দাবি আদায় না হওয়া অসহযোগিতা কর্মসূচিতে অটল শিক্ষকরা
অচলাবস্থা নিরসনে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষকদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পরামর্শক কমিটির বৈঠকের পরও সংকট পুরোপুরি কাটেনি।
শিক্ষকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম ছাড়া পূর্বঘোষিত প্রশাসনিক কাজে অসহযোগিতা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। বৃহস্পতিবার চুয়েট কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে শিক্ষক সমিতির কার্যকরী পরিষদের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ।
উপাচার্য পরিবর্তন ঘিরে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে অচলাবস্থা দেখা দেয়। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করেন। এক পর্যায়ে গত ১২ অক্টোবর উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশের পর শিক্ষার্থীদের অবরোধের মুখে পড়েন। পরদিন তিনি প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হয়ে যান। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সংকট নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনে ১৯ অক্টোবর ইউজিসি পাঁচ সদস্যের একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীরা সর্বাত্মক শাটডাউন তুলে নিয়ে শ্রেণিকক্ষে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেও উপাচার্য ভবন তালাবদ্ধ রাখেন। গত বুধবার ইউজিসির পরামর্শক কমিটি চুয়েটে এসে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা কর্মচারীদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করে। বৈঠকে অচলাবস্থা নিরসন ও শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে রোববার থেকে সব বিভাগে ক্লাস শুরুর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। তবে আজ চুয়েট শিক্ষক সমিতি জরুরি সভা ডেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম ছাড়া পূর্বঘোষিত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।