জনতার প্রেস
Post Ads 1
Post Ads 2

মূল পাতা

সাহিত্য

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘অআকখ’-এর সাহিত্য আড্ডার আয়োজন

প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে  ‘অআকখ’-এর সাহিত্য আড্ডার আয়োজন
Post Ads 3

ভালো গল্প কি সত্যিই একটি ভালো পৃথিবী গড়ে তুলতে পারে? সাহিত্য কি শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ, নাকি মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কও তৈরি করে? এমন নানা প্রশ্ন, ভাবনা আর স্বপ্নকে কেন্দ্র করেই রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো ‘অআকখ’-এর আয়োজিত সাহিত্য আড্ডা। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সাহিত্য হয়ে উঠেছিল পরিচয়ের সেতুবন্ধন, চিন্তার বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার এক মিলনমঞ্চ।

Middle Post Content 1

আড্ডায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি, বিভিন্ন কলেজ এবং আলিয়া মাদ্রাসাসহ নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন। ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষাঙ্গন থেকে এলেও তাদের মিলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল একটিই—সাহিত্য।

Middle Post Content 2

অনুষ্ঠানে অআকখ-এর নির্বাহী সাগর মল্লিক বলেন, পৃথিবী মূলত গল্পের মধ্য দিয়েই নির্মিত হয়। তাই ভালো গল্পের চর্চা মানে একটি ভালো সমাজ গড়ে তোলার চেষ্টা। তার ভাষায়, এ কাজ কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়; প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য সংগঠনগুলো একসঙ্গে কাজ করলে সাহিত্যচর্চায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যেতে পারে।

Middle Post Content 3

আড্ডায় আলোচনায় উঠে আসে সাহিত্যের মানবিক শক্তির কথাও। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, রুমি কিংবা কাজী নজরুল ইসলাম—দুজনেই মানুষকে ভালোবাসা, মুক্তচিন্তা ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছেন। সাহিত্য শুধু অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের মনের জানালা খুলে দেয় এবং নতুনভাবে পৃথিবীকে দেখতে শেখায়।

Middle Post Content 1

শুধু বক্তৃতা নয়, অনুষ্ঠানের বড় আকর্ষণ ছিল অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মুক্ত মতবিনিময়। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাহি জানান, তাদের সাহিত্য ক্লাব বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যৌথভাবে পাঠচক্র আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, পাঠ ও চিন্তার বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা সাহিত্যচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।

Middle Post Content 1

মুক্ত আলোচনায় অনেকেই নিজেদের প্রিয় বই, পাঠের অভিজ্ঞতা এবং সাহিত্য নিয়ে ব্যক্তিগত উপলব্ধি তুলে ধরেন। আলিয়া মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে সাহিত্যপাঠের সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। তবে এমন আয়োজন তাদের নতুন বই, নতুন লেখক এবং নতুন ভাবনার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।

Middle Post Content 1

সমাপনী বক্তব্যে অআকখ-এর শেখ ফাতিমা পাপিয়া বলেন, সাহিত্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি স্থায়ী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। নিয়মিত পাঠচক্র, সাহিত্য আড্ডা ও যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে এই বন্ধন আরও দৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Middle Post Content 1

আয়োজকদের মতে, সাহিত্য আড্ডার মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ পাঠকের কণ্ঠকে সামনে নিয়ে আসা। তারা কী পড়ছেন, কী ভাবছেন, সাহিত্য থেকে কী প্রত্যাশা করছেন এবং সমাজে সাহিত্যের ভূমিকা কী হতে পারে—এসব বিষয়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

Middle Post Content 1

ডিজিটাল যুগে যখন মনোযোগের বড় একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আটকে যাচ্ছে, তখন এমন সাহিত্যভিত্তিক আয়োজন তরুণদের বইয়ের কাছে ফিরিয়ে আনতে পারে বলে মনে করেন অংশগ্রহণকারীরা। তাদের বিশ্বাস, নিয়মিত পাঠচক্র ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্যচর্চা কেবল বই পড়ার অভ্যাসই বাড়াবে না, বরং ভিন্ন মত ও ভিন্ন অভিজ্ঞতার মানুষের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তুলবে।

Middle Post Content 1

সাহিত্যের মাধ্যমে নাগরিক সচেতনতা এবং গণমানুষের কাছে সাহিত্যকে পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে অআকখ। আয়োজকদের বিশ্বাস ভালো গল্প মানুষকে বদলায়, আর বদলে যাওয়া মানুষই গড়ে তোলে একটি সুন্দর সমাজ। সেই বিশ্বাস থেকেই  ভবিষ্যতেও সাহিত্যকে মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছে দিতে এবং তরুণদের মধ্যে পাঠাভ্যাস বিস্তারে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখাতে কাজ করছে অআকখ।

বই

Post Ads 5

আপনার মতামত লিখুন

Post Ads 6
Post Ads 10
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘অআকখ’-এর সাহিত্য আড্ডার আয়োজন
0:00 0:00
1.0x
জনতার প্রেস

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘অআকখ’-এর সাহিত্য আড্ডার আয়োজন

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভালো গল্প কি সত্যিই একটি ভালো পৃথিবী গড়ে তুলতে পারে? সাহিত্য কি শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ, নাকি মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কও তৈরি করে? এমন নানা প্রশ্ন, ভাবনা আর স্বপ্নকে কেন্দ্র করেই রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো ‘অআকখ’-এর আয়োজিত সাহিত্য আড্ডা। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সাহিত্য হয়ে উঠেছিল পরিচয়ের সেতুবন্ধন, চিন্তার বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার এক মিলনমঞ্চ।

আড্ডায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি, বিভিন্ন কলেজ এবং আলিয়া মাদ্রাসাসহ নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন। ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষাঙ্গন থেকে এলেও তাদের মিলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল একটিই—সাহিত্য।

অনুষ্ঠানে অআকখ-এর নির্বাহী সাগর মল্লিক বলেন, পৃথিবী মূলত গল্পের মধ্য দিয়েই নির্মিত হয়। তাই ভালো গল্পের চর্চা মানে একটি ভালো সমাজ গড়ে তোলার চেষ্টা। তার ভাষায়, এ কাজ কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়; প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য সংগঠনগুলো একসঙ্গে কাজ করলে সাহিত্যচর্চায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যেতে পারে।

আড্ডায় আলোচনায় উঠে আসে সাহিত্যের মানবিক শক্তির কথাও। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, রুমি কিংবা কাজী নজরুল ইসলাম—দুজনেই মানুষকে ভালোবাসা, মুক্তচিন্তা ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছেন। সাহিত্য শুধু অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের মনের জানালা খুলে দেয় এবং নতুনভাবে পৃথিবীকে দেখতে শেখায়।

শুধু বক্তৃতা নয়, অনুষ্ঠানের বড় আকর্ষণ ছিল অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মুক্ত মতবিনিময়। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাহি জানান, তাদের সাহিত্য ক্লাব বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যৌথভাবে পাঠচক্র আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, পাঠ ও চিন্তার বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা সাহিত্যচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।

মুক্ত আলোচনায় অনেকেই নিজেদের প্রিয় বই, পাঠের অভিজ্ঞতা এবং সাহিত্য নিয়ে ব্যক্তিগত উপলব্ধি তুলে ধরেন। আলিয়া মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে সাহিত্যপাঠের সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। তবে এমন আয়োজন তাদের নতুন বই, নতুন লেখক এবং নতুন ভাবনার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।

সমাপনী বক্তব্যে অআকখ-এর শেখ ফাতিমা পাপিয়া বলেন, সাহিত্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি স্থায়ী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। নিয়মিত পাঠচক্র, সাহিত্য আড্ডা ও যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে এই বন্ধন আরও দৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আয়োজকদের মতে, সাহিত্য আড্ডার মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ পাঠকের কণ্ঠকে সামনে নিয়ে আসা। তারা কী পড়ছেন, কী ভাবছেন, সাহিত্য থেকে কী প্রত্যাশা করছেন এবং সমাজে সাহিত্যের ভূমিকা কী হতে পারে—এসব বিষয়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

ডিজিটাল যুগে যখন মনোযোগের বড় একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আটকে যাচ্ছে, তখন এমন সাহিত্যভিত্তিক আয়োজন তরুণদের বইয়ের কাছে ফিরিয়ে আনতে পারে বলে মনে করেন অংশগ্রহণকারীরা। তাদের বিশ্বাস, নিয়মিত পাঠচক্র ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্যচর্চা কেবল বই পড়ার অভ্যাসই বাড়াবে না, বরং ভিন্ন মত ও ভিন্ন অভিজ্ঞতার মানুষের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তুলবে।

সাহিত্যের মাধ্যমে নাগরিক সচেতনতা এবং গণমানুষের কাছে সাহিত্যকে পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে অআকখ। আয়োজকদের বিশ্বাস ভালো গল্প মানুষকে বদলায়, আর বদলে যাওয়া মানুষই গড়ে তোলে একটি সুন্দর সমাজ। সেই বিশ্বাস থেকেই  ভবিষ্যতেও সাহিত্যকে মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছে দিতে এবং তরুণদের মধ্যে পাঠাভ্যাস বিস্তারে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখাতে কাজ করছে অআকখ।


জনতার প্রেস

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ আরেফিন ইসলাম 
নির্বাহী সম্পাদক
আবুল কালাম আজাদ
বার্তা সম্পাদক
মুক্তা আক্তার

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস