জনতার প্রেস

ফিফটি শেডস’ থেকে হলিউডের আলোচনায়, প্রেমের গুঞ্জনে আবারও ডাকোটা জনসন

হলিউডের অভিনেত্রী ডাকোটা জনসনকে ঘিরে দর্শকের আগ্রহের অন্যতম কারণ তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিজীবন ও ব্যতিক্রমী ক্যারিয়ার। ‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’ তাঁকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দিলেও পরবর্তী সময়ে ভিন্নধর্মী সিনেমা, প্রযোজনা এবং নিজস্ব সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে গড়ে তুলেছেন আলাদা অবস্থান। সম্প্রতি র‍্যাপার মেশিন গান কেলির (এমজিকে) সঙ্গে তাঁকে ঘিরে ছড়িয়েছে নতুন প্রেমের গুঞ্জন।অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবন নিয়েও প্রায়ই আলোচনায় থাকেন ডাকোটা জনসন। তাঁর সঙ্গে কোনো তারকাকে প্রকাশ্যে দেখা গেলে কিংবা একসঙ্গে ছবি প্রকাশিত হলে শুরু হয় নানা জল্পনা। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে সব গুঞ্জনের বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন না এই অভিনেত্রী।সম্প্রতি টেলর সুইফট ও ট্রাভিস কেলির বিয়ের অনুষ্ঠানে ডাকোটা জনসন ও র‍্যাপার মেশিন গান কেলিকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পর নতুন করে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনো বিষয় ডাকোটা নিজে নিশ্চিত করেননি।ব্যক্তিজীবন নিয়ে জল্পনার মধ্যেও অভিনয় ও প্রযোজনার কাজে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি। বাণিজ্যিকভাবে সফল সিনেমার পাশাপাশি স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী।অভিনয়শিল্পী পরিবারে জন্ম, ছোটবেলা থেকেই সিনেমার জগতে১৯৮৯ সালের ৪ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনে জন্মগ্রহণ করেন ডাকোটা মাইয়া জনসন। তাঁর বাবা অভিনেতা ডন জনসন এবং মা অভিনেত্রী মেলানি গ্রিফিথ। তাঁর নানি টিপ্পি হেড্রেনও হলিউডের পরিচিত অভিনেত্রী।অভিনয়শিল্পী পরিবারে জন্ম হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই সিনেমার জগতের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন ডাকোটা। মাত্র নয় বছর বয়সে ‘ক্রেজি ইন আলাবামা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক হয়। ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন তাঁর তৎকালীন সৎবাবা আন্তোনিও বান্দেরাস।এরপর ধীরে ধীরে বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনায় কাজ করেন তিনি। ২০১০ সালে ডেভিড ফিঞ্চারের ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’ সিনেমায় ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেন। পরে ‘২১ জাম্প স্ট্রিট’, ‘দ্য ফাইভ-ইয়ার এনগেজমেন্ট’ এবং ‘বেস্ট্রান্ড’-এর মতো কাজেও তাঁকে দেখা যায়।তবে এসব কাজের কোনোটিই তাঁকে ‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’-এর মতো ব্যাপক আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দিতে পারেনি।‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’ বদলে দেয় ক্যারিয়ারের গতিপথ২০১৫ সালে মুক্তি পায় ই এল জেমসের একই নামের জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’। এতে আনাস্তাসিয়া স্টিল চরিত্রে অভিনয় করেন ডাকোটা জনসন। তাঁর বিপরীতে ছিলেন জেমি ডরনান।মুক্তির আগে থেকেই ছবিটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ছিল। প্রাপ্তবয়স্ক সম্পর্ক, অন্তরঙ্গতা এবং জটিল আবেগের উপস্থাপনার কারণে সিনেমাটি দর্শক ও সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।ছবিটির জন্য ডাকোটাকে অভিনয়ের পাশাপাশি অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ের মতো সংবেদনশীল বিষয়ও সামলাতে হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি এসব দৃশ্যের অভিজ্ঞতা এবং চরিত্রটি নিয়ে নিজের ভাবনার কথা বলেছেন।তবে ছবিটির সাফল্যের পাশাপাশি তাঁকে ঘিরে তৈরি হয় নতুন ধরনের আগ্রহ। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিগত পছন্দ এবং পর্দায় উপস্থাপন নিয়ে আলোচনা বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে ব্যক্তিজীবন নিয়েও দর্শকের কৌতূহল তৈরি হয়।‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’-এর বাণিজ্যিক সাফল্যের পর নির্মিত হয় ‘ফিফটি শেডস ডার্কার’ ও ‘ফিফটি শেডস ফ্রিড’। তিনটি সিনেমাই বিশ্বব্যাপী উল্লেখযোগ্য আয় করে এবং ডাকোটাকে হলিউডের পরিচিত মুখগুলোর একটিতে পরিণত করে।বাণিজ্যিক সিনেমার বাইরে ভিন্নধর্মী অভিনয়‘ফিফটি শেডস’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সাফল্যের পর ডাকোটা জনসন শুধু বাণিজ্যিক সিনেমার পরিচিত মুখ হয়ে থাকতে চাননি। বরং ভিন্নধর্মী গল্প ও চরিত্রে কাজ করে নিজের অভিনয়ক্ষমতার নতুন দিক তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।‘আ বিগার স্প্ল্যাশ’, ‘ব্ল্যাক মাস’, ‘হাউ টু বি সিঙ্গেল’, ‘ব্যাড টাইমস অ্যাট দ্য এল রয়্যাল’ এবং ‘সাসপিরিয়া’ তাঁর ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে।বিশেষ করে লুকা গুয়াদানিনোর ‘সাসপিরিয়া’ ছবিতে তাঁর অভিনয় ছিল ক্যারিয়ারের ভিন্নধর্মী একটি অধ্যায়। এতে পরিচিত রোমান্টিক চরিত্রের বাইরে জটিল ও অন্ধকার আবহের একটি গল্পে কাজ করার সুযোগ পান তিনি।বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি স্বাধীন ধারার সিনেমায় কাজ করার মধ্য দিয়ে নিজের অভিনয়জীবনকে বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করেছেন ডাকোটা।অভিনেত্রী থেকে প্রযোজকঅভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন ডাকোটা জনসন। এ লক্ষ্যে তিনি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান টি টাইম পিকচার্স গড়ে তোলেন। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রযোজনায় যুক্ত হয়েছেন তিনি।‘চা চা রিয়েল স্মুথ’, ‘অ্যাম আই ওকে?’ এবং ‘ড্যাডিও’ তাঁর প্রযোজনাসংশ্লিষ্ট কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। ‘ড্যাডিও’ ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনার দায়িত্বও পালন করেন তিনি।প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ফলে চলচ্চিত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁর। একই সঙ্গে প্রচলিত বাণিজ্যিক ধারার বাইরের গল্প ও নির্মাণের সঙ্গেও যুক্ত হতে পেরেছেন তিনি।‘ম্যাডাম ওয়েব’ নিয়ে হতাশাডাকোটা জনসনের ক্যারিয়ারে সব সিনেমা অবশ্য সমান সাফল্য পায়নি। ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া সুপারহিরো চলচ্চিত্র ‘ম্যাডাম ওয়েব’ ছিল তাঁর আলোচিত কাজগুলোর একটি।সনি পিকচার্সের এই ছবিতে ক্যাসান্দ্রা ওয়েব চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। তবে মুক্তির পর ছবিটি সমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায়। বক্স অফিসেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।ছবিটির ফলাফল আবারও মনে করিয়ে দেয়, হলিউডের বড় বাজেটের সিনেমায় অভিনয় করলেই বাণিজ্যিক সাফল্য নিশ্চিত হয় না। তবে একটি সিনেমার ফলাফল দিয়ে কোনো অভিনেতার পুরো ক্যারিয়ার মূল্যায়ন করা যায় না।ব্যক্তিজীবন নিয়ে কৌতূহল, সম্পর্ক নিয়ে নীরবতাডাকোটা জনসনের ব্যক্তিজীবন দীর্ঘদিন ধরেই বিনোদনমাধ্যমের আলোচনার বিষয়। তাঁর সঙ্গে কোনো পরিচিত তারকাকে দেখা গেলেই সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়।সম্প্রতি মেশিন গান কেলির সঙ্গে তাঁকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। তবে একসঙ্গে কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা বা ছবি প্রকাশিত হওয়া থেকেই প্রেমের সম্পর্ক নিশ্চিত করা যায় না।ডাকোটা নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সব সময় বিস্তারিত আলোচনা করতে আগ্রহী নন। ফলে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে প্রচারিত নানা তথ্যের ক্ষেত্রে নিশ্চিত বক্তব্য ও অনুমানকে আলাদা করে দেখা জরুরি।‘ভেরিটি’ নিয়ে নতুন আগ্রহডাকোটা জনসনের সাম্প্রতিক আলোচিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ভেরিটি’। কোলিন হুভারের জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছেন অ্যান হ্যাথাওয়ে ও জশ হার্টনেট।উপন্যাসটির জনপ্রিয়তা এবং পরিচিত অভিনয়শিল্পীদের উপস্থিতির কারণে সিনেমাটি নিয়ে দর্শকের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ডাকোটার ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায়ে ছবিটি কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা জানতে আগ্রহী তাঁর ভক্তরা।সম্পদ ও আয়ের উৎসডাকোটা জনসনের আর্থিক অবস্থান নিয়েও বিনোদনমাধ্যমে আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন অনলাইন সূত্রে তাঁর সম্পদের যে হিসাব প্রকাশ করা হয়, সেগুলো মূলত আনুমানিক। তাঁর প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ আর্থিক বিবরণ সর্বসাধারণের জন্য উপলব্ধ নয়।অভিনয়ের পারিশ্রমিক, চলচ্চিত্রের চুক্তি, প্রযোজনাসংশ্লিষ্ট আয় এবং অন্যান্য পেশাগত কার্যক্রম তাঁর আয়ের সম্ভাব্য উৎস। তবে নির্দিষ্ট অঙ্কের সম্পদ বা পারিশ্রমিকের তথ্য প্রকাশের আগে তার নির্ভরযোগ্য উৎস যাচাই করা প্রয়োজন।নিজের মতো করে এগিয়ে চলা‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’ ডাকোটা জনসনকে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি এনে দিয়েছিল। কিন্তু সেই পরিচিতির মধ্যেই নিজেকে একটি নির্দিষ্ট চরিত্র বা ঘরানার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি তিনি।বাণিজ্যিক সিনেমা, স্বাধীন চলচ্চিত্র, প্রযোজনা এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে নিজের ক্যারিয়ারকে ভিন্নভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন এই অভিনেত্রী।ব্যক্তিজীবন নিয়ে গুঞ্জন কিংবা কোনো সিনেমার সাফল্য-ব্যর্থতা তাঁকে আলোচনায় রাখলেও তাঁর দীর্ঘমেয়াদি পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে অভিনয়ের বৈচিত্র্য এবং প্রযোজনায় অংশগ্রহণ।হলিউডে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে ডাকোটা জনসন ভবিষ্যতে কোন ধরনের গল্প ও চরিত্র বেছে নেন, সেটিই এখন তাঁর ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায় নিয়ে আগ্রহের অন্যতম বিষয়।

ফিফটি শেডস’ থেকে হলিউডের আলোচনায়, প্রেমের গুঞ্জনে আবারও ডাকোটা জনসন