জনতার প্রেস

মূল পাতা

সারাদেশ

জাতির কাছে ক্ষমা চাইলেন মুখে ‘চুন-কালি লাগা’ সেই মাসুদ, জানালেন নিজের সিদ্ধান্ত

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
জাতির কাছে ক্ষমা চাইলেন মুখে ‘চুন-কালি লাগা’ সেই মাসুদ, জানালেন নিজের সিদ্ধান্ত
প্রথম স্ত্রীর (ডানে) সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে থাকায় অবস্থায় আপন শ্যালিকাকে (বাঁয়ে) বিয়ে করেছেন নওগাঁর টিকটকার মাসুদ ।

প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তার আপন ছোট বোনকে (শ্যালিকা) বিয়ে করে তুমুল সমালোচনার মুখে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন টিকটকার ও আইনজীবীর সহকারী মো. মাসুদ রানা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং হাত জোড় করে সবার কাছে ক্ষমা চান।

লাইভে মাসুদ রানা জানান, তাদের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল প্রথম স্ত্রীকে বহাল রেখেই আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করা। প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে শ্যালিকাকে বিয়ে করলে হয়ত এ নিয়ে আইনি বা সামাজিক প্রশ্ন উঠত না- যা তার জানা ছিল না।

তার মতে, যদি বুঝতাম এমন সম্পর্ক সমাজের চোখে অপরাধ এবং ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম, তবে আমরা কখনোই এ ধরনের করতাম না।

পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের নিয়ে ছবি ও ভিডিও প্রচার বন্ধ করার অনুরোধ জানান তিনি। একইসঙ্গে কাকে তালাক দিবেন সেটাও লাইভে জানাবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে এ বিয়েকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত এলাকা ছাড়তে হয়েছে মাসুদকে। অভিযোগ রয়েছে, মহাদেবপুরে তার মুখে চুন-কালি মাখিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

সোমবার রাত ১০টার দিকে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরাম গ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে শ্যালিকাকে বিয়ে করার বিষয়টি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে ভাড়া বাসায় থাকতে না দেওয়ার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ তুলে সোমবার সন্ধ্যায় বদলগাছী ছাড়েন মাসুদ রানা। পরে তিনি মহাদেবপুরে শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রথম স্ত্রী মৌসুমী (২৮) ও দ্বিতীয় স্ত্রী পূর্ণিমা (২১)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাসুদ রানা নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা। তার দুই স্ত্রী মৌসুমী ও পূর্ণিমার বাড়ি মহাদেবপুর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামে। এর আগে মাসুদ রানা বদলগাছী সদর ইউনিয়নের বৈরাগীপাড়ায় মুসলিম উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

গত রোববার সন্ধ্যায় পূর্ণিমাকে বিয়ে করেন মাসুদ রানা। পরিবারের সম্মতি এবং প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর অনুমতি নিয়েই এ বিয়ে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিয়ের পর তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করলে তা ছড়িয়ে পড়ে এবং শুরু হয় নানা আলোচনা।

এরপর বদলগাছী এলাকার কয়েকজন তাদের ভাড়া বাসায় থাকতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাসার মালামাল নিয়ে বদলগাছী ছাড়েন মাসুদ রানা ও পূর্ণিমা। তারা মহাদেবপুরে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান।

তবে সেখানেও পরিস্থিতি শান্ত থাকেনি। অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার রাত ১০টার দিকে মাতাজি বিরাম গ্রামে স্থানীয় কয়েকজন মাসুদ রানাকে মুখে চুন-কালি মেখে এলাকা থেকে বের করে দেন। এ ঘটনা ঘিরে এলাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, এ ধরনের বিয়ে সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের ভাষ্য, এ কারণেই তারা মাসুদ রানাকে এলাকায় থাকতে দিতে চাননি।

এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, এ বিষয়ে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা অভিযোগ করলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

 

বিয়ে স্বামী-স্ত্রী নওগাঁ

আপনার মতামত লিখুন

জাতির কাছে ক্ষমা চাইলেন মুখে ‘চুন-কালি লাগা’ সেই মাসুদ, জানালেন নিজের সিদ্ধান্ত
0:00 0:00
1.0x
জনতার প্রেস

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


জাতির কাছে ক্ষমা চাইলেন মুখে ‘চুন-কালি লাগা’ সেই মাসুদ, জানালেন নিজের সিদ্ধান্ত

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তার আপন ছোট বোনকে (শ্যালিকা) বিয়ে করে তুমুল সমালোচনার মুখে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন টিকটকার ও আইনজীবীর সহকারী মো. মাসুদ রানা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং হাত জোড় করে সবার কাছে ক্ষমা চান।

লাইভে মাসুদ রানা জানান, তাদের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল প্রথম স্ত্রীকে বহাল রেখেই আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করা। প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে শ্যালিকাকে বিয়ে করলে হয়ত এ নিয়ে আইনি বা সামাজিক প্রশ্ন উঠত না- যা তার জানা ছিল না।

তার মতে, যদি বুঝতাম এমন সম্পর্ক সমাজের চোখে অপরাধ এবং ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম, তবে আমরা কখনোই এ ধরনের করতাম না।

পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের নিয়ে ছবি ও ভিডিও প্রচার বন্ধ করার অনুরোধ জানান তিনি। একইসঙ্গে কাকে তালাক দিবেন সেটাও লাইভে জানাবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে এ বিয়েকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত এলাকা ছাড়তে হয়েছে মাসুদকে। অভিযোগ রয়েছে, মহাদেবপুরে তার মুখে চুন-কালি মাখিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

সোমবার রাত ১০টার দিকে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরাম গ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে শ্যালিকাকে বিয়ে করার বিষয়টি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে ভাড়া বাসায় থাকতে না দেওয়ার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ তুলে সোমবার সন্ধ্যায় বদলগাছী ছাড়েন মাসুদ রানা। পরে তিনি মহাদেবপুরে শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রথম স্ত্রী মৌসুমী (২৮) ও দ্বিতীয় স্ত্রী পূর্ণিমা (২১)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাসুদ রানা নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা। তার দুই স্ত্রী মৌসুমী ও পূর্ণিমার বাড়ি মহাদেবপুর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামে। এর আগে মাসুদ রানা বদলগাছী সদর ইউনিয়নের বৈরাগীপাড়ায় মুসলিম উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

গত রোববার সন্ধ্যায় পূর্ণিমাকে বিয়ে করেন মাসুদ রানা। পরিবারের সম্মতি এবং প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর অনুমতি নিয়েই এ বিয়ে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিয়ের পর তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করলে তা ছড়িয়ে পড়ে এবং শুরু হয় নানা আলোচনা।

এরপর বদলগাছী এলাকার কয়েকজন তাদের ভাড়া বাসায় থাকতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাসার মালামাল নিয়ে বদলগাছী ছাড়েন মাসুদ রানা ও পূর্ণিমা। তারা মহাদেবপুরে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান।

তবে সেখানেও পরিস্থিতি শান্ত থাকেনি। অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার রাত ১০টার দিকে মাতাজি বিরাম গ্রামে স্থানীয় কয়েকজন মাসুদ রানাকে মুখে চুন-কালি মেখে এলাকা থেকে বের করে দেন। এ ঘটনা ঘিরে এলাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, এ ধরনের বিয়ে সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের ভাষ্য, এ কারণেই তারা মাসুদ রানাকে এলাকায় থাকতে দিতে চাননি।

এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, এ বিষয়ে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা অভিযোগ করলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

 


জনতার প্রেস

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ আরেফিন ইসলাম 
নির্বাহী সম্পাদক
আবুল কালাম আজাদ
বার্তা সম্পাদক
মুক্তা আক্তার

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস