ভোট শুরুর ৩০ মিনিট আগে স্থগিত গাজীপুর প্রেসক্লাব নির্বাচন, ক্ষোভ-হতাশা
গাজীপুর প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন ভোট গ্রহণ শুরুর মাত্র ৩০ মিনিট আগে স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে নির্ধারিত সময়ে ভোট গ্রহণ শুরুর প্রস্তুতির মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত জানায় নির্বাচন কমিশন। শেষ মুহূর্তে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় প্রার্থী ও সাধারণ সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।প্রেসক্লাবের তত্ত্বাবধায়ক মণ্ডলীর আহ্বায়ক মো. এমরান খানের স্বাক্ষরিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাসুদ রানা এবং নির্বাচন কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জিতু ও মো. বায়েজীদ হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে তত্ত্বাবধায়ক মণ্ডলীর পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। এতে ‘অনিবার্য কারণ’ উল্লেখ করে বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত নির্বাচন স্থগিত করার অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে নতুন করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।চিঠিতে স্বাক্ষর করেন তত্ত্বাবধায়ক মণ্ডলীর আহ্বায়ক মো. এমরান খান ও সদস্য দেলোয়ার হোসেন। তবে মণ্ডলীর অন্য তিন সদস্য ফারদিন ফেরদৌস, শাহ সামসুল হক রিপন ও মাজহারুল ইসলাম মাসুমের স্বাক্ষর এতে ছিল না। এ কারণে চিঠির গ্রহণযোগ্যতা এবং নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্তের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন সাংবাদিক ও প্রার্থী।নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে থাকার পরও ভোট গ্রহণের ঠিক আগে এমন সিদ্ধান্ত আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাংবাদিকেরা।দৈনিক জনকণ্ঠের সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান টিটু তাঁর ফেসবুক পোস্টে নির্বাচন অনুষ্ঠানের শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের যে প্রস্তুতি ছিল, এ সিদ্ধান্তে তা ব্যাহত হয়েছে।দৈনিক দেশ রূপান্তরের গাজীপুর প্রতিনিধি রেজাউল করিমও এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ভোট গ্রহণ শুরুর ৩০ মিনিট আগে নির্বাচন বন্ধ হওয়ায় গত ২০ দিনের প্রস্তুতি ও পরিশ্রম বৃথা হয়ে গেছে।যমুনা টেলিভিশনের গাজীপুর প্রতিনিধি মো. আল-আমিনও নির্বাচন স্থগিতের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, তত্ত্বাবধায়ক মণ্ডলীর পাঁচ সদস্যের মধ্যে তিনজনের স্বাক্ষর ছাড়া পাঠানো চিঠির ভিত্তিতে ভোট গ্রহণ বন্ধের সিদ্ধান্ত কতটা বিধিসম্মত, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে চেয়েছেন।প্রার্থীদের ক্ষোভ ও প্রশ্ননির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ও দৈনিক আগামীর সময়ের গাজীপুর প্রতিনিধি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, তাঁরা এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। তাঁর ভাষ্য, বুধবার রাত প্রায় ১২টার দিকে নির্বাচন স্থগিতের চিঠি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়। তত্ত্বাবধায়ক মণ্ডলীর পাঁচ সদস্যের মধ্যে মাত্র দুজন এতে স্বাক্ষর করেন। পরে ওই চিঠির ভিত্তিতে নির্বাচন স্থগিত করা হয়।আমিনুল ইসলাম বলেন, চিঠিতে নির্বাচন স্থগিতের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। শুধু ‘অনিবার্য কারণের’ কথা বলা হয়েছে। ফলে শেষ মুহূর্তে নির্বাচন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।অন্যদিকে সভাপতি পদপ্রার্থী ও চ্যানেল ওয়ানের গাজীপুর প্রতিনিধি মো. ইকবাল আহমেদ সরকার অভিযোগ করেন, একটি পক্ষের ষড়যন্ত্রের কারণে নির্বাচন বন্ধ হয়েছে। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন পর উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল এবং প্রার্থীরাও ভোটে অংশ নিতে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু পরাজয়ের আশঙ্কা থেকে একটি পক্ষ যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ভোট গ্রহণ শুরুর আধা ঘণ্টা আগে নির্বাচন স্থগিত করেছে বলে তিনি মনে করেন।ইকবাল আহমেদ সরকার বলেন, পাঁচ সদস্যের তত্ত্বাবধায়ক মণ্ডলীর মধ্যে মাত্র দুজনের স্বাক্ষরযুক্ত চিঠির ভিত্তিতে নির্বাচন বন্ধের সিদ্ধান্ত দুঃখজনক। এ সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রেসক্লাবের সাধারণ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশন ও তত্ত্বাবধায়ক মণ্ডলীর বক্তব্যগাজীপুর প্রেসক্লাব নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাসুদ রানা মুঠোফোনে নির্বাচন স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তত্ত্বাবধায়ক মণ্ডলীর আহ্বায়ক ও টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক মো. এমরান খান বলেন, অনিবার্য কারণবশত আপাতত নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত জানানো হবে।তবে কী কারণে ভোট গ্রহণ শুরুর ঠিক আগে নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং নতুন নির্বাচনের তারিখ কবে ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।সব মিলিয়ে, গাজীপুর প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন স্থগিতের সুনির্দিষ্ট কারণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং নতুন তফসিল ঘোষণার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রার্থী ও সাধারণ সাংবাদিকেরা।জনতার প্রেস | সত্যের পক্ষে, মানুষের পাশে।