দ্বিতীয় দিনেও আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগে অনড় ইন্ডিয়া জোট
জনতার প্রেস ডেস্ক:ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে দিল্লিতে বিরোধীদের আন্দোলন দ্বিতীয় দিনেও অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) আইন অমান্য করে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ ইন্ডিয়া জোটের বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকেও আটক করা হয়।আটক হওয়ার আগে রাহুল গান্ধী বলেন, জ্ঞানেশ কুমার ‘অবৈধ’ভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাঁর পদত্যাগ করতেই হবে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের বর্তমান কর্মকাণ্ড প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে।রাহুল বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতের গণতন্ত্র ধ্বংস করছেন—এমন অভিযোগ তুলে তিনি জানান, সিইসির পদত্যাগ ও এসআইআর বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।মধ্যাহ্নভোজ থেকে যন্তর মন্তরের পথেএর আগে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনের দিকে যাওয়ার কর্মসূচিতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা পুলিশের বাধা অতিক্রম করে আকাশবাণী ভবনের অভ্যন্তরে অবস্থান নেন। সেখানে প্রায় নয় ঘণ্টা অবস্থানের পর রাতে পুলিশ তাঁদের আটক করে। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।বুধবার বিরোধী নেতারা তুলনামূলকভাবে গোপনীয় কৌশলে যন্তর মন্তরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। দুপুরে কনট প্লেসের কাছে সাগর রত্ন রেস্তোরাঁয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের আমন্ত্রণে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের ডেরেক ও’ব্রায়ান ও মহুয়া মৈত্র, সিপিএম, আরজেডি, এনসিপিসহ বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।মধ্যাহ্নভোজের পর দুটি বাসে করে নেতারা যন্তর মন্তরের দিকে রওনা হন। বাস দুটি জনপথ হয়ে অশোক রোডের দিকে এগিয়ে গেলে দিল্লি পুলিশ তা থামানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পুলিশি বাধার মুখে বাস থেমে যায়। পরে রাহুল, প্রিয়াঙ্কাসহ কয়েকজন নেতা বাস থেকে নেমে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে হেঁটে যন্তর মন্তরের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন। সেখানেই তাঁদের আটক করা হয়।আটকের সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে পুলিশ বাসে তোলার সময়ও বিরোধী কর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন। প্রিয়াঙ্কা একপর্যায়ে রাস্তায় বসে পড়েন। পরে পুলিশ তাঁদের বাসে তুলে নিয়ে যায়।‘১০০ এফআইআর হলেও আপত্তি নেই’: রাহুলআটক হওয়ার আগে রাহুল গান্ধী বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে কয়েক ডজন এফআইআর হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তাঁর ভাষায়, আরও এফআইআর হলেও তিনি পিছিয়ে যাবেন না।তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।ইন্ডিয়া জোটের নেতারা জানিয়েছেন, আগামী দিনগুলোতেও এ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।১০ অক্টোবর ফের যন্তর মন্তর কর্মসূচিএদিকে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আগামী ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, সেদিন পুলিশ আন্দোলনকারীদের যেখানে আটক করবে, সেটিকেই তারা যন্তর মন্তর হিসেবে বিবেচনা করবেন।এই কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে কয়েকটি বামপন্থী ছাত্রসংগঠন। বুধবার দিল্লি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস বলেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করলেও তাঁদের আন্দোলন থামবে না। নির্বাচন কমিশনের সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।সংবাদ সম্মেলনে সিপিএমের এসএফআই, সিপিআইয়ের এআইএসএফ, সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের এআইএসএ এবং আম আদমি পার্টির ছাত্রসংগঠন এএসএপি-এর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।এআইএসএ নেত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশনবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রসংগঠন ও বিরোধী দলগুলোর কর্মসূচির মধ্যে বিরোধ নেই। তাঁর দাবি, বিভিন্ন সংগঠন সমন্বিতভাবে আন্দোলন এগিয়ে নেবে।ফের বাতিল জ্ঞানেশ কুমারের সফরবিরোধীদের আন্দোলনের মধ্যেই বুধবার ও বৃহস্পতিবারের জন্য নির্ধারিত ছত্তিশগড় সফর স্থগিত করেছেন সিইসি জ্ঞানেশ কুমার। ছত্তিশগড়ের মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তার দপ্তর জানিয়েছে, ‘অনিবার্য কারণে’ সফরটি স্থগিত করা হয়েছে। নতুন তারিখ পরে জানানো হবে।এর আগে উত্তর প্রদেশের মেরঠ ও বারানসি এবং লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখন্ডের নির্ধারিত সফরও স্থগিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব সফর স্থগিতের পেছনে বিরোধী আন্দোলনের প্রভাব রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা থাকলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ছত্তিশগড় সফর স্থগিতের কারণ হিসেবে শুধু ‘অনিবার্য কারণের’ কথা বলা হয়েছে।জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও এসআইআর ইস্যুতে বিরোধীদের আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন তাদের কার্যক্রমের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং বিরোধীদের অভিযোগ নিয়ে পাল্টা ব্যাখ্যাও দিয়েছে।