জনতার প্রেস

মূল পাতা

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না কেউ, এখন কী হবে, প্রধানমন্ত্রী কে হবেন

ইসরায়েলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না কেউ, এখন কী হবে, প্রধানমন্ত্রী কে হবেন
চলছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন।

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের নির্বাচনে বুথফেরত জরিপে কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা জোটের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশটির পরবর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়া, প্রেসিডেন্টের ভূমিকা এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

বুধবার (২৮ অক্টোবর) চ্যানেল টুয়েলভের তথ্য অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট ৫২টি আসন পেয়েছে এবং সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার নেতা গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৯টি আসন। এছাড়া আরব লিস্ট ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছে, যার ফলে ১২০ আসনের নেসেটে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি।ফলাফলের এই অচলাবস্থার কারণে আগামী ৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের জন্য যোগ্য ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাবেন। মনোনীত নেতা সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে তা আরও ১৪ দিন বৃদ্ধি করা হতে পারে। যদি কেউ প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে ব্যর্থ হন, তবে প্রেসিডেন্ট অন্য সদস্যকে সুযোগ দেবেন এবং শেষ পর্যন্ত সমাধান না হলে ৯০ দিনের মধ্যে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

এই রাজনৈতিক মেরুকরণ নিয়ে গাদি আইজেনকট জানান যে নেতানিয়াহুর প্রতি মানুষের ‘আস্থার সংকট’ রয়েছে, যা বুথফেরত জরিপে স্পষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ দাবি করেন, নেতানিয়াহুর জোট ‘শোচনীয় পরাজয়ের’ মুখোমুখি হয়েছে এবং জনগণ তাদের বাড়ি ফিরে যেতে বলেছে।

বিরোধী পক্ষের এই দাবিকে ‘আগাম উদ্‌যাপন’ বলে আখ্যা দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও লিকুদ পার্টির রাজনীতিবিদ গিদিয়ন সার সামাজিক মাধ্যমে উল্লেখ করেন, ‘লিকুদ ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়া সব সময়ের জন্যই ভালো।’ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক এহাব জাবারিন মন্তব্য করেন, ‘নেতানিয়াহু চূড়ান্ত বিজয়ী হয়েছেন কিংবা তার রাজনৈতিক জীবনের ইতি ঘটেছে—কোনোটা বলার সময়ই এখনো আসেনি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় যদি কোনো পক্ষই সরকার গঠন করতে না পারে, তবে আলোচনা চলাকালে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান হিসেবে ক্ষমতায় থেকে যেতে পারেন।’

জেরুজালেমে নিজ দলের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘লিকুদ দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। আমরা একটি শক্তিশালী নতুন জাতীয় সরকার গড়ব।’ অতীতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার কারণে ২০১৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে যেমন তিনবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তি হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিও দীর্ঘ রাজনৈতিক দর–কষাকষির দিকে ধাবিত হতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা

মধ্যপ্রাচ্য বিশ্ব সংবাদ নির্বাচন ইসরায়েল

আপনার মতামত লিখুন

ইসরায়েলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না কেউ, এখন কী হবে, প্রধানমন্ত্রী কে হবেন
0:00 0:00
1.0x
জনতার প্রেস

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


ইসরায়েলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না কেউ, এখন কী হবে, প্রধানমন্ত্রী কে হবেন

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের নির্বাচনে বুথফেরত জরিপে কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা জোটের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশটির পরবর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়া, প্রেসিডেন্টের ভূমিকা এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

বুধবার (২৮ অক্টোবর) চ্যানেল টুয়েলভের তথ্য অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট ৫২টি আসন পেয়েছে এবং সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার নেতা গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৯টি আসন। এছাড়া আরব লিস্ট ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছে, যার ফলে ১২০ আসনের নেসেটে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি।ফলাফলের এই অচলাবস্থার কারণে আগামী ৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের জন্য যোগ্য ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাবেন। মনোনীত নেতা সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে তা আরও ১৪ দিন বৃদ্ধি করা হতে পারে। যদি কেউ প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে ব্যর্থ হন, তবে প্রেসিডেন্ট অন্য সদস্যকে সুযোগ দেবেন এবং শেষ পর্যন্ত সমাধান না হলে ৯০ দিনের মধ্যে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

এই রাজনৈতিক মেরুকরণ নিয়ে গাদি আইজেনকট জানান যে নেতানিয়াহুর প্রতি মানুষের ‘আস্থার সংকট’ রয়েছে, যা বুথফেরত জরিপে স্পষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ দাবি করেন, নেতানিয়াহুর জোট ‘শোচনীয় পরাজয়ের’ মুখোমুখি হয়েছে এবং জনগণ তাদের বাড়ি ফিরে যেতে বলেছে।

বিরোধী পক্ষের এই দাবিকে ‘আগাম উদ্‌যাপন’ বলে আখ্যা দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও লিকুদ পার্টির রাজনীতিবিদ গিদিয়ন সার সামাজিক মাধ্যমে উল্লেখ করেন, ‘লিকুদ ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়া সব সময়ের জন্যই ভালো।’ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক এহাব জাবারিন মন্তব্য করেন, ‘নেতানিয়াহু চূড়ান্ত বিজয়ী হয়েছেন কিংবা তার রাজনৈতিক জীবনের ইতি ঘটেছে—কোনোটা বলার সময়ই এখনো আসেনি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় যদি কোনো পক্ষই সরকার গঠন করতে না পারে, তবে আলোচনা চলাকালে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান হিসেবে ক্ষমতায় থেকে যেতে পারেন।’

জেরুজালেমে নিজ দলের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘লিকুদ দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। আমরা একটি শক্তিশালী নতুন জাতীয় সরকার গড়ব।’ অতীতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার কারণে ২০১৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে যেমন তিনবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তি হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিও দীর্ঘ রাজনৈতিক দর–কষাকষির দিকে ধাবিত হতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা


জনতার প্রেস

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ আরেফিন ইসলাম 
নির্বাহী সম্পাদক
আবুল কালাম আজাদ
বার্তা সম্পাদক
মুক্তা আক্তার

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস