মরিয়মের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা: মামা ওবায়দুর কারাগারে
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনায় করা প্ররোচনার মামলায় তার মামা ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওবায়দুরের পক্ষে আদালতে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ওবায়দুরকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় ওবায়দুরের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করা হয়।এর আগে গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।মামলার পরদিন আদালত গাজী নজরুল ইসলামের চার দিনের এবং মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এক দিনের রিমান্ড শেষে মাকছুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর গাজী নজরুল ইসলাম বর্তমানে চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।এদিকে, মামলাটির তদন্তভার শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ থেকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এরপর বুধবার ওবায়দুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান এবং তদন্তের স্বার্থে ভবিষ্যতে ওবায়দুরকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে। তবে আদালতে উপস্থাপিত অভিযোগ ও সাক্ষ্যপ্রমাণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।