না করে দেশের মানুষের কল্যাণে দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে।প্রকল্পের ধীরগতির কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশবৈঠকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিসিএস প্রশাসন অ্যাকাডেমি, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, বিআইএএম ফাউন্ডেশন, জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন অ্যাকাডেমি (নাডা) এবং জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অ্যাকাডেমির (এনএপিডি) কার্যক্রম ও অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।মন্ত্রণালয়ের অধীন যেসব প্রকল্পে সরকারি বাজেট বরাদ্দের তুলনায় বাস্তবায়নের গতি কম, সেগুলোর ধীরগতির কারণ অনুসন্ধান করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।এ ছাড়া ‘সবার উপরে বাংলাদেশ’ নীতি বাস্তবায়নে সরকারের কার্যক্রমে কোনো ধরনের অসহযোগিতা বা অবহেলা থাকলে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে জাতীয়তাবাদী চেতনা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরামর্শও দেওয়া হয়।শোক প্রস্তাব ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাবৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পর উপস্থিত সদস্যদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সভাপতি সাঈদ আহমেদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।এ সময় মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করা হয়। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যারাবৈঠকে কমিটির সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এমপি, এ. বি. এম. আশরাফ উদ্দিন (নিজান) এমপি, শাহজাহান চৌধুরী এমপি, মো. আমিরুল ইসলাম খান এমপি, ফখর উদ্দিন আহমেদ এমপি, রেহেনা আক্তার রানু এমপি এবং মো. নূরুল ইসলাম এমপি উপস্থিত ছিলেন।এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।