জনতার প্রেস

মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান: এমপিদের সম্পৃক্ত করলে শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব ছিল—শফিকুর রহমান

জনতার প্রেস ডেস্করাজধানীর মিরপুরে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালানোর আগে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ত করা হলে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হতো বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মিরপুরের সংশ্লিষ্ট এলাকায় দুটি নির্বাচনী এলাকা রয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যদের জনগণের সুবিধা-অসুবিধা দেখার দায়িত্ব রয়েছে। বড় ধরনের কোনো অভিযান পরিচালনার আগে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হলে পরিস্থিতি আরও শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হতো।তিনি বলেন, “এত বড় একটা অভিযান চালানোর আগে আমাদেরকে যদি এটাতে সম্পৃক্ত করা হতো, আমরা আশা করি যে শান্তিপূর্ণভাবে ভালো সমাধানে আমরা পৌঁছাতে পারতাম।”জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার আহ্বানভবিষ্যতে জনকল্যাণে সরকারের যেকোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান জামায়াতের আমির।তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্যোগ নেওয়া হলে জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা পাওয়া সহজ হবে এবং বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা এড়ানো সম্ভব হবে।‘রাস্তা চলাচলের জন্য, ফুটপাত পথচারীদের জন্য’মিরপুরের উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, রাস্তা ও ফুটপাতে থাকা ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সরিয়ে দেওয়াই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল। তবে নাগরিকদের অধিকার ও জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।তিনি বলেন, “দেশ আমাদের সকলের। দেশের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সকলের। আবার নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার দেখা সরকারের দায়িত্ব।”রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জীবিকার প্রয়োজনে বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে ব্যবসা করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার ঘাটতির কারণে অনেকে ফুটপাত ও সড়কে ব্যবসা করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের কাছ থেকে দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ও বার্ষিক বিভিন্ন ধরনের চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।রাস্তাঘাট ব্যবহারে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, রাস্তা মূলত যানবাহন চলাচলের জন্য এবং ফুটপাত পথচারীদের ব্যবহারের জন্য। রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন না থাকায় সাধারণ মানুষকে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের দাবিক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের পাশাপাশি তাদের জন্য বিকল্প ও উপযুক্ত ব্যবসার স্থান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন শফিকুর রহমান।তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম যে এই সমস্যার একটা টেকসই সমন্বিত সমাধান করতে হবে। এদেরও খাওয়া-বাঁচার ব্যবস্থা করা লাগবে।”ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তিদায়ক ও উপযুক্ত জায়গা তৈরি করে সেখানে ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, এতে সিটি করপোরেশন যৌক্তিক হারে ট্যাক্স পেতে পারে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি বন্ধ করার কথাও বলেন তিনি।“আমরা চাই রাস্তা রাস্তার মতো থাকুক, পরিচ্ছন্ন থাকুক এবং রাস্তায় কোনো ব্যবসা না হোক। কিন্তু এই যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা, তাদেরকেও জায়গা করে দেওয়া হোক উপযুক্ত জায়গায়। তারা যাতে ব্যবসা করতে পারে, তারা খেটে খেয়ে বাঁচতে পারে সম্মানের সঙ্গে,” বলেন তিনি।সরকারি যানবাহনে হামলা-ভাঙচুরের সমালোচনাউচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সরকারি যানবাহনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াতের আমির।তিনি বলেন, “আজকে কিছু সরকারি যানবাহন পোড়ানো হয়েছে, এটা ভাই ঠিক হয় নাই। যানবাহনের কোনো দোষ নাই।”সরকারি যানবাহন জনগণের করের অর্থে পরিচালিত হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব যানবাহন ধ্বংস হলে ক্ষতির অংশীদার সাধারণ জনগণকেই হতে হবে।সহিংসতায় আহতদের প্রতিও সমবেদনা জানান তিনি। একই সঙ্গে সবাইকে শান্ত ও ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধৈর্য ধরে সবার জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।মসজিদের সম্পত্তিতে আগুনের ঘটনায় ক্ষতিপূরণের আহ্বানমিরপুরে মসজিদের সম্পত্তিতে আগুন লাগার ঘটনা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, সেখানে একটি গোডাউন বা গোডাউনজাতীয় স্থাপনা ছিল বলে তিনি জানতে পেরেছেন। উচ্ছেদ অভিযানের সময় তার ছিঁড়ে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি জানান।মসজিদ কর্তৃপক্ষকে ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি সরকারের প্রতিও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার অনুরোধ করেন।‘শুধু মিরপুর নয়, সারা দেশের সমস্যার সমাধান করুন’দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা।তিনি বলেন, “আর শুধু মিরপুর না, কাফরুল না; সারা দেশের সমস্যার সমাধান করেন। চাঁদাবাজি বন্ধ করেন, দখলদারি বন্ধ করেন, দুর্নীতি বন্ধ করেন।”এ ছাড়া মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীতে যারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।‘প্রশাসন একা পারবে না, জনগণের সহযোগিতা লাগবে’আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান।তিনি বলেন, “প্রশাসন একা পারবে না, জনগণের সহযোগিতা লাগবে। সংগত কাজে, ভালো কাজে প্রশাসন ইনশাআল্লাহ আমাদের সবার সহযোগিতা পাবে।”তবে প্রশাসন অন্যায় বা জুলুমের ভূমিকা পালন করলে তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কথাও বলেন তিনি।“আমরা চাই না আমাদের প্রশাসন আর অতীত ফ্যাসিবাদী আমলের মতো অন্যায়ের পক্ষ নিক,” বলেন শফিকুর রহমান।তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের লালনের যে নীতি আছে, প্রশাসন যেন এটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে।”

মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান: এমপিদের সম্পৃক্ত করলে শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব ছিল—শফিকুর রহমান