জনতার প্রেস

মূল পাতা

আন্তর্জাতিক

দিল্লিতে বিক্ষোভে আটক শিক্ষার্থীদের পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
দিল্লিতে বিক্ষোভে আটক শিক্ষার্থীদের পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

জনতার প্রেস | আন্তর্জাতিক

দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে আটক হওয়া একাধিক শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী পুলিশের বিরুদ্ধে মারধর, শারীরিক হেনস্তা, দুর্ব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলেছেন। কয়েকজন বিক্ষোভকারী শরীরের আঘাতের চিহ্নও দেখিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ১০ ও ১১ অক্টোবরের বিক্ষোভ চলাকালে আটক হওয়া শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে বিবিসি। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, আটক অবস্থায় তাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

পোশাক টেনে হেনস্তা ও আটকে যাওয়ার অভিযোগ

আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী এবং স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার (এসএফআই) সদস্য শরণ্যা শর্মাকে ১১ অক্টোবরের বিক্ষোভ চলাকালে আটক করা হয়।

শরণ্যার অভিযোগ, নারী পুলিশ সদস্যরা তার পোশাক টেনে তোলেন এবং পুরুষ কমান্ডোরা জোর করে তাকে বাসে তুলে দেন। এ সময় তার চুলও টানা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

বিবিসিকে শরণ্যা বলেন, এক নারী পুলিশ সদস্য তার টি-শার্ট মাথার ওপর তুলে দিয়েছিলেন। তার অভিযোগ, তাকে অপমান করার উদ্দেশ্যেই এমন আচরণ করা হয়।

আটকের সময় বাসের দরজায় তার পা আটকে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন শরণ্যা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাসে তোলার সময় তার শরীরের একাংশ বাইরে থাকতেই কমান্ডোরা লোহার দরজা বন্ধ করে দেন। ভেতরে থাকা কয়েকজন নারী তার পা আটকে যাওয়ার কথা জানিয়ে দরজা খোলার অনুরোধ করলেও পুলিশ সদস্যরা দরজা ঠেলতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শরণ্যার দাবি, সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে তাকে আটক করে নাঙ্গলোইয়ের একটি আটককেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় এবং গভীর রাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেখানে খাবার, পানীয় জল ও শৌচাগারের মতো মৌলিক সুবিধার অভাব ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

এসএফআইয়ের দিল্লি সভাপতি এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের শিক্ষার্থী নাদিয়াকে ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভের সময় আটক করা হয়। পরে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। তা সত্ত্বেও ১২ অক্টোবর ইন্ডিয়া জোটের বিক্ষোভে অংশ নেন তিনি।

নাদিয়ার অভিযোগ, আটক অবস্থায় নারী পুলিশ সদস্যরা তার চুল টেনেছেন, চিমটি কেটেছেন এবং মারধর করেছেন। মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করার সময় এক পুলিশ সদস্য তার ফোন কেড়ে নিতে চাইলে তিনি বাধা দেন। এরপর তার ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।

নাদিয়ার ভাষ্য, বাসে তাকে টেনেহিঁচড়ে তোলা হয় এবং পা দিয়ে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তার গলা চেপে ধরারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নাদিয়া বলেন, ফোনে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করার পর প্রায় ১৫ মিনিট ধরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার ওপর হামলা চালান। তার হাতে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে থাকা কালশিটে দাগকে তিনি ওই ঘটনার আঘাতের চিহ্ন বলে উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া তাকে আধমরা অবস্থায় ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন নাদিয়া। অন্য নারী বিক্ষোভকারীদের পোশাক টেনে মাথার ওপর তুলে দিয়ে হেনস্তা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নাদিয়ার মতে, তরুণ-তরুণীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতেই এ ধরনের আচরণ করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্ন বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

বিক্ষোভকারী গবেষককে বাসে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ

দিল্লিতে পিএইচডি গবেষণারত নোভেল ১০ অক্টোবর ভগৎ সিংয়ের পোস্টার হাতে বিক্ষোভে অংশ নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে আটক করা এবং তার পোস্টার নিয়ে নেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়।

নোভেলের অভিযোগ, তাকে দিল্লি ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের একটি কমলা রঙের বাসে তুলে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। ওই সময়ে পুলিশ সদস্যরা বারবার তাকে চড় মারেন বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাসে ওঠার পর তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য মিলে মারধর করেন। বাসটি এক জায়গায় দাঁড় করানো ছিল এবং ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরপর পুলিশ সদস্যরা এসে তাকে চড় মারতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নোভেল বলেন, আগে একাধিকবার আটক হলেও এবার তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ভয় পেয়েছিলেন। কারণ, বাসে তিনি একা ছিলেন এবং পুলিশ সদস্যরা তাকে বলছিলেন, তার সঙ্গে কী ঘটছে, তা কেউ জানতে পারবে না।

তিনি আরও জানান, নিজের পরিচয়, পিএইচডি গবেষণা ও শিক্ষকতার কথা উল্লেখ করে পুলিশ সদস্যদের কাছে মুক্তি চেয়েছিলেন। তার বাবা সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন বলেও জানান তিনি। তবে এসব বলার পরও মারধর চলতে থাকে বলে অভিযোগ করেন নোভেল। প্রায় তিন ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বাসে নাবালকদের আহত হওয়ার অভিযোগ

আটক হওয়া আরেক বিক্ষোভকারীর অভিযোগ, পুলিশি হেফাজতে কয়েকজন নাবালকও ছিল এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ আহত হয়েছে। এমনকি কয়েকজনের হাড় ভেঙে যাওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। পুলিশ এমনভাবে আঘাত করছিল, যাতে শরীরে সহজে দৃশ্যমান চিহ্ন না থাকে—এমন দাবিও করেছেন তিনি।

বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন বিবিসিকে ভিডিও ও আঘাতের চিহ্ন দেখিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আটক সাংবাদিকরাও

শুধু শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীরাই নন, ১০ ও ১১ অক্টোবরের বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একাধিক সাংবাদিকও আটক হন।

কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টসের (সিপিজে) তথ্য অনুযায়ী, দিল্লি, আহমেদাবাদ ও পুনেতে অন্তত ৩৭ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৩৫ জনের বেশি ছিলেন দিল্লির সাংবাদিক।

সিপিজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক সাংবাদিকদের মধ্যে স্ক্রল, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, নিউজলন্ড্রি এবং দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস হিন্দির সাংবাদিকরাও ছিলেন।

১০ অক্টোবর আটক হওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন স্ক্রল.ইনের শোয়েব দানিয়াল ও আয়ুষ তিওয়ারি, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের অনুষ্কা ভরদ্বাজ এবং নিউজলন্ড্রির অশ্বিনী কুমার সিং, আস্থা সব্যসাচী ও অনমোল প্রীতম। নিউজলন্ড্রির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের সাংবাদিকদের মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছিল।

পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

বিক্ষোভে আটক শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের তোলা অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের বক্তব্য জানতে চেয়েছিল বিবিসি। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

আটক ব্যক্তিদের অভিযোগ এবং পুলিশের বক্তব্য—উভয় দিকের তথ্য সামনে না আসা পর্যন্ত ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া কঠিন। তবে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, এসব ঘটনার পরও তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

সূত্র: বিবিসি

আপনার মতামত লিখুন

দিল্লিতে বিক্ষোভে আটক শিক্ষার্থীদের পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ
0:00 0:00
1.0x
জনতার প্রেস

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


দিল্লিতে বিক্ষোভে আটক শিক্ষার্থীদের পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

জনতার প্রেস | আন্তর্জাতিক

দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে আটক হওয়া একাধিক শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী পুলিশের বিরুদ্ধে মারধর, শারীরিক হেনস্তা, দুর্ব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলেছেন। কয়েকজন বিক্ষোভকারী শরীরের আঘাতের চিহ্নও দেখিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ১০ ও ১১ অক্টোবরের বিক্ষোভ চলাকালে আটক হওয়া শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে বিবিসি। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, আটক অবস্থায় তাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

পোশাক টেনে হেনস্তা ও আটকে যাওয়ার অভিযোগ

আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী এবং স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার (এসএফআই) সদস্য শরণ্যা শর্মাকে ১১ অক্টোবরের বিক্ষোভ চলাকালে আটক করা হয়।

শরণ্যার অভিযোগ, নারী পুলিশ সদস্যরা তার পোশাক টেনে তোলেন এবং পুরুষ কমান্ডোরা জোর করে তাকে বাসে তুলে দেন। এ সময় তার চুলও টানা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

বিবিসিকে শরণ্যা বলেন, এক নারী পুলিশ সদস্য তার টি-শার্ট মাথার ওপর তুলে দিয়েছিলেন। তার অভিযোগ, তাকে অপমান করার উদ্দেশ্যেই এমন আচরণ করা হয়।

আটকের সময় বাসের দরজায় তার পা আটকে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন শরণ্যা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাসে তোলার সময় তার শরীরের একাংশ বাইরে থাকতেই কমান্ডোরা লোহার দরজা বন্ধ করে দেন। ভেতরে থাকা কয়েকজন নারী তার পা আটকে যাওয়ার কথা জানিয়ে দরজা খোলার অনুরোধ করলেও পুলিশ সদস্যরা দরজা ঠেলতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শরণ্যার দাবি, সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে তাকে আটক করে নাঙ্গলোইয়ের একটি আটককেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় এবং গভীর রাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেখানে খাবার, পানীয় জল ও শৌচাগারের মতো মৌলিক সুবিধার অভাব ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

এসএফআইয়ের দিল্লি সভাপতি এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের শিক্ষার্থী নাদিয়াকে ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভের সময় আটক করা হয়। পরে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। তা সত্ত্বেও ১২ অক্টোবর ইন্ডিয়া জোটের বিক্ষোভে অংশ নেন তিনি।

নাদিয়ার অভিযোগ, আটক অবস্থায় নারী পুলিশ সদস্যরা তার চুল টেনেছেন, চিমটি কেটেছেন এবং মারধর করেছেন। মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করার সময় এক পুলিশ সদস্য তার ফোন কেড়ে নিতে চাইলে তিনি বাধা দেন। এরপর তার ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।

নাদিয়ার ভাষ্য, বাসে তাকে টেনেহিঁচড়ে তোলা হয় এবং পা দিয়ে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তার গলা চেপে ধরারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নাদিয়া বলেন, ফোনে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করার পর প্রায় ১৫ মিনিট ধরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার ওপর হামলা চালান। তার হাতে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে থাকা কালশিটে দাগকে তিনি ওই ঘটনার আঘাতের চিহ্ন বলে উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া তাকে আধমরা অবস্থায় ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন নাদিয়া। অন্য নারী বিক্ষোভকারীদের পোশাক টেনে মাথার ওপর তুলে দিয়ে হেনস্তা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নাদিয়ার মতে, তরুণ-তরুণীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতেই এ ধরনের আচরণ করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্ন বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

বিক্ষোভকারী গবেষককে বাসে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ

দিল্লিতে পিএইচডি গবেষণারত নোভেল ১০ অক্টোবর ভগৎ সিংয়ের পোস্টার হাতে বিক্ষোভে অংশ নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে আটক করা এবং তার পোস্টার নিয়ে নেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়।

নোভেলের অভিযোগ, তাকে দিল্লি ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের একটি কমলা রঙের বাসে তুলে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। ওই সময়ে পুলিশ সদস্যরা বারবার তাকে চড় মারেন বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাসে ওঠার পর তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য মিলে মারধর করেন। বাসটি এক জায়গায় দাঁড় করানো ছিল এবং ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরপর পুলিশ সদস্যরা এসে তাকে চড় মারতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নোভেল বলেন, আগে একাধিকবার আটক হলেও এবার তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ভয় পেয়েছিলেন। কারণ, বাসে তিনি একা ছিলেন এবং পুলিশ সদস্যরা তাকে বলছিলেন, তার সঙ্গে কী ঘটছে, তা কেউ জানতে পারবে না।

তিনি আরও জানান, নিজের পরিচয়, পিএইচডি গবেষণা ও শিক্ষকতার কথা উল্লেখ করে পুলিশ সদস্যদের কাছে মুক্তি চেয়েছিলেন। তার বাবা সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন বলেও জানান তিনি। তবে এসব বলার পরও মারধর চলতে থাকে বলে অভিযোগ করেন নোভেল। প্রায় তিন ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বাসে নাবালকদের আহত হওয়ার অভিযোগ

আটক হওয়া আরেক বিক্ষোভকারীর অভিযোগ, পুলিশি হেফাজতে কয়েকজন নাবালকও ছিল এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ আহত হয়েছে। এমনকি কয়েকজনের হাড় ভেঙে যাওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। পুলিশ এমনভাবে আঘাত করছিল, যাতে শরীরে সহজে দৃশ্যমান চিহ্ন না থাকে—এমন দাবিও করেছেন তিনি।

বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন বিবিসিকে ভিডিও ও আঘাতের চিহ্ন দেখিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আটক সাংবাদিকরাও

শুধু শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীরাই নন, ১০ ও ১১ অক্টোবরের বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একাধিক সাংবাদিকও আটক হন।

কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টসের (সিপিজে) তথ্য অনুযায়ী, দিল্লি, আহমেদাবাদ ও পুনেতে অন্তত ৩৭ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৩৫ জনের বেশি ছিলেন দিল্লির সাংবাদিক।

সিপিজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক সাংবাদিকদের মধ্যে স্ক্রল, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, নিউজলন্ড্রি এবং দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস হিন্দির সাংবাদিকরাও ছিলেন।

১০ অক্টোবর আটক হওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন স্ক্রল.ইনের শোয়েব দানিয়াল ও আয়ুষ তিওয়ারি, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের অনুষ্কা ভরদ্বাজ এবং নিউজলন্ড্রির অশ্বিনী কুমার সিং, আস্থা সব্যসাচী ও অনমোল প্রীতম। নিউজলন্ড্রির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের সাংবাদিকদের মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছিল।

পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

বিক্ষোভে আটক শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের তোলা অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের বক্তব্য জানতে চেয়েছিল বিবিসি। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

আটক ব্যক্তিদের অভিযোগ এবং পুলিশের বক্তব্য—উভয় দিকের তথ্য সামনে না আসা পর্যন্ত ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া কঠিন। তবে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, এসব ঘটনার পরও তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

সূত্র: বিবিসি


জনতার প্রেস

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ আরেফিন ইসলাম 
নির্বাহী সম্পাদক
আবুল কালাম আজাদ
বার্তা সম্পাদক
মুক্তা আক্তার

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস