ফরিদপুর প্রতিনিধি | জনতার প্রেস
ফরিদপুরে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা সুলায়মান হোসাইনের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি লিখে নেওয়ার চেষ্টা, হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ করেছেন ৮২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। আলতাফ হোসেন নামের ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন, জমি লিখে না দিলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ কবর দেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন আলতাফ হোসেন। তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের নিখুরদী গ্রামের বাসিন্দা।
আলতাফ হোসেনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সুলায়মান হোসাইনের পক্ষ থেকে তাঁদের জমি দখলের চেষ্টা, চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। পাঁচটি দাগে প্রায় ৫৯ শতক জমি দখলে নেওয়ার জন্য তাঁদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আলতাফ হোসেন বলেন, জমি নিয়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য একাধিকবার সালিস হয়েছে। বিষয়টি থানা ও আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। এরপরও তাঁকে জমি জোরপূর্বক লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, তাঁর ছোট ছেলে ইউসুফ হোসেন নূর বর্তমানে মাগুরায় পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত। জমি নিয়ে বিরোধের প্রতিবাদ করায় তাঁর ছেলেকে চাকরিচ্যুত করতে বিভিন্ন মহলে তদবির করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আলতাফ হোসেনের দাবি, ইউসুফ নূর বাদী হয়ে সুলায়মান হোসাইনকে আসামি করে ২০২৩ সালে ভূমি প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা করেন। এর জেরে তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলন–সংক্রান্ত একটি হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আলতাফ হোসেন জানান, ভূমি প্রতিরোধ আইনের ওই মামলায় সম্প্রতি সুলায়মান হোসাইনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার এসআই সমীর কুমার দাস পরোয়ানা তামিল করতে সুলায়মানের বাড়িতে গেলে তিনি পুলিশের সঙ্গে উগ্র আচরণ করেন এবং তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার হুমকি দেন। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিরাপত্তা দাবি করে আলতাফ হোসেন বলেন, তাঁর বাড়ি থেকে সুলায়মানের বাড়ির দূরত্ব প্রায় ১০ ফুট। রাতে বাড়িতে এসে সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলা হয় এবং জমি লিখে না দিলে মৃত্যুর পর কবরেও মাটি দিতে দেওয়া হবে না—এমন হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে আলতাফ হোসেনের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা সুলায়মান হোসাইন।
তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগ বানোয়াট। জমিগুলো নিয়ে আমার বাবার নামে বৈধ দলিল রয়েছে। বাবার মৃত্যুর পর ওই জমি দখল করে আমাদের ছোটবেলায় উচ্ছেদ করা হয়েছিল। বাবার বৈধ জমি বুঝে নিতে গেলে এই বিরোধের সৃষ্টি হয়।’
সুলায়মান আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের বাড়িতে একটি সালিস হয়। সেখানে সিদ্ধান্তের পর আলতাফ হোসেন স্বাক্ষর করলেও পরে বাড়িতে ফিরে সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জমি বুঝিয়ে দেননি বলে দাবি করেন তিনি।
সাদা কাগজে আলতাফ হোসেনের কাছ থেকে কোনো স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন সুলায়মান। তাঁর ভাষ্য, বর্তমানে জমি নিয়ে আদালতে বণ্টন মামলা চলমান। ফলে বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন।
ঘটনার বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার এসআই সমীর কুমার দাস বলেন, গত ৮ জুলাই রাতে তিনি আদালতের পরোয়ানা তামিল করতে সুলায়মানের বাড়িতে গিয়েছিলেন।
তাঁর ভাষ্য, সুলায়মান প্রথমে তাঁর সঙ্গে উগ্র আচরণ করেন। পরে তিনি ফোনে কৃষক দলের এক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। ওই নেতা সুলায়মান অসুস্থ উল্লেখ করে পরদিন আদালতে আত্মসমর্পণের পরামর্শ দেন। পরদিন সুলায়মান আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
বিষয়টি সম্পর্কে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী বলেন, এ ঘটনা সম্পর্কে তাঁর বিস্তারিত জানা নেই। তবে আদালতের নির্দেশে কেউ কোনো জমি ফিরে পেলে সেই জমির ভোগদখলে আইনগত বাধা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ অন্যায় বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দলীয়ভাবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
ফরিদপুর প্রতিনিধি | জনতার প্রেস
ফরিদপুরে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা সুলায়মান হোসাইনের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি লিখে নেওয়ার চেষ্টা, হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ করেছেন ৮২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। আলতাফ হোসেন নামের ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন, জমি লিখে না দিলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ কবর দেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন আলতাফ হোসেন। তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের নিখুরদী গ্রামের বাসিন্দা।
আলতাফ হোসেনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সুলায়মান হোসাইনের পক্ষ থেকে তাঁদের জমি দখলের চেষ্টা, চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। পাঁচটি দাগে প্রায় ৫৯ শতক জমি দখলে নেওয়ার জন্য তাঁদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আলতাফ হোসেন বলেন, জমি নিয়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য একাধিকবার সালিস হয়েছে। বিষয়টি থানা ও আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। এরপরও তাঁকে জমি জোরপূর্বক লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, তাঁর ছোট ছেলে ইউসুফ হোসেন নূর বর্তমানে মাগুরায় পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত। জমি নিয়ে বিরোধের প্রতিবাদ করায় তাঁর ছেলেকে চাকরিচ্যুত করতে বিভিন্ন মহলে তদবির করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আলতাফ হোসেনের দাবি, ইউসুফ নূর বাদী হয়ে সুলায়মান হোসাইনকে আসামি করে ২০২৩ সালে ভূমি প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা করেন। এর জেরে তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলন–সংক্রান্ত একটি হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আলতাফ হোসেন জানান, ভূমি প্রতিরোধ আইনের ওই মামলায় সম্প্রতি সুলায়মান হোসাইনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার এসআই সমীর কুমার দাস পরোয়ানা তামিল করতে সুলায়মানের বাড়িতে গেলে তিনি পুলিশের সঙ্গে উগ্র আচরণ করেন এবং তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার হুমকি দেন। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিরাপত্তা দাবি করে আলতাফ হোসেন বলেন, তাঁর বাড়ি থেকে সুলায়মানের বাড়ির দূরত্ব প্রায় ১০ ফুট। রাতে বাড়িতে এসে সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলা হয় এবং জমি লিখে না দিলে মৃত্যুর পর কবরেও মাটি দিতে দেওয়া হবে না—এমন হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে আলতাফ হোসেনের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা সুলায়মান হোসাইন।
তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগ বানোয়াট। জমিগুলো নিয়ে আমার বাবার নামে বৈধ দলিল রয়েছে। বাবার মৃত্যুর পর ওই জমি দখল করে আমাদের ছোটবেলায় উচ্ছেদ করা হয়েছিল। বাবার বৈধ জমি বুঝে নিতে গেলে এই বিরোধের সৃষ্টি হয়।’
সুলায়মান আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের বাড়িতে একটি সালিস হয়। সেখানে সিদ্ধান্তের পর আলতাফ হোসেন স্বাক্ষর করলেও পরে বাড়িতে ফিরে সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জমি বুঝিয়ে দেননি বলে দাবি করেন তিনি।
সাদা কাগজে আলতাফ হোসেনের কাছ থেকে কোনো স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন সুলায়মান। তাঁর ভাষ্য, বর্তমানে জমি নিয়ে আদালতে বণ্টন মামলা চলমান। ফলে বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন।
ঘটনার বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার এসআই সমীর কুমার দাস বলেন, গত ৮ জুলাই রাতে তিনি আদালতের পরোয়ানা তামিল করতে সুলায়মানের বাড়িতে গিয়েছিলেন।
তাঁর ভাষ্য, সুলায়মান প্রথমে তাঁর সঙ্গে উগ্র আচরণ করেন। পরে তিনি ফোনে কৃষক দলের এক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। ওই নেতা সুলায়মান অসুস্থ উল্লেখ করে পরদিন আদালতে আত্মসমর্পণের পরামর্শ দেন। পরদিন সুলায়মান আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
বিষয়টি সম্পর্কে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী বলেন, এ ঘটনা সম্পর্কে তাঁর বিস্তারিত জানা নেই। তবে আদালতের নির্দেশে কেউ কোনো জমি ফিরে পেলে সেই জমির ভোগদখলে আইনগত বাধা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ অন্যায় বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দলীয়ভাবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন