জনতার প্রেস ডেস্ক:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশের শিশু ও নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দায়িত্ব পালনের সমালোচনা করেছেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে বগুড়া মহানগরীর মাটিডালি বিমান মোড়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার ১৩ বছরের সন্তান নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর মৃত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে। আমরা আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা চাই। কিন্তু দুঃখের বিষয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্বমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও নিজের মন্ত্রণালয়ের খোঁজ রাখতে পারেন না।’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অপ্রতিম শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়। এরপর তার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পুলিশ ও স্বজনদের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও তার সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ চালান। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অপ্রতিমের ফোনের অবস্থান গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত করা গিয়েছিল; এরপর ফোনটির আর অবস্থান পাওয়া যায়নি।
শনিবার দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন এলাকা থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। মরদেহের সঙ্গে মায়ের আইফোনটি পাওয়া যায়নি।
অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।
অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাতের বিভিন্ন প্রতিবেদনে তিনজনকে আটকের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে আটক ব্যক্তিরা সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ, ঘটনার ধারাবাহিকতা এবং কারা জড়িত—এসব বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে মূলত নাগরিক ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। তাঁর বক্তব্যটি আসে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের একটি পথসভায়।
এদিকে একই ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। ফলে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—১৩ বছরের অপ্রতিম কীভাবে নিখোঁজ হলো, কীভাবে তার মৃত্যু ঘটল এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত। এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায়।
জনতার প্রেস | জাতীয় ডেস্ক

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জনতার প্রেস ডেস্ক:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশের শিশু ও নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দায়িত্ব পালনের সমালোচনা করেছেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে বগুড়া মহানগরীর মাটিডালি বিমান মোড়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার ১৩ বছরের সন্তান নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর মৃত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে। আমরা আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা চাই। কিন্তু দুঃখের বিষয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্বমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও নিজের মন্ত্রণালয়ের খোঁজ রাখতে পারেন না।’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অপ্রতিম শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়। এরপর তার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পুলিশ ও স্বজনদের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও তার সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ চালান। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অপ্রতিমের ফোনের অবস্থান গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত করা গিয়েছিল; এরপর ফোনটির আর অবস্থান পাওয়া যায়নি।
শনিবার দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন এলাকা থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। মরদেহের সঙ্গে মায়ের আইফোনটি পাওয়া যায়নি।
অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।
অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাতের বিভিন্ন প্রতিবেদনে তিনজনকে আটকের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে আটক ব্যক্তিরা সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ, ঘটনার ধারাবাহিকতা এবং কারা জড়িত—এসব বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে মূলত নাগরিক ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। তাঁর বক্তব্যটি আসে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের একটি পথসভায়।
এদিকে একই ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। ফলে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—১৩ বছরের অপ্রতিম কীভাবে নিখোঁজ হলো, কীভাবে তার মৃত্যু ঘটল এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত। এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায়।
জনতার প্রেস | জাতীয় ডেস্ক

আপনার মতামত লিখুন