মধ্যপ্রাচ্য মহাযুদ্ধের প্রস্তুতি;; ইজরাইলে মার্কিন যুদ্ধবিমানের ঢল, পাল্টা মার মুখি ইরান।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে এক পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাতের কালো মেঘ দেখা দিয়েছে। জর্ডানে ইরানি হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত ও একজন নিখোঁজ হওয়ার পর ওয়াশিংটনের ধৈর্য এখন তলানিতে। পাল্টা জবাবে টানা আট রাত ধরে ইরানে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইসরায়েলে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান, মাঝআকাশে জ্বালানি ভরার রিফুয়েলিং বিমান এবং অঞ্চলজুড়ে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে ইরানকে কোণঠাসা করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। যদিও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এখনই পূর্ণমাত্রার যুদ্ধকে 'অনিবার্য' বলতে নারাজ, তবে পরিস্থিতি যে কোনো মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।মার্কিন সেনা নিহতের পর ওয়াশিংটনে ‘কাজ শেষ করার’ ডাকটানা আট রাত ধরে চলা হামলা-পাল্টা হামলা এখন মধ্যপ্রাচ্যে দৈনন্দিন রুটিনে পরিণত হয়েছে। তবে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ২ মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও ১ জন নিখোঁজ হওয়ার পর সমীকরণ বদলে গেছে। সংঘর্ষ পুনরায় শুরু হওয়ার পর এটাই প্রথম মার্কিন সামরিক প্রাণহানির ঘটনা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে জর্ডানে আরও কয়েক ডজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।এই প্রাণহানির ঘটনায় হোয়াইট হাউজের ভেতরে কঠোরপন্থিদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে:
"মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ধারাবাহিক হামলার পর প্রশাসনের ভেতরে দাবি উঠেছে যে, এখন আর শুধু পাল্টা হামলা নয়, বরং ইরানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ‘কাজ শেষ করার’ সময় এসে গেছে।"
মার্কিন প্রতিরক্ষা ভেঙে ইরানের নিখুঁত আঘাত: নেপথ্যে চীন-রাশিয়া?মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জর্ডানের যে ঘাঁটিতে মার্কিন সেনারা নিহত হয়েছেন, সেই ঘাঁটির একটি টার্মিনাল ও 'থাড' (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গত মার্চ মাসেই ইরানি হামলার শিকার হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন, ইরান এখন মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। তারা এমন অত্যন্ত দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, যা ভূমির কাছে পৌঁছানোর সময় কৌশলে দিক পরিবর্তন করতে পারে।সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার এই নিখুঁত ইরানি সক্ষমতা মার্কিন মহলে চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, লক্ষ্য নির্ধারণে (Target Acquisition) ইরানকে পর্দার আড়াল থেকে চীন বা রাশিয়া সহায়তা করছে।ইসরায়েলে মার্কিন যুদ্ধবিমানের সমাগম ও রণকৌশল বদলইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন অভিযানের অংশ হিসেবে ইসরায়েলে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে ওয়াশিংটন। ইতিমধ্যে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর ঘাঁটিগুলোতে কয়েক ডজন মার্কিন রিফুয়েলিং (ট্যাঙ্কার) বিমান এসে পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি ইউরোপ থেকে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান স্থানান্তর করা হচ্ছে:
জার্মানির স্পাংডাহলেম বিমানঘাঁটি থেকে: পাঠানো হয়েছে এফ-১৬ (F-16) যুদ্ধবিমান।
ব্রিটেন থেকে: উড়িয়ে আনা হয়েছে অত্যাধুনিক স্টেলথ এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান।
পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, এই যুদ্ধবিমানগুলো মূলত ইরানের ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার রাডার ধ্বংস করার (SEAD মিশন) কাজে ব্যবহার করা হবে। এছাড়া, পূর্বের সংঘাত থেকে শিক্ষা নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী এবার ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে ড্রোন এবং অন্যান্য মানববিহীন যুদ্ধপ্রযুক্তির ব্যবহার বহুগুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে।মধ্যবর্তী নির্বাচন ও সীমিত যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যদি নতুন কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি করে, তবে তা সম্ভবত সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত রাখার চেষ্টা করা হবে। কিন্তু সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের সঙ্গে শুরু হওয়া যেকোনো সীমিত সংঘর্ষও শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে রাখা মোটেও সহজ নয়। আজ রোববার সকালেও কুয়েতে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠার ঘটনা প্রমাণ করে, যুদ্ধের আঁচ পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে।