জনতার প্রেস

মূল পাতা

সারাদেশ

খামারবাড়িতে প্রকল্প পরিচালকের কক্ষে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, ছড়িয়েছে সিসিটিভি ফুটেজ; অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসানুর জামান মিন্টু

দরপত্র নিয়ে বিরোধ, কৃষি কর্মকর্তাকে থাপ্পড় মারার হুমকির অভিযোগ

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
দরপত্র নিয়ে বিরোধ, কৃষি কর্মকর্তাকে থাপ্পড় মারার হুমকির অভিযোগ
প্রকল্প পরিচালকের কক্ষের ভেতরের দৃশ্য। ছবি: সিসিটিভির ফুটেজ

জনতার প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি দরপত্র নিজেদের অনুকূলে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি এবং দাবি পূরণ না হলে থাপ্পড় মেরে ‘শিক্ষা দেওয়ার’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসানুর জামান মিন্টু নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) এক প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দরপত্রের শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী প্রকল্প পরিচালক মোস্তফা কামাল আজকের পত্রিকাকে বলেন, বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের একটি ইলেকট্রনিক দরপত্র নিজেদের অনুকূলে দেওয়ার জন্য মিন্টু ও তাঁর সঙ্গে আসা আরেক ব্যক্তি চাপ দেন। তবে সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী দরপত্রে অংশ নিয়ে কারিগরি ও আর্থিকভাবে যোগ্য বিবেচিত হলেই কাজ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে তাঁদের জানানো হয়।

মোস্তফা কামালের ভাষ্য, নিয়ম অনুযায়ী দরপত্র মূল্যায়নের মাধ্যমে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার কথা বললেও তাঁরা তা মানতে রাজি হননি। একপর্যায়ে তাঁকে থাপ্পড় মেরে ‘শিক্ষা দেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দরপত্র নিয়ে বিরোধ, কক্ষে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়

প্রকল্প পরিচালক মোস্তফা কামাল জানান, বুধবার দুপুরে তাঁর কক্ষে প্রবেশ করে মিন্টু চলমান একটি দরপত্র তাঁকে দেওয়ার দাবি জানান। দরপত্রটি ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) ব্যবস্থায় উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) আহ্বান করা হয়েছিল।

মোস্তফা কামাল বলেন, দরপত্রের নিয়ম অনুযায়ী মূল্যায়নের পর যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হবে বলে তিনি মিন্টুকে জানান। কিন্তু মিন্টু জোর করে দরপত্র নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে তাঁর অভিযোগ।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘ওই ব্যক্তি জোর করে দরপত্র নিতে চাইছিলেন। তাঁর কথা ছিল, তাঁকে দরপত্র দিতে হবে। না দিলে থাপ্পড় মারবেন, শিক্ষা দেবেন—এ ধরনের কথা বলছিলেন।’

তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে মিন্টু মুঠোফোনে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন। ফোনটি লাউড স্পিকারে থাকায় অপর প্রান্ত থেকে তাঁকে গালিগালাজ করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দরপত্রের কারিগরি শর্ত নিয়েও আপত্তি

দরপত্রের কারিগরি শর্ত নিয়ে বিরোধের বিষয়েও বক্তব্য দিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক। তিনি জানান, সাউন্ড সিস্টেম সরবরাহের ক্ষেত্রে ইমপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (আইআরসি) চাওয়ার বিষয়ে আপত্তি তোলা হয়।

মোস্তফা কামালের দাবি, দরপত্রের কারিগরি স্পেসিফিকেশন গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে করা হয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আমদানিসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকতে হবে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মিন্টুকে কক্ষ থেকে চলে যেতে বলার পর তাঁকে থাপ্পড় মেরে ‘শিক্ষা দেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হয়।

সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে

ঘটনার পর প্রকল্প পরিচালকের কক্ষে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, বেলা ১টা ৪২ মিনিট থেকে ১টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত মিন্টু ওই কক্ষে অবস্থান করেন। এ সময় দরপত্রের শর্ত নিয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হতে দেখা যায়।

প্রকল্প পরিচালকের অভিযোগ, মিন্টুর সঙ্গে আসা ব্যক্তিরা অন্যের পক্ষে দরপত্র কেনা বা মধ্যস্বত্বভোগী হিসেবে কাজ করতে পারেন। তবে তাঁরা কোন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এসেছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেননি তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার মিন্টুর, আইনি পদক্ষেপের কথা ডিএইর

প্রকল্প পরিচালকের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসানুর জামান মিন্টু। তিনি বলেন, ‘পিডির টেন্ডার দেওয়ার ক্ষমতা আছে। আমি তাঁকে থাপ্পড় দিতে যাইনি।’

এদিকে, এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক মোস্তফা কামাল।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, ‘খামারবাড়ির শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। আর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আমরা পর্যালোচনা করছি।’

সরকারি দরপত্রের স্বচ্ছতা ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে কাউকে দায়ী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ডিএই সরকারি দরপত্র,

আপনার মতামত লিখুন

দরপত্র নিয়ে বিরোধ, কৃষি কর্মকর্তাকে থাপ্পড় মারার হুমকির অভিযোগ
0:00 0:00
1.0x
জনতার প্রেস

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


দরপত্র নিয়ে বিরোধ, কৃষি কর্মকর্তাকে থাপ্পড় মারার হুমকির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

জনতার প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি দরপত্র নিজেদের অনুকূলে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি এবং দাবি পূরণ না হলে থাপ্পড় মেরে ‘শিক্ষা দেওয়ার’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসানুর জামান মিন্টু নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) এক প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দরপত্রের শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী প্রকল্প পরিচালক মোস্তফা কামাল আজকের পত্রিকাকে বলেন, বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের একটি ইলেকট্রনিক দরপত্র নিজেদের অনুকূলে দেওয়ার জন্য মিন্টু ও তাঁর সঙ্গে আসা আরেক ব্যক্তি চাপ দেন। তবে সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী দরপত্রে অংশ নিয়ে কারিগরি ও আর্থিকভাবে যোগ্য বিবেচিত হলেই কাজ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে তাঁদের জানানো হয়।

মোস্তফা কামালের ভাষ্য, নিয়ম অনুযায়ী দরপত্র মূল্যায়নের মাধ্যমে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার কথা বললেও তাঁরা তা মানতে রাজি হননি। একপর্যায়ে তাঁকে থাপ্পড় মেরে ‘শিক্ষা দেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দরপত্র নিয়ে বিরোধ, কক্ষে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়

প্রকল্প পরিচালক মোস্তফা কামাল জানান, বুধবার দুপুরে তাঁর কক্ষে প্রবেশ করে মিন্টু চলমান একটি দরপত্র তাঁকে দেওয়ার দাবি জানান। দরপত্রটি ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) ব্যবস্থায় উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) আহ্বান করা হয়েছিল।

মোস্তফা কামাল বলেন, দরপত্রের নিয়ম অনুযায়ী মূল্যায়নের পর যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হবে বলে তিনি মিন্টুকে জানান। কিন্তু মিন্টু জোর করে দরপত্র নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে তাঁর অভিযোগ।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘ওই ব্যক্তি জোর করে দরপত্র নিতে চাইছিলেন। তাঁর কথা ছিল, তাঁকে দরপত্র দিতে হবে। না দিলে থাপ্পড় মারবেন, শিক্ষা দেবেন—এ ধরনের কথা বলছিলেন।’

তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে মিন্টু মুঠোফোনে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন। ফোনটি লাউড স্পিকারে থাকায় অপর প্রান্ত থেকে তাঁকে গালিগালাজ করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দরপত্রের কারিগরি শর্ত নিয়েও আপত্তি

দরপত্রের কারিগরি শর্ত নিয়ে বিরোধের বিষয়েও বক্তব্য দিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক। তিনি জানান, সাউন্ড সিস্টেম সরবরাহের ক্ষেত্রে ইমপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (আইআরসি) চাওয়ার বিষয়ে আপত্তি তোলা হয়।

মোস্তফা কামালের দাবি, দরপত্রের কারিগরি স্পেসিফিকেশন গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে করা হয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আমদানিসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকতে হবে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মিন্টুকে কক্ষ থেকে চলে যেতে বলার পর তাঁকে থাপ্পড় মেরে ‘শিক্ষা দেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হয়।

সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে

ঘটনার পর প্রকল্প পরিচালকের কক্ষে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, বেলা ১টা ৪২ মিনিট থেকে ১টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত মিন্টু ওই কক্ষে অবস্থান করেন। এ সময় দরপত্রের শর্ত নিয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হতে দেখা যায়।

প্রকল্প পরিচালকের অভিযোগ, মিন্টুর সঙ্গে আসা ব্যক্তিরা অন্যের পক্ষে দরপত্র কেনা বা মধ্যস্বত্বভোগী হিসেবে কাজ করতে পারেন। তবে তাঁরা কোন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এসেছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেননি তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার মিন্টুর, আইনি পদক্ষেপের কথা ডিএইর

প্রকল্প পরিচালকের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসানুর জামান মিন্টু। তিনি বলেন, ‘পিডির টেন্ডার দেওয়ার ক্ষমতা আছে। আমি তাঁকে থাপ্পড় দিতে যাইনি।’

এদিকে, এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক মোস্তফা কামাল।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, ‘খামারবাড়ির শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। আর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আমরা পর্যালোচনা করছি।’

সরকারি দরপত্রের স্বচ্ছতা ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে কাউকে দায়ী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।


জনতার প্রেস

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ আরেফিন ইসলাম 
নির্বাহী সম্পাদক
আবুল কালাম আজাদ
বার্তা সম্পাদক
মুক্তা আক্তার

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস