২ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে ডিডিএন অফিসে।
চট্টগ্রামে দুই কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে দিনদুপুরে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেটে (ডিডিএন) সশস্ত্র হামলার ঘটনায় সব আসামিকে শনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনার দিন হামলাকারী সন্ত্রাসীরা তিন ভাগে ভাগ হয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে হামলা চালায়। এর আগে তাদের দেওয়া হয় ব্রিফিং। আক্রান্ত হলে পালটা আক্রমণের প্রস্তুতিও ছিল তাদের।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, সন্ত্রাসীদের এক অংশ সরাসরি উপরে উঠে প্রতিষ্ঠানে লুটপাট করে। আরেকটি অংশকে বাকলিয়া এক্সেস রোডে সশস্ত্র অবস্থা রাখা হয়। অপর একটি গ্রুপ ভবনটির আশপাশে অবস্থান নেয়। যাতে র্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলে মোকাবেলা করতে পারে।
র্যাব আরও জানিয়েছে, বর্তমানে চট্টগ্রামে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদ নামে কোনো সন্ত্রাসীর অস্তিত্ব নেই। তবে ডেভিড ইমন গ্রেফতারের কাছাকাছি আছে।
ডিডিএন কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও ৩৫ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত মাইকেলসহ সরাসরি অংশ নেওয়া ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৭। এ সময় হামলায় ব্যবহৃত চারটি দেশীয় অস্ত্রও জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- মাইকেল রোহেন মিয়া প্রকাশ মাইকেল, মো. তুহিন, আকবর হোসেন, আবদুল মুমিন, মাসাদ মিয়া, দিদার মিয়া, সানজাত হাসান, সৈকত হোসেন ও মো. সাইফুদ্দিন।
শনিবার বিকাল থেকে রোববার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
রোববার দুপুরে বহদ্দারহাট র্যাব-৭ মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ওই ঘটনায় এ নিয়ে ২১ জনকে গ্রেফতার করা হলো। এর আগে ১৪ জুলাই চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ৬ জনকে ও র্যাব দুইজনকেসহ মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করে। এরপর চকবাজার থানা পুলিশ আরও চারজনকে গ্রেফতার করে।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান জানান, ডিডিএন নামে প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় মূলহোতা তিনজন। তারা হচ্ছে মাইকেল, সানি ও রাজু। তাদের মধ্যে একজন হচ্ছে গ্রেফতারকৃত এই রোহেন মিয়া ওরফে মাইকেল। এই তিনজন বিভিন্ন স্থান থেকে ছিঁচকে সন্ত্রাসী সংগ্রহ করে। ডেভিড ইমনের নির্দেশ তারা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করে। তারা চকবাজার, বহদ্দারহাট, রাউজান থেকে লোকজন সংগ্রহ করে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলাটি পরিচালনা করে।
র্যাব জানায়, সন্ত্রাসীরা নিখুঁতভাবে পরিকল্পনা করে প্রতিষ্ঠানটিতে হামলা চালায়। ঘটনার দিন সন্ত্রাসীরা তিন ভাগে ভাগ হয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীদের এক অংশ সরাসরি উপরে উঠে প্রতিষ্ঠানে লুটপাট করে। আরেকটি অংশকে বাকলিয়া এক্সেস রোডে সশস্ত্র অবস্থায় রাখা হয়। অপর একটি গ্রুপ চন্দনপুরা এক্সেস রোডের যে ভবনটিতে হামলা চালানো হয় সেই ভবনের আশপাশে অবস্থান নেয়। যাতে র্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলে মোকাবেলা করতে পারে। মূলহোতাদের একজন মাইকেল। তার মোবাইল ফোন থেকে একটি ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে। যেখানে সে অন্যান্য ছিঁচকে সন্ত্রাসীদের হামলার আগে বিফ্রিং দিতে দেখা গেছে। ওই ভিডিও দেখে দুইজনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে।
বড় সাজ্জাদ নামে কোনো সন্ত্রাসীর অস্তিত্ব নেই
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রামে সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদ নামে কোনো আসামির অস্তিত্ব নেই।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, বড় সাজ্জাদের নাম শোনা যায় শুধু। কেউ বলে ভারতে আছে, আবার কেউ বলে দুবাইতে আছে। অনেকটা জুজুর ভয় দেখানোর মতো হয়ে গেছে। বড় সাজ্জাদ নেই। থাকলে দেশে আসতো। যে সন্ত্রাসী দেশেই আসতে পারে না তাকে নিয়ে কনসার্ন হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশে আছে ছোট সাজ্জাদ। তাকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন জেলে আছে।
ডেভিড ইমনও গ্রেফতারের কাছাকাছি
শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড সম্পর্কে র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ডেভিড ইমন সম্পর্কে আমাদের কাছে তথ্য নেই এমন নয়। আমাদের কাছে ধারণা আছে। তবে গ্রেফতারের আগপর্যন্ত প্রকাশ্যে বলা ঠিক হবে না। আমরা তাকে গ্রেফতারের খুব কাছাকাছি আছি।
গত ১১ জুলাই দীর্ঘদিনের ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘ডিজিটাল ডট নেটের (ডিডিএন)’ স্বত্বাধিকারীকে ‘ডেবিড ইমন’ পরিচয়ে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা এককালীন ২ কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করে দুই দিনের সময় বেঁধে দেয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, গত ১৩ জুলাই দুপুর সোয়া ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে চকবাজার থানাধীন চন্দনপুরা বাকলিয়া অ্যাক্সেস রোডের ‘মরিয়ম হাইটস’ ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ডিডিএন-এর অফিসে ৩০-৪০ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল সশস্ত্র হামলা চালায়।
এ ঘটনায় ডিডিএনের ব্যবস্থাপক বাদী হয়ে চকবাজার থানায় অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।