জনতার প্রেস

মূল পাতা

অর্থনীতি

অগ্রণী ব্যাংকে টাকা রেখে এখন হিসাবের অস্তিত্ব পাচ্ছেন না ৩১৫ গ্রাহক

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
অগ্রণী ব্যাংকে টাকা রেখে এখন হিসাবের অস্তিত্ব পাচ্ছেন না ৩১৫ গ্রাহক

অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর শাখার ৩১৫ গ্রাহকের প্রায় ৩০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। গ্রাহকদের অভিযোগ, নিয়ম মেনে টাকা জমা রাখলেও এখন ব্যাংকে তাঁদের হিসাবের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আমানতের টাকাও তুলতে পারছেন না তাঁরা।

আমানতের অর্থ ফেরত ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা। বেলা দুইটায় অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন ভুক্তভোগী গ্রাহক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক জাফরিন আলম ওরফে রাখী। এ ঘটনায় অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত আবেদনও করেছেন তাঁরা।

আবেদনে বলা হয়েছে, শ্রীনগর শাখায় আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনায় বহু গ্রাহক তাঁদের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের অর্থ হারিয়ে চরম আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। তাঁদের অনেকে সারা জীবনের সঞ্চয়, অবসরকালীন অর্থ ও ব্যবসার মূলধন ব্যাংকে জমা রেখেছিলেন। কিন্তু আমানতের অর্থ ফেরত না পাওয়ায় তাঁরা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে অগ্রণী ব্যাংকের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখেই গ্রাহকেরা তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ জমা রেখেছেন। তাই শাখায় সংঘটিত অনিয়ম ও জালিয়াতির কারণে আমানতকারীরা যেন তাঁদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

টাকা জমার বার্তা পেয়েও হিসাব নেই

মানববন্ধনের পর জাফরিন আলম প্রথম আলোকে বলেন, অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখায় যথাযথ নিয়ম মেনেই তাঁরা টাকা জমা রেখেছেন। কিন্তু এখন টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক থেকে বলা হচ্ছে, তাঁদের নামে সেখানে কোনো হিসাব নেই।

জাফরিন আলম বলেন, ‘আমি নিজে ১০ লাখ টাকা জমা দিয়েছি। মোবাইলে জমা হওয়ার বার্তা এসেছে। আরেক দফায় আরও ৫ লাখ টাকা জমা দিয়েছি। তখন বার্তা না আসায় ব্যাংকে গিয়ে কারণ জানতে চাইলে বলা হয়, সফটওয়্যারের সমস্যা। আমার মতো এমন ভুক্তভোগী অনেকেই আছেন। আমরা টাকা ফেরত চাই ও প্রতারক চক্রের শাস্তি চাই।’

ব্যাংকটির আরেক গ্রাহক ফারহানা আলম প্রথম আলোকে জানান, তিনি দুই দফায় তিন লাখ টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) করেছিলেন। তাঁর কাছে জমার রসিদও রয়েছে। কিন্তু এখন টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পারসোমা আলমের কাছে গিয়েও কোনো সমাধান পাননি তিনি।

ফারহানা আলম অভিযোগ করেন, ‘শাখার কর্মকর্তাদের বাঁচাতে ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা এখন এমন কথা বলছেন যেন আমরা ব্যক্তিগত লেনদেন করেছি। আমরা টাকা ফেরত চাই।’

ভুক্তভোগীদের সাত দফা দাবি

মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা শ্রীনগর শাখার আর্থিক জালিয়াতি ও অনিয়মের ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের আমানত ও আর্থিক ক্ষতির সঠিক তালিকা তৈরি এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এ ছাড়া বৈধ ও প্রমাণিত আমানতের অর্থ দ্রুত ফেরত দিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকেরা। অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও ব্যাংকিং বিধিবিধান অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি তাঁদের।

ভুক্তভোগীদের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাটি দুই মাস আগের। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শেষে মামলা করেছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। প্রত্যেক গ্রাহক টাকা ফেরত পাবেন। তবে তার আগে টাকা জমা হওয়ার সত্যতা পরীক্ষা করতে হবে। সেই কাজই এখন চলছে।

ব্যাংক বাণিজ্য বাংলাদেশ ব্যাংক মুন্সিগঞ্জ অগ্রণী ব্যাংক ব্যাংক খাত আমানত

আপনার মতামত লিখুন

অগ্রণী ব্যাংকে টাকা রেখে এখন হিসাবের অস্তিত্ব পাচ্ছেন না ৩১৫ গ্রাহক
0:00 0:00
1.0x
জনতার প্রেস

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


অগ্রণী ব্যাংকে টাকা রেখে এখন হিসাবের অস্তিত্ব পাচ্ছেন না ৩১৫ গ্রাহক

প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর শাখার ৩১৫ গ্রাহকের প্রায় ৩০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। গ্রাহকদের অভিযোগ, নিয়ম মেনে টাকা জমা রাখলেও এখন ব্যাংকে তাঁদের হিসাবের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আমানতের টাকাও তুলতে পারছেন না তাঁরা।

আমানতের অর্থ ফেরত ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা। বেলা দুইটায় অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন ভুক্তভোগী গ্রাহক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক জাফরিন আলম ওরফে রাখী। এ ঘটনায় অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত আবেদনও করেছেন তাঁরা।

আবেদনে বলা হয়েছে, শ্রীনগর শাখায় আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনায় বহু গ্রাহক তাঁদের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের অর্থ হারিয়ে চরম আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। তাঁদের অনেকে সারা জীবনের সঞ্চয়, অবসরকালীন অর্থ ও ব্যবসার মূলধন ব্যাংকে জমা রেখেছিলেন। কিন্তু আমানতের অর্থ ফেরত না পাওয়ায় তাঁরা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে অগ্রণী ব্যাংকের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখেই গ্রাহকেরা তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ জমা রেখেছেন। তাই শাখায় সংঘটিত অনিয়ম ও জালিয়াতির কারণে আমানতকারীরা যেন তাঁদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

টাকা জমার বার্তা পেয়েও হিসাব নেই

মানববন্ধনের পর জাফরিন আলম প্রথম আলোকে বলেন, অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখায় যথাযথ নিয়ম মেনেই তাঁরা টাকা জমা রেখেছেন। কিন্তু এখন টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক থেকে বলা হচ্ছে, তাঁদের নামে সেখানে কোনো হিসাব নেই।

জাফরিন আলম বলেন, ‘আমি নিজে ১০ লাখ টাকা জমা দিয়েছি। মোবাইলে জমা হওয়ার বার্তা এসেছে। আরেক দফায় আরও ৫ লাখ টাকা জমা দিয়েছি। তখন বার্তা না আসায় ব্যাংকে গিয়ে কারণ জানতে চাইলে বলা হয়, সফটওয়্যারের সমস্যা। আমার মতো এমন ভুক্তভোগী অনেকেই আছেন। আমরা টাকা ফেরত চাই ও প্রতারক চক্রের শাস্তি চাই।’

ব্যাংকটির আরেক গ্রাহক ফারহানা আলম প্রথম আলোকে জানান, তিনি দুই দফায় তিন লাখ টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) করেছিলেন। তাঁর কাছে জমার রসিদও রয়েছে। কিন্তু এখন টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পারসোমা আলমের কাছে গিয়েও কোনো সমাধান পাননি তিনি।

ফারহানা আলম অভিযোগ করেন, ‘শাখার কর্মকর্তাদের বাঁচাতে ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা এখন এমন কথা বলছেন যেন আমরা ব্যক্তিগত লেনদেন করেছি। আমরা টাকা ফেরত চাই।’

ভুক্তভোগীদের সাত দফা দাবি

মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা শ্রীনগর শাখার আর্থিক জালিয়াতি ও অনিয়মের ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের আমানত ও আর্থিক ক্ষতির সঠিক তালিকা তৈরি এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এ ছাড়া বৈধ ও প্রমাণিত আমানতের অর্থ দ্রুত ফেরত দিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকেরা। অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও ব্যাংকিং বিধিবিধান অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি তাঁদের।

ভুক্তভোগীদের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাটি দুই মাস আগের। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শেষে মামলা করেছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। প্রত্যেক গ্রাহক টাকা ফেরত পাবেন। তবে তার আগে টাকা জমা হওয়ার সত্যতা পরীক্ষা করতে হবে। সেই কাজই এখন চলছে।


জনতার প্রেস

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ আরেফিন ইসলাম 
নির্বাহী সম্পাদক
আবুল কালাম আজাদ
বার্তা সম্পাদক
মুক্তা আক্তার

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস