জনতার প্রেস

মূল পাতা

সারাদেশ

৫০ কোটি টাকার বর্জ্য প্ল্যান্ট কাজে আসছে না

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
৫০ কোটি টাকার বর্জ্য প্ল্যান্ট কাজে আসছে না

যশোর শহর থেকে যশোর-নড়াইল মহাসড়ক ধরে কিছুটা এগোতেই বিজিবির রিজিয়ন হেডকোয়ার্টার পার হলেই বাতাসে ভেসে আসে পচা আবর্জনার তীব্র দুর্গন্ধ। আরেকটু গেলেই চোখে পড়ে স্তূপ হয়ে থাকা ময়লার পাহাড়; যা যশোর পৌরসভার ‘ময়লাখানা’ হিসেবে পরিচিত। পাশেই দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত যশোরের সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট। আট বছরে আয় হয়েছে মাত্র ১৫ লাখ টাকা।

যশোর পৌরসভার দীর্ঘদিনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকট দূর করে জৈব সার, বায়োগ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা নিয়ে প্রকল্পটি চালু হলেও আট বছর পর তা এখন জনভোগান্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন পৌর এলাকা থেকে আনা প্রায় ৮০ টন বর্জ্যরে মাত্র ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হচ্ছে, বাকি ৭০ থেকে ৮৫ শতাংশ বর্জ্য খোলা ভাগাড়ে জমেই চারপাশের পরিবেশ দূষিত করছে।

যশোর পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে হামিদপুরে ১৩ দশমিক ২৫ একর জমির ওপর প্ল্যান্টটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৮ সালে চালু হওয়া এ প্রকল্পে বাসাবাড়ির পচনশীল বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার ও বায়োগ্যাস তৈরি এবং সেই গ্যাস থেকে প্ল্যান্টটির প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে পরিবেশবান্ধব এ মহাপরিকল্পনার বড় অংশই থমকে গেছে। বায়োগ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। পরিচালনা প্রতিষ্ঠান দ্য স্কেট লিমিটেডের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান ব্যবস্থায় বায়োগ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচের তুলনায় গ্যাসের পরিমাণ কম হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় হাইভোল্টেজ ট্রান্সফরমেশন ব্যবস্থাও তাঁদের নেই। প্রকল্পের এ দুরবস্থার পেছনে পরিচালনা ও চুক্তির মারাত্মক অনিয়মকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। ২০২১-২২ সালের দিকে তৎকালীন মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা হায়দার গণি খান পলাশের মেয়াদে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দ্য স্কেট লিমিটেডকে একবারে ২০ বছরের জন্য প্ল্যান্টটি লিজ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, লিজগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানটি চুক্তির শর্তানুযায়ী পৌরসভার বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার বদলে একটি বেসরকারি সার কোম্পানির চাহিদামতো বাইরে থেকে গোবর ও মুরগির বিষ্ঠা এনে তা দিয়ে সার তৈরি করছে। এতে পৌরসভার মূল আবর্জনা জমে ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে।

দ্য স্কেট লিমিটেডের ম্যানেজার সোহেল রেজা বলেন, ‘উপযুক্ত ও আধুনিক সেগ্রিগেশন মেশিন যুক্ত করা গেলে বর্জ্য আলাদা করে প্রক্রিয়াজাত করার হার বাড়ানো সম্ভব।’ সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রতি মাসে ১০০ টন জৈব সার উৎপাদন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। বায়োগ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধের বিষয়ে বলেন, ‘বর্তমান ব্যবস্থায় বায়োগ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচের তুলনায় গ্যাসের পরিমাণ কম। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।’ প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ মেগা প্রকল্প থেকে পৌরসভার আর্থিক অর্জনও চরম হতাশাজনক। চালু হওয়ার পর থেকে গত আট বছরে এ কেন্দ্রটি থেকে পৌরসভার মোট আয় দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৫ লাখ টাকা। সম্প্রতি প্ল্যান্টটি পরিদর্শনে গিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। পরিবেশবান্ধব এমন একটি বড় প্রকল্প কেন ব্যর্থ হলো তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান, প্রকল্প তৈরি ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্তদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে এবং প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই ইউনিক সিস্টেমটি বর্তমানে সঠিকভাবে চলছে না। সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানের জন্য বিশেষজ্ঞ দল এবং উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

৫০ কোটি টাকা বর্জ্য প্ল্যান্ট কাজ

আপনার মতামত লিখুন

৫০ কোটি টাকার বর্জ্য প্ল্যান্ট কাজে আসছে না
0:00 0:00
1.0x
জনতার প্রেস

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬


৫০ কোটি টাকার বর্জ্য প্ল্যান্ট কাজে আসছে না

প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

যশোর শহর থেকে যশোর-নড়াইল মহাসড়ক ধরে কিছুটা এগোতেই বিজিবির রিজিয়ন হেডকোয়ার্টার পার হলেই বাতাসে ভেসে আসে পচা আবর্জনার তীব্র দুর্গন্ধ। আরেকটু গেলেই চোখে পড়ে স্তূপ হয়ে থাকা ময়লার পাহাড়; যা যশোর পৌরসভার ‘ময়লাখানা’ হিসেবে পরিচিত। পাশেই দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত যশোরের সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট। আট বছরে আয় হয়েছে মাত্র ১৫ লাখ টাকা।

যশোর পৌরসভার দীর্ঘদিনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকট দূর করে জৈব সার, বায়োগ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা নিয়ে প্রকল্পটি চালু হলেও আট বছর পর তা এখন জনভোগান্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন পৌর এলাকা থেকে আনা প্রায় ৮০ টন বর্জ্যরে মাত্র ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হচ্ছে, বাকি ৭০ থেকে ৮৫ শতাংশ বর্জ্য খোলা ভাগাড়ে জমেই চারপাশের পরিবেশ দূষিত করছে।

যশোর পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে হামিদপুরে ১৩ দশমিক ২৫ একর জমির ওপর প্ল্যান্টটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৮ সালে চালু হওয়া এ প্রকল্পে বাসাবাড়ির পচনশীল বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার ও বায়োগ্যাস তৈরি এবং সেই গ্যাস থেকে প্ল্যান্টটির প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে পরিবেশবান্ধব এ মহাপরিকল্পনার বড় অংশই থমকে গেছে। বায়োগ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। পরিচালনা প্রতিষ্ঠান দ্য স্কেট লিমিটেডের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান ব্যবস্থায় বায়োগ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচের তুলনায় গ্যাসের পরিমাণ কম হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় হাইভোল্টেজ ট্রান্সফরমেশন ব্যবস্থাও তাঁদের নেই। প্রকল্পের এ দুরবস্থার পেছনে পরিচালনা ও চুক্তির মারাত্মক অনিয়মকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। ২০২১-২২ সালের দিকে তৎকালীন মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা হায়দার গণি খান পলাশের মেয়াদে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দ্য স্কেট লিমিটেডকে একবারে ২০ বছরের জন্য প্ল্যান্টটি লিজ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, লিজগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানটি চুক্তির শর্তানুযায়ী পৌরসভার বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার বদলে একটি বেসরকারি সার কোম্পানির চাহিদামতো বাইরে থেকে গোবর ও মুরগির বিষ্ঠা এনে তা দিয়ে সার তৈরি করছে। এতে পৌরসভার মূল আবর্জনা জমে ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে।

দ্য স্কেট লিমিটেডের ম্যানেজার সোহেল রেজা বলেন, ‘উপযুক্ত ও আধুনিক সেগ্রিগেশন মেশিন যুক্ত করা গেলে বর্জ্য আলাদা করে প্রক্রিয়াজাত করার হার বাড়ানো সম্ভব।’ সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রতি মাসে ১০০ টন জৈব সার উৎপাদন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। বায়োগ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধের বিষয়ে বলেন, ‘বর্তমান ব্যবস্থায় বায়োগ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচের তুলনায় গ্যাসের পরিমাণ কম। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।’ প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ মেগা প্রকল্প থেকে পৌরসভার আর্থিক অর্জনও চরম হতাশাজনক। চালু হওয়ার পর থেকে গত আট বছরে এ কেন্দ্রটি থেকে পৌরসভার মোট আয় দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৫ লাখ টাকা। সম্প্রতি প্ল্যান্টটি পরিদর্শনে গিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। পরিবেশবান্ধব এমন একটি বড় প্রকল্প কেন ব্যর্থ হলো তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান, প্রকল্প তৈরি ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্তদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে এবং প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই ইউনিক সিস্টেমটি বর্তমানে সঠিকভাবে চলছে না। সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানের জন্য বিশেষজ্ঞ দল এবং উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।


জনতার প্রেস

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ আরেফিন ইসলাম 
নির্বাহী সম্পাদক
আবুল কালাম আজাদ
বার্তা সম্পাদক
মুক্তা আক্তার

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস