জনতার প্রেস

রাজাপুরে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার সন্দেহ

জনতার প্রেস | ঝালকাঠি প্রতিনিধিঝালকাঠির রাজাপুরে নুরে আলম কাগজী (৩১) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাতে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন এক নারী। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের দক্ষিণ কাঠিপাড়া এলাকার কতবেলতলা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নুরে আলম রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের নৈকাঠি এলাকার আফসার আলী কাগজীর ছেলে।ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ ছাড়া এসআরবি ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্তসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করেন।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা নুরে আলমকে মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কারা এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, নারিকেলবাড়িয়া এলাকায় কামরুল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে অটোরিকশাচালক জাকির তাঁর স্ত্রী ময়নাকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন। নুরে আলমের সঙ্গে ময়নার সম্পর্ক ছিল বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। ময়নার চাচা পরিচয়ে নুরে আলম ওই বাড়িতে প্রায়ই রাত যাপন করতেন বলে জানা গেছে।এ নিয়ে বুধবার দুপুরে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে নুরে আলমের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে তিনি ময়নাদের ভাড়া বাসায় চলে যান এবং সেখানেই রাতে অবস্থান করেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।ময়না আক্তারের অভিযোগ, বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মুখোশ পরা সাত থেকে আটজন ব্যক্তি চাপাতি দেখিয়ে তাঁদের ভাড়া বাসা থেকে নুরে আলমকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাঁর কী হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।স্থানীয় বাসিন্দা মো. মজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে সড়কে এক যুবককে উলঙ্গ ও আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। ওই যুবক নিজেকে সাতুরিয়ার বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে স্ত্রী ও সন্তান থাকার কথা জানান। শাহজাহান নামে এক ব্যক্তি তাঁকে সেখানে নিয়ে এসে ফেলে গেছেন বলেও দাবি করেন ওই যুবক। তবে তাঁর আকুতি শুনেও কেউ এগিয়ে আসেননি বলে জানান মজিবুর রহমান।স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান বলেন, সকালে আহত অবস্থায় ওই যুবককে পড়ে থাকতে দেখে তিনি সাহায্য করতে এগিয়ে যান। যুবকটি তাঁর কাছে পানি চান। তাঁকে সহায়তা করতে এলাকার লোকজনকে ডাকতে গিয়ে ফিরে এসে দেখেন, যুবকটি সড়কের পাশের নালার পানিতে পড়ে আছেন।রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজাপুরে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার সন্দেহ