সংবিধান সংস্কারে সরকার ওয়াদা ভঙ্গ করেছে: গোলাম পরওয়ার
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে বিএনপি সরকার ওয়াদা ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে না যেতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার। বৈঠকে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের প্রস্তুতি, সাংবিধানিক সংস্কার এবং বিভিন্ন জাতীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের মাত্র ছয় মাস হয়েছে। ওয়াদা ভঙ্গ করে দেশ যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তাতে দেশে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেলে পরবর্তী সময়ে সমাধানের পথও সংকুচিত হয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।এ পরিস্থিতি এড়াতে সাংবিধানিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন জামায়াতের এই নেতা। তাঁর ভাষ্য, রাষ্ট্রপতির উচিত ক্ষমতাসীন দলকে সংবিধান সংস্কারের পথে আসার বিষয়ে ভূমিকা রাখা এবং প্রধানমন্ত্রীকে সংবিধান সংস্কার মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিগোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সরকার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করছে। তাঁর দাবি, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় প্রত্যাখ্যান করার নজির নেই। এ বিষয়ে সরকারের প্রতি জনগণের ইচ্ছার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে না যাওয়ার শিক্ষা সরকারকে নিতে হবে। একই সঙ্গে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনসহ সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন তিনি।তিস্তা মহাপরিকল্পনাও দাবিনামায়১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠকে আগামী শনিবারের লংমার্চের দাবিনামায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। ফলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জ্বালানি সংকট নিরসনের পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনাও কর্মসূচির অন্যতম দাবিতে পরিণত হয়েছে।শনিবার ঢাকা থেকে রংপুর লংমার্চআগামী শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। আয়োজকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশ হবে। এরপর সকাল ৮টায় লংমার্চের মূল যাত্রা শুরু হবে।পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাস, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা করার কথা রয়েছে। সন্ধ্যায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও শিক্ষকদের প্রসঙ্গব্রিফিংয়ে গোলাম পরওয়ার আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন পরিবর্তন করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ক্ষমতা প্রদর্শন করতে গিয়ে অতীতে অনেক সরকার কর্তৃত্ববাদী চরিত্র ধারণ করেছে; বর্তমান সরকারকে সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ঘোষণালংমার্চকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না করার কথা জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ১১ দলের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক হবে। একই সঙ্গে কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।তিনি বলেন, জনগণের কণ্ঠস্বরের প্রতি সম্মান দেখানো এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জনগণের দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।বৈঠকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, জাপগার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদও ছিলেন।