কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি পোস্ট ও মন্তব্যের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের লেখা ও এআই দিয়ে তৈরি লেখা আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। নিম্নমানের ও অপ্রয়োজনীয় এ ধরনের কনটেন্ট ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে পেশাজীবীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই দিয়ে তৈরি বলে সন্দেহ হওয়া কোনো পোস্ট বা মন্তব্য সহজে শনাক্ত করে প্রতিবেদন করার সুবিধা দিতে নতুন একটি বাটন চালু করছে লিংকডইন।
‘সিমস লাইক এআই স্লপ’ নামের ওই বাটনে ক্লিক করে ব্যবহারকারীরা এআই দিয়ে তৈরি এবং নিম্নমানের বা অপ্রয়োজনীয় মনে হওয়া পোস্ট ও মন্তব্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
সম্প্রতি প্যাংগ্রাম নামের একটি প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় দেখা গেছে, লিংকডইনে প্রকাশিত দীর্ঘ পোস্টের প্রায় ৪১ শতাংশই এআই দিয়ে তৈরি। অর্থাৎ প্রতি ১০টি দীর্ঘ পোস্টের মধ্যে প্রায় চারটি মানুষের বদলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে লেখা হচ্ছে। গবেষণার এ ফল প্রকাশের পরই নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানায় লিংকডইন।
লিংকডইনের প্রধান পণ্য কর্মকর্তা হরি শ্রীনিবাসন বলেন, এআই দিয়ে তৈরি নিম্নমানের কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মটির অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবহারকারীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসব কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের অভিযোগ ও প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করা হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে এআই দিয়ে তৈরি নিম্নমানের পোস্ট ও মন্তব্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা সহজ হবে।
লিংকডইন আরও জানিয়েছে, তারা প্রতিদিন হাজার হাজার স্বয়ংক্রিয় মন্তব্য এবং লাখ লাখ বটের কার্যক্রম বন্ধ করছে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের খবরের পাতায় এআই দিয়ে তৈরি নিম্নমানের কনটেন্ট পৌঁছানোর আগেই তা শনাক্ত করে কমিয়ে আনার কাজও চলছে।
শুধু লিংকডইন নয়, এআই-নির্ভর নিম্নমানের কনটেন্ট ঠেকাতে অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রকাশনা প্ল্যাটফর্ম সাবস্ট্যাক সম্প্রতি এআই দিয়ে লেখা নিবন্ধ শনাক্ত করার একটি ব্যবস্থা চালু করেছে। অন্যদিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ার জানিয়েছে, ইন্টারনেটে মানুষের তুলনায় স্বয়ংক্রিয় বটের কার্যক্রম এখন আরও বেশি দেখা যাচ্ছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের কাজ সহজ করলেও এর অপব্যবহারও বাড়ছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্য ও মানসম্মত কনটেন্ট নিশ্চিত করতে নতুন ধরনের নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। লিংকডইনের নতুন উদ্যোগ সেই প্রচেষ্টারই অংশ।

শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি পোস্ট ও মন্তব্যের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের লেখা ও এআই দিয়ে তৈরি লেখা আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। নিম্নমানের ও অপ্রয়োজনীয় এ ধরনের কনটেন্ট ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে পেশাজীবীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই দিয়ে তৈরি বলে সন্দেহ হওয়া কোনো পোস্ট বা মন্তব্য সহজে শনাক্ত করে প্রতিবেদন করার সুবিধা দিতে নতুন একটি বাটন চালু করছে লিংকডইন।
‘সিমস লাইক এআই স্লপ’ নামের ওই বাটনে ক্লিক করে ব্যবহারকারীরা এআই দিয়ে তৈরি এবং নিম্নমানের বা অপ্রয়োজনীয় মনে হওয়া পোস্ট ও মন্তব্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
সম্প্রতি প্যাংগ্রাম নামের একটি প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় দেখা গেছে, লিংকডইনে প্রকাশিত দীর্ঘ পোস্টের প্রায় ৪১ শতাংশই এআই দিয়ে তৈরি। অর্থাৎ প্রতি ১০টি দীর্ঘ পোস্টের মধ্যে প্রায় চারটি মানুষের বদলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে লেখা হচ্ছে। গবেষণার এ ফল প্রকাশের পরই নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানায় লিংকডইন।
লিংকডইনের প্রধান পণ্য কর্মকর্তা হরি শ্রীনিবাসন বলেন, এআই দিয়ে তৈরি নিম্নমানের কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মটির অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবহারকারীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসব কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের অভিযোগ ও প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করা হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে এআই দিয়ে তৈরি নিম্নমানের পোস্ট ও মন্তব্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা সহজ হবে।
লিংকডইন আরও জানিয়েছে, তারা প্রতিদিন হাজার হাজার স্বয়ংক্রিয় মন্তব্য এবং লাখ লাখ বটের কার্যক্রম বন্ধ করছে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের খবরের পাতায় এআই দিয়ে তৈরি নিম্নমানের কনটেন্ট পৌঁছানোর আগেই তা শনাক্ত করে কমিয়ে আনার কাজও চলছে।
শুধু লিংকডইন নয়, এআই-নির্ভর নিম্নমানের কনটেন্ট ঠেকাতে অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রকাশনা প্ল্যাটফর্ম সাবস্ট্যাক সম্প্রতি এআই দিয়ে লেখা নিবন্ধ শনাক্ত করার একটি ব্যবস্থা চালু করেছে। অন্যদিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ার জানিয়েছে, ইন্টারনেটে মানুষের তুলনায় স্বয়ংক্রিয় বটের কার্যক্রম এখন আরও বেশি দেখা যাচ্ছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের কাজ সহজ করলেও এর অপব্যবহারও বাড়ছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্য ও মানসম্মত কনটেন্ট নিশ্চিত করতে নতুন ধরনের নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। লিংকডইনের নতুন উদ্যোগ সেই প্রচেষ্টারই অংশ।

আপনার মতামত লিখুন