জনতার প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষের ১০৫টি আসন বণ্টন নিয়ে নতুন প্রস্তাব উঠেছে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে। প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের ৫০টি আসন বণ্টন করা হবে সংসদীয় আসনের অনুপাতে, ৫০টি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে। বাকি পাঁচটি আসনে সদস্য মনোনয়ন দেবেন রাষ্ট্রপতি।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এক শিক্ষক এ প্রস্তাব দেন। বৈঠকে উপস্থিত কমিটির সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং উপস্থিত অনেকেই এতে সমর্থন জানিয়েছেন।
প্রস্তাবদাতার মতে, সংসদীয় আসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোট—উভয় ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হলে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হবে।
সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। সরকারি দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সংসদীয় আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সংসদীয় আসন ও প্রাপ্ত ভোট—দুই ভিত্তির সমন্বয়ে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টনের নতুন প্রস্তাবটি আলোচনায় এসেছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষাবিদও উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাবকে গ্রহণযোগ্য বলে মত দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি উচ্চকক্ষের স্পিকারের নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব করেন।
তার প্রস্তাব অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ সৃষ্টি করা যেতে পারে। উচ্চকক্ষের স্পিকার পদাধিকারবলে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া সরকার ও বিরোধী দলের মনোনয়নের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্য উপদেষ্টাদের উচ্চকক্ষ থেকে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রাখার প্রস্তাব করেন তিনি।
একই সঙ্গে সংসদের নিম্নকক্ষের মেয়াদ চার বছর এবং উচ্চকক্ষের মেয়াদ ছয় বছর করার প্রস্তাবও দেন ওই শিক্ষাবিদ। তাঁর যুক্তি, এতে সরকারের মেয়াদ শেষ হলেও অন্তত একটি নির্বাচিত সংসদ বহাল থাকবে।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার কাঠামো, প্রক্রিয়া ও কর্মপরিধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, উচ্চকক্ষ গঠিত হলে সরকার ও বিরোধী দলের মতামতের ভিত্তিতে এর স্পিকারের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের একটি প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। স্পিকার ছাড়া অন্য উপদেষ্টাদের সরকার ও বিরোধী দলের সম্মতিতে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রাখার বিষয়ে মতামত এসেছে।
তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আরও প্রস্তাব পাওয়ার পর সেগুলো বিশেষ কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কমিটির আরও এক বা দুটি বৈঠক বাকি রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এ কারণে প্রস্তাবগুলো সংকলনের কাজ শুরু হয়েছে।
বিশেষ কমিটির বৈঠকে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ছাড়াও সংবিধানের মৌলিক কাঠামো, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বিচারক নিয়োগ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তবে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন, সংসদের দুই কক্ষের মেয়াদ নির্ধারণ কিংবা নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব—কোনোটির বিষয়েই এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিটির পরবর্তী বৈঠকগুলোতে এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সুপারিশ চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬
জনতার প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষের ১০৫টি আসন বণ্টন নিয়ে নতুন প্রস্তাব উঠেছে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে। প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের ৫০টি আসন বণ্টন করা হবে সংসদীয় আসনের অনুপাতে, ৫০টি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে। বাকি পাঁচটি আসনে সদস্য মনোনয়ন দেবেন রাষ্ট্রপতি।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এক শিক্ষক এ প্রস্তাব দেন। বৈঠকে উপস্থিত কমিটির সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং উপস্থিত অনেকেই এতে সমর্থন জানিয়েছেন।
প্রস্তাবদাতার মতে, সংসদীয় আসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোট—উভয় ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হলে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হবে।
সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। সরকারি দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সংসদীয় আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সংসদীয় আসন ও প্রাপ্ত ভোট—দুই ভিত্তির সমন্বয়ে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টনের নতুন প্রস্তাবটি আলোচনায় এসেছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষাবিদও উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাবকে গ্রহণযোগ্য বলে মত দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি উচ্চকক্ষের স্পিকারের নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব করেন।
তার প্রস্তাব অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ সৃষ্টি করা যেতে পারে। উচ্চকক্ষের স্পিকার পদাধিকারবলে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া সরকার ও বিরোধী দলের মনোনয়নের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্য উপদেষ্টাদের উচ্চকক্ষ থেকে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রাখার প্রস্তাব করেন তিনি।
একই সঙ্গে সংসদের নিম্নকক্ষের মেয়াদ চার বছর এবং উচ্চকক্ষের মেয়াদ ছয় বছর করার প্রস্তাবও দেন ওই শিক্ষাবিদ। তাঁর যুক্তি, এতে সরকারের মেয়াদ শেষ হলেও অন্তত একটি নির্বাচিত সংসদ বহাল থাকবে।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার কাঠামো, প্রক্রিয়া ও কর্মপরিধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, উচ্চকক্ষ গঠিত হলে সরকার ও বিরোধী দলের মতামতের ভিত্তিতে এর স্পিকারের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের একটি প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। স্পিকার ছাড়া অন্য উপদেষ্টাদের সরকার ও বিরোধী দলের সম্মতিতে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রাখার বিষয়ে মতামত এসেছে।
তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আরও প্রস্তাব পাওয়ার পর সেগুলো বিশেষ কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কমিটির আরও এক বা দুটি বৈঠক বাকি রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এ কারণে প্রস্তাবগুলো সংকলনের কাজ শুরু হয়েছে।
বিশেষ কমিটির বৈঠকে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ছাড়াও সংবিধানের মৌলিক কাঠামো, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বিচারক নিয়োগ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তবে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন, সংসদের দুই কক্ষের মেয়াদ নির্ধারণ কিংবা নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব—কোনোটির বিষয়েই এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিটির পরবর্তী বৈঠকগুলোতে এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সুপারিশ চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন