জনতার প্রেস

বোয়ালমারীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় চলা এ সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় তিনজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ধুলজোড়া ব্রিজ এলাকায়। আহত অন্যরা বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মান্নান মাতুব্বর ও পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার খাড়দিয়া গ্রামের বিএনপি নেতা মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার জিহাদপন্থী সোলায়মান মাতুব্বর বাজার করতে গেলে মান্নান মাতুব্বরের লোকজন তাঁর ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সোলায়মান মাতুব্বর গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জিহাদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়। এতে তিনি আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।এ ঘটনার জের ধরে রোববার বিকেলে মান্নান মাতুব্বরের লোকজন পরমেশ্বরদী গ্রামের ছরোয়ার খাঁর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় বাড়ি থেকে পাট ও পেঁয়াজ লুট করে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।পরে খাড়দিয়া গ্রামের হুমায়ন খাঁ, রফিক মোল্যা ও ইলিয়াস কাজীর নেতৃত্বে এক পক্ষের লোকজনের সঙ্গে মান্নান মাতুব্বরের অনুসারীদের ধুলজোড়া ব্রিজ এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয়। দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন।আহতদের মধ্যে পরমেশ্বরদী গ্রামের বাচ্চু মোল্যার ছেলে কবির মোল্যা, হাশেম মোল্যার ছেলে কামরুল মোল্যা এবং মনসুর মোল্যার ছেলে লোকমান মোল্যাকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও অনেকে বোয়ালমারীসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে দুই পক্ষের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইজাজ আহমেদ শাওন বলেন, “সন্ধ্যার পর বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো সম্ভব হবে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”এদিকে সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

বোয়ালমারীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩০