জনতার প্রেস

মূল পাতা

সারাদেশ

মোহাম্মদপুরে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, গোয়েন্দা সংস্থার দুই সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৬

প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
মোহাম্মদপুরে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, গোয়েন্দা সংস্থার দুই সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৬
প্রতিকি ছবি

জনতার প্রেস | ঢাকা

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ, মারধর ও ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে গোয়েন্দা সংস্থার দুই সদস্য ও আনসার বাহিনীর এক সদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার বাকি দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন গোয়েন্দা সংস্থার সার্জেন্ট আল মামুন (৩৯) ও ল্যান্স করপোরাল মো. নুরুজ্জামান (৩১), নিরাপত্তাকর্মী মুকুল গাজী (২৬), আনসার সদস্য সোহেল রানা (৩২), মাহফুজুর রহমান (২২) এবং গাড়িচালক জিয়াউল ইসলাম (৩৫)।

পুলিশের ফরওয়ার্ডিং প্রতিবেদন ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অপহরণের শিকার মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শরীফের পূর্বপরিচিত সোহেল রানা একই এলাকার বাসিন্দা। মোটরসাইকেল কেনায় সহযোগিতা করার কথা বলে গত শনিবার শরীফকে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনের একটি ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে নিয়ে যান সোহেল।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ফ্ল্যাটে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে বাইরে বেরিয়ে যান সোহেল। এরপর আল মামুন, নুরুজ্জামান, মুকুলসহ আরও একজন ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে শরীফকে আটকে রাখেন। এ সময় তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোটরসাইকেল কেনার জন্য শরীফের সঙ্গে ৭০ হাজার টাকা ছিল। আটকে রাখার পর তিনি ওই টাকা অভিযুক্তদের হাতে তুলে দেন। তবে এরপরও তাঁকে মারধর করা হয় এবং নতুন করে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে মুক্তিপণের টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করেন শরীফ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রোববার ভোররাত তিনটার দিকে আল মামুন, নুরুজ্জামান ও মুকুল শরীফকে ফ্ল্যাট থেকে বের করে জিয়াউল ইসলামের চালানো একটি সাদা টয়োটা প্রোবক্স গাড়িতে জোর করে তোলেন। ওই গাড়িতে মাহফুজুর রহমানও ছিলেন।

পরে শরীফকে শ্যামলীতে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের বিপরীত পাশের একটি স্থানে নেওয়া হয়। সেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা চা খেতে বাইরে গেলে গাড়ি থেকে বের হওয়ার সুযোগ পান তিনি। এ সময় পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান দেখতে পেয়ে গাড়ি থেকে লাফিয়ে নেমে পুলিশ সদস্যদের কাছে অপহরণের ঘটনা জানান শরীফ।

এরপর পুলিশ আল মামুন, নুরুজ্জামান, মুকুল, মাহফুজুর ও জিয়াউলকে আটক করে মোহাম্মদপুর থানায় খবর দেয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে শরীফের বক্তব্য শোনেন এবং পাঁচজনকে হেফাজতে নেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, রাত সাড়ে তিনটার দিকে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে অপহরণে ব্যবহৃত সাদা টয়োটা প্রোবক্স গাড়িটি জব্দ করা হয়। পরে সকাল সাতটার দিকে মোহাম্মদপুর থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় রোববার মোহাম্মদপুর থানায় আটজনকে আসামি করে মামলা করেন ভুক্তভোগী শরীফ। পরে গ্রেপ্তার ছয়জনকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানায় পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাসেল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় পলাতক বাকি দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সূত্র: পুলিশের ফরওয়ার্ডিং প্রতিবেদন ও মামলার এজাহার।

জনতার প্রেস মোহাম্মদপুরে অপহরণ ব্যবসায়ী অপহরণ, ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ, বাংলাদেশ অপরাদ

আপনার মতামত লিখুন

মোহাম্মদপুরে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, গোয়েন্দা সংস্থার দুই সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৬
0:00 0:00
1.0x
জনতার প্রেস

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


মোহাম্মদপুরে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, গোয়েন্দা সংস্থার দুই সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৬

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

জনতার প্রেস | ঢাকা

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ, মারধর ও ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে গোয়েন্দা সংস্থার দুই সদস্য ও আনসার বাহিনীর এক সদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার বাকি দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন গোয়েন্দা সংস্থার সার্জেন্ট আল মামুন (৩৯) ও ল্যান্স করপোরাল মো. নুরুজ্জামান (৩১), নিরাপত্তাকর্মী মুকুল গাজী (২৬), আনসার সদস্য সোহেল রানা (৩২), মাহফুজুর রহমান (২২) এবং গাড়িচালক জিয়াউল ইসলাম (৩৫)।

পুলিশের ফরওয়ার্ডিং প্রতিবেদন ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অপহরণের শিকার মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শরীফের পূর্বপরিচিত সোহেল রানা একই এলাকার বাসিন্দা। মোটরসাইকেল কেনায় সহযোগিতা করার কথা বলে গত শনিবার শরীফকে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনের একটি ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে নিয়ে যান সোহেল।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ফ্ল্যাটে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে বাইরে বেরিয়ে যান সোহেল। এরপর আল মামুন, নুরুজ্জামান, মুকুলসহ আরও একজন ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে শরীফকে আটকে রাখেন। এ সময় তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোটরসাইকেল কেনার জন্য শরীফের সঙ্গে ৭০ হাজার টাকা ছিল। আটকে রাখার পর তিনি ওই টাকা অভিযুক্তদের হাতে তুলে দেন। তবে এরপরও তাঁকে মারধর করা হয় এবং নতুন করে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে মুক্তিপণের টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করেন শরীফ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রোববার ভোররাত তিনটার দিকে আল মামুন, নুরুজ্জামান ও মুকুল শরীফকে ফ্ল্যাট থেকে বের করে জিয়াউল ইসলামের চালানো একটি সাদা টয়োটা প্রোবক্স গাড়িতে জোর করে তোলেন। ওই গাড়িতে মাহফুজুর রহমানও ছিলেন।

পরে শরীফকে শ্যামলীতে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের বিপরীত পাশের একটি স্থানে নেওয়া হয়। সেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা চা খেতে বাইরে গেলে গাড়ি থেকে বের হওয়ার সুযোগ পান তিনি। এ সময় পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান দেখতে পেয়ে গাড়ি থেকে লাফিয়ে নেমে পুলিশ সদস্যদের কাছে অপহরণের ঘটনা জানান শরীফ।

এরপর পুলিশ আল মামুন, নুরুজ্জামান, মুকুল, মাহফুজুর ও জিয়াউলকে আটক করে মোহাম্মদপুর থানায় খবর দেয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে শরীফের বক্তব্য শোনেন এবং পাঁচজনকে হেফাজতে নেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, রাত সাড়ে তিনটার দিকে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে অপহরণে ব্যবহৃত সাদা টয়োটা প্রোবক্স গাড়িটি জব্দ করা হয়। পরে সকাল সাতটার দিকে মোহাম্মদপুর থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় রোববার মোহাম্মদপুর থানায় আটজনকে আসামি করে মামলা করেন ভুক্তভোগী শরীফ। পরে গ্রেপ্তার ছয়জনকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানায় পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাসেল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় পলাতক বাকি দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সূত্র: পুলিশের ফরওয়ার্ডিং প্রতিবেদন ও মামলার এজাহার।


জনতার প্রেস

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ আরেফিন ইসলাম 
নির্বাহী সম্পাদক
আবুল কালাম আজাদ
বার্তা সম্পাদক
মুক্তা আক্তার

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস