জনতার প্রেস

মূল পাতা

ইসলাম ও জীবন

বোনকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা ভয়াবহ পাপ

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
বোনকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা ভয়াবহ পাপ
ছবি: সংগৃহীত

আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন এবং দুনিয়ার জীবনে সঠিকভাবে চলার জন্য কিছু বিধান ও নিয়ম নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এসব বিধান পালন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অপরিহার্য; কারণ এর মাধ্যমে নারী-পুরুষ উভয়ের অধিকার সংরক্ষিত হয় এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।

বিশেষ করে নারীদের অধিকার ও সম্মানের ব্যাপারে ইসলাম গুরুত্বারোপ করেছে। নারীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ইসলাম তাকে উত্তরাধিকারের অধিকার প্রদান করেছে। বাবা-মায়ের সম্পত্তিতে মেয়ের নির্দিষ্ট অংশ রয়েছে। অর্থাৎ, তাদের মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া সম্পদের ওপর মেয়ের বৈধ অংশীদারত্ব রয়েছে, যা খর্ব বা লঙ্ঘন করার কোনো সুযোগ নেই।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ১১ নম্বর আয়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ‘তোমাদের সন্তানদের (সম্পদের অংশ) সম্পর্কে আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন—এক পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান।’

এ ছাড়া একই সুরার ৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদের অংশ রয়েছে এবং নারীদেরও অংশ রয়েছে—সে সম্পদ অল্প হোক কিংবা বেশি।’

এমনকি সুরা নিসার ১৯ নম্বর আয়াতে নারীদের অধিকার বা সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করা থেকে বিরত থাকার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমান সমাজে অনেক ক্ষেত্রেই মেয়েরা তাদের বৈধ উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। সমাজে এমন কিছু ভিত্তিহীন অপপ্রচার প্রচলিত রয়েছে, যেমন—‘মেয়েরা বাবার সম্পত্তির অংশ নিলে জীবনে উন্নতি হয় না’ কিংবা ‘অংশ নিলে ধ্বংস অনিবার্য।’ এসব ধারণা সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং ইসলামবিরোধী। আবার কোনো মেয়ে নিজের প্রাপ্য অধিকার চাইতে গেলে অনেক ক্ষেত্রে তাকে ‘লোভী’ তকমা পেতে হয়।

এভাবে নানা ভুল ধারণা প্রতিষ্ঠিত করে বহু মেয়েকে তাঁদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। অথচ এর মাধ্যমে কেবল কন্যা বা বোনের অধিকারই ক্ষুণ্ন করা হয় না, বরং আল্লাহ প্রদত্ত বিধানকেও অস্বীকার করা হয়—যা অত্যন্ত গর্হিত ও মারাত্মক গুনাহের কাজ।

হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কোনো মুসলিমের সম্পত্তি বা সম্পদ কেড়ে নেবে, কিয়ামতের দিন তাকে আল্লাহর সামনে জবাবদিহি করতে হবে এবং আল্লাহ তার বিচার করবেন।’ (সহিহ বুখারি: ২৪০৫)

ইসলাম নারীদের আর্থিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করেছে, যাতে তারা নিজেদের প্রয়োজন ও নিরাপত্তা মেটাতে সক্ষম হয়। অথচ সামাজিক কুসংস্কার ও ভুল প্রথার কারণে অনেক নারী আজও তাঁদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মনে রাখা প্রয়োজন, আল্লাহ তাআলা বান্দার হক নষ্টকারীকে ততক্ষণ ক্ষমা করেন না, যতক্ষণ না সেই বান্দা নিজে ক্ষমা করে।

দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। তাই এই সাময়িক জীবনের মোহে পড়ে অন্যের অধিকার নষ্ট না করে আল্লাহর বিধান মেনে চলাই আমাদের কর্তব্য। তবেই দুনিয়া ও আখিরাত—উভয় জীবনেই শান্তি ও সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

লেখক: মুজাহিদা আফরিন, শিক্ষার্থী, আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ইসলাম বিধিনিষেধ

আপনার মতামত লিখুন

বোনকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা ভয়াবহ পাপ
0:00 0:00
1.0x
জনতার প্রেস

শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬


বোনকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা ভয়াবহ পাপ

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন এবং দুনিয়ার জীবনে সঠিকভাবে চলার জন্য কিছু বিধান ও নিয়ম নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এসব বিধান পালন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অপরিহার্য; কারণ এর মাধ্যমে নারী-পুরুষ উভয়ের অধিকার সংরক্ষিত হয় এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।

বিশেষ করে নারীদের অধিকার ও সম্মানের ব্যাপারে ইসলাম গুরুত্বারোপ করেছে। নারীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ইসলাম তাকে উত্তরাধিকারের অধিকার প্রদান করেছে। বাবা-মায়ের সম্পত্তিতে মেয়ের নির্দিষ্ট অংশ রয়েছে। অর্থাৎ, তাদের মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া সম্পদের ওপর মেয়ের বৈধ অংশীদারত্ব রয়েছে, যা খর্ব বা লঙ্ঘন করার কোনো সুযোগ নেই।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ১১ নম্বর আয়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ‘তোমাদের সন্তানদের (সম্পদের অংশ) সম্পর্কে আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন—এক পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান।’

এ ছাড়া একই সুরার ৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদের অংশ রয়েছে এবং নারীদেরও অংশ রয়েছে—সে সম্পদ অল্প হোক কিংবা বেশি।’

এমনকি সুরা নিসার ১৯ নম্বর আয়াতে নারীদের অধিকার বা সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করা থেকে বিরত থাকার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমান সমাজে অনেক ক্ষেত্রেই মেয়েরা তাদের বৈধ উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। সমাজে এমন কিছু ভিত্তিহীন অপপ্রচার প্রচলিত রয়েছে, যেমন—‘মেয়েরা বাবার সম্পত্তির অংশ নিলে জীবনে উন্নতি হয় না’ কিংবা ‘অংশ নিলে ধ্বংস অনিবার্য।’ এসব ধারণা সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং ইসলামবিরোধী। আবার কোনো মেয়ে নিজের প্রাপ্য অধিকার চাইতে গেলে অনেক ক্ষেত্রে তাকে ‘লোভী’ তকমা পেতে হয়।

এভাবে নানা ভুল ধারণা প্রতিষ্ঠিত করে বহু মেয়েকে তাঁদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। অথচ এর মাধ্যমে কেবল কন্যা বা বোনের অধিকারই ক্ষুণ্ন করা হয় না, বরং আল্লাহ প্রদত্ত বিধানকেও অস্বীকার করা হয়—যা অত্যন্ত গর্হিত ও মারাত্মক গুনাহের কাজ।

হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কোনো মুসলিমের সম্পত্তি বা সম্পদ কেড়ে নেবে, কিয়ামতের দিন তাকে আল্লাহর সামনে জবাবদিহি করতে হবে এবং আল্লাহ তার বিচার করবেন।’ (সহিহ বুখারি: ২৪০৫)

ইসলাম নারীদের আর্থিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করেছে, যাতে তারা নিজেদের প্রয়োজন ও নিরাপত্তা মেটাতে সক্ষম হয়। অথচ সামাজিক কুসংস্কার ও ভুল প্রথার কারণে অনেক নারী আজও তাঁদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মনে রাখা প্রয়োজন, আল্লাহ তাআলা বান্দার হক নষ্টকারীকে ততক্ষণ ক্ষমা করেন না, যতক্ষণ না সেই বান্দা নিজে ক্ষমা করে।

দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। তাই এই সাময়িক জীবনের মোহে পড়ে অন্যের অধিকার নষ্ট না করে আল্লাহর বিধান মেনে চলাই আমাদের কর্তব্য। তবেই দুনিয়া ও আখিরাত—উভয় জীবনেই শান্তি ও সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

লেখক: মুজাহিদা আফরিন, শিক্ষার্থী, আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


জনতার প্রেস

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ আরেফিন ইসলাম 
নির্বাহী সম্পাদক
আবুল কালাম আজাদ
বার্তা সম্পাদক
মুক্তা আক্তার

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস