জনতার প্রেস

খামেনির শোকযাত্রায় ইরাকে কোটি মানুষের ঢল

ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির জানাজা ও শোকযাত্রায়  এক কোটিরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন আয়োজকরা।  বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই)এক বিবৃতিতে ইরাকের আয়োজন-সংক্রান্ত সর্বোচ্চ কমিটি জানায়, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় অনুষ্ঠিত শোকযাত্রায় ১ কোটির বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন। খবর প্রেস টিভির কমিটির প্রধান এবং ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ইহসান ইয়াসিন আল-আওয়াদি বলেন, লাখো মানুষের উপস্থিতি সত্ত্বেও পুরো অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে শেষ হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কোনো নিরাপত্তা সমস্যা ঘটেনি। তিনি আরও বলেন, নাজাফ ও কারবালায় অনুষ্ঠিত এই শোকযাত্রা গভীর শোক ও আবেগের সঙ্গে অনুসরণ করেছে ইসলামি বিশ্ব এবং আন্তর্জাতিক জনমত। সরকারি কর্মকর্তা, নিরাপত্তা বাহিনী, সেবাদানকারী সংস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ জানিয়ে আল-আওয়াদি বলেন, তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই আয়োজন নজিরবিহীনভাবে সফল হয়েছে এবং এটি শোক ও সংহতির এক বিরল দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে। আরও পড়ুনআরও পড়ুননিজভূমে চিরঘুমে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তার ভাষ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই ইরানের প্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন, পবিত্র ধর্মীয় স্থানের কর্তৃপক্ষ, নিরাপত্তা ও সেবাদানকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এদিকে কারবালায় ইরানের ভারপ্রাপ্ত কনসাল জেনারেল জাফর সাফারি জানান, ইরাকি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী শুধু কারবালাতেই প্রায় ৬০ লাখ মানুষ শোকযাত্রায় অংশ নিয়েছেন। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শোকযাত্রার বহর বিকেল ৪টায় কারবালায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও বিপুল জনসমাগমের কারণে তা রাত প্রায় ১টায় সেখানে পৌঁছায়। তার মতে, পুরো শোকযাত্রা শেষ হতে প্রায় ১৩ ঘণ্টা সময় লাগে, যা পূর্বনির্ধারিত সময়ের প্রায় দ্বিগুণ। কারবালা প্রদেশের বিভিন্ন উপজাতীয় গোষ্ঠী আল-হাইদারিয়া শহরের কাছে বহরটিকে অভ্যর্থনা জানিয়ে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ একসঙ্গে অতিক্রম করে। সাফারি বলেন, প্রচণ্ড গরম ও বিপুল জনসমাগম সত্ত্বেও কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে কয়েকজন ইরাকি সামান্য আহত হয়েছেন। আরও পড়ুনআরও পড়ুনখামেনির জানাজা পড়ালেন ১০১ বছর বয়সি ইমাম এর আগে লেবাননভিত্তিক আল মায়াদিন টেলিভিশন কারবালা প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, শুধু কারবালাতেই প্রায় ৭০ লাখ শোকাহত মানুষের উপস্থিতি নিবন্ধিত হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় নাজাফে ইমাম আলী (আ.)-এর মাজারে জানাজার নামাজের পর আনুষ্ঠানিক শোকযাত্রা শুরু হয়। এরপর শোকযাত্রাটি কুফা সেতু, থাওরাত আল-আশরিন মোড় এবং আল-সাদরিন স্কয়ার অতিক্রম করে কারবালার উদ্দেশে রওনা দেয়। প্রাথমিকভাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিপুল জনসমাগমের কারণে এটি নাজাফ ও কারবালার আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ শোকযাত্রায় পরিণত হয়।  শোকযাত্রায় ইরাকের ন্যাশনাল উইজডম মুভমেন্টের নেতা আম্মার আল-হাকিম এবং দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও স্টেট অব ল কোয়ালিশনের প্রধান নুরি আল-মালিকিও উপস্থিত ছিলেন। আল-মালিকি জানান, আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া এবং তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো ছিল তার দায়িত্ব।

খামেনির শোকযাত্রায় ইরাকে কোটি মানুষের ঢল