জনতার প্রেস

শিল্পকলায় পুঁথিপাঠ

বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ পুঁথি। সারাদিনের কাজ শেষে কুপি ও হারিকেনের আলোয় মানুষ জড়ো হয়ে পুঁথি শুনতেন। সন্ধ্যার সেই পুঁথি পাঠের আসরে ছন্দ, সুর আর গল্পের মেলবন্ধনে পুঁথি পাঠক মুগ্ধ করতেন শ্রোতাদের। প্রেম-বিরহ, বীরত্ব, ধর্মীয় বিশ্বাস ও মানুষের জীবনসংগ্রাম ফুটিয়ে তোলা হতো পুঁথিতে। কালের বিবর্তনে ও প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় আবহমান বাংলার লোকজ সংস্কৃতি পুঁথিপাঠ বর্তমানে প্রায় বিলুপ্ত। আর বর্তমান প্রজন্মের কাছে পুঁথিপাঠ যেন রূপকথার গল্পের মতোই। হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ পুঁথিপাঠকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যে পুঁথিপাঠের আসরের আয়োজন করেছে বাগেরহাট থিয়েটার।  নাটকের দলটির ৪৯ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে বুধবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হলে অনুষ্ঠিত হয় এই আসর। আয়োজনে পুঁথি পাঠ করে সাংস্কৃতিক সংগঠন শব্দকল্পদ্রুম।  ‎‎পুঁথি পাঠে মৈমনসিংহ-গীতিকার অংশ বিশেষ মার্কসুল ইসলামের একুশ ও স্বাধীনতার পুঁথি, কবি কালের লিখনের মাতৃভাষার পুঁথি, ফয়জুল আলম পাপ্পুর মুক্তিযুদ্ধের পুঁথি,  তামান্না সারোয়ারের ‘নীপার ষড়যন্ত্রের পুঁথি’ এবং কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ‘রাস্তায় কবিতা’ সুরে ছন্দে তুলে ধরে হয়। অংশগ্রহণকারী ‎শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন ফাওজিয়া আনজুম ইলনা, কাজী আরিশা আফসান, অনীশ চালি অভীর, ওয়াজিহা আনজুম লিয়ানা, আদিবা হোসেন, আয়াত হাসান মেহর, মেহরিমা নওশী, নুওয়াইরাহ রশিদ খাঁদি, কৃতিকা জোয়াদ্দার, ঐন্দ্রিলা মণ্ডল, আফিয়া ইবজা নাবিয়া, মৌলিনা, সৌভিক প্রণম রায় কাব্য, উর্বী বিভামিত রায়, পিদিম বিনতে শাহিন, পারমিতা মাহবুব আরিশা, প্রত্যাশা বিনতে শাহিন, ইউসরা অনুভূত, মিমহা বিনতে মনির, হীরা আক্তার, ফারহানা মিতু, নিলুফা ইয়াসমিন নীলা, তুষার কান্তি রায়, লায়লা আক্তার, লুনা আফরোজা ও নাজমুল আহসান।

শিল্পকলায় পুঁথিপাঠ