ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নতুন ধারা বাংলাদেশ ও রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা প্রথমে প্রায় দেড় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সাময়িকভাবে চালু হলেও পরে আবারও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় চিকিৎসাসেবা পুনরায় বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে উভয় পক্ষের আহত নেতাকর্মীরা চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এলে সেখানে আবারও সংঘর্ষ বাধে। এতে হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং চিকিৎসক, রোগী ও স্বজনদের ছোটাছুটি করতে দেখা যায়।
সংঘর্ষে নতুন ধারা বাংলাদেশের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী, ভাইস চেয়ারম্যান ড. নুরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আতাপ মণ্ডল ও হরিদাস সরকার আহত হন। অন্যদিকে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের (এসডিএফ) সদস্যসচিব আয়াসসহ সংগঠনটির আরও কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
আহত শান্তা ফারজানা অভিযোগ করে বলেন, সন্ধ্যায় তারা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মশাল মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছিলেন। বক্তব্য চলাকালে আয়াসের নেতৃত্বে একদল লোক তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদীসহ অন্তত ছয়জন রক্তাক্ত হন। পরে আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এলে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল আবারও তাদের ওপর হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, দফায় দফায় হামলার কারণে তারা জরুরি বিভাগের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন, চিকিৎসা নিতে পারছেন না এবং বের হতেও পারছেন না। হামলায় তার জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।আরও পড়ুনআরও পড়ুনআইসিসিআর স্কলারশিপ দুই দেশের জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়বে: ভারতীয় হাইকমিশনার
শান্তা ফারজানা আরও বলেন, তারা প্রেসক্লাবে শান্তিপূর্ণভাবে মশাল মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছিলেন। সেখানে হামলার শিকার হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেও একই পক্ষের হামলার মুখে পড়তে হয়েছে।
অন্যদিকে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের (এসডিএফ) সদস্যসচিব আয়াস পালটা অভিযোগ করে বলেন, শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য এবং ধর্মীয় অবমাননার প্রতিবাদ জানাতে গেলে শান্তা ফারজানা, মোমিন মেহেদীসহ ৩০ থেকে ৪০ জন তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে গেলে সেখানেও তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় তাদের সংগঠনেরও বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মঞ্চ-২৪-এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী বলেন, তারা প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান, শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে কটূক্তি এবং ধর্মকে অবমাননা করেছে। নতুন বাংলাদেশে তাদেরকে ছাড় দেওয়া যায় না। তবে আমরা অবস্থান করব, কোনো ধরনের আগ্রাসী আচরণ করব না; প্রশাসনকে সহযোগিতা করব।
সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন ধারা বাংলাদেশের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা ও সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আতাপ মণ্ডল রক্তাক্ত অবস্থায় জরুরি বিভাগে চিকিৎসার অপেক্ষায় রয়েছেন। অন্যদিকে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াসও আহত অবস্থায় ছিলেন। শান্তা ফারজানাসহ তার দলের নেতাকর্মীরা তখনও জরুরি বিভাগের ভেতরে অবস্থান করছিলেন এবং নিজেদের অবরুদ্ধ থাকার অভিযোগ করেন।
ঘটনার পর হাসপাতালজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা প্রায় দেড় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর অল্প সময়ের জন্য পুনরায় চালু হলেও ফের সংঘর্ষের ঘটনায় চিকিৎসাসেবা আবারও বন্ধ হয়ে যায়। এতে জরুরি বিভাগের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তিনি জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিরাপত্তা জোরদার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, জরুরি বিভাগে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ হট্টগোলের কারণে প্রায় দেড় ঘণ্টা চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হয়। এতে অন্যান্য রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এক পক্ষ হাসপাতালের ভেতরে এবং অপর পক্ষ বাইরে অবস্থান করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন