বরিশালকে একটি জনবান্ধব, সমৃদ্ধ ও আধুনিক মডেল নগরীতে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি নিয়ে কোনো ধরনের নতুন করারোপ ছাড়াই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। প্রস্তাবিত এই বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৬৪৭ কোটি ৫৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩০৯ টাকা।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নগর ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন আনুষ্ঠানিকভাবে এ বাজেট পেশ করেন। গত ১৬ মার্চ প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম বাজেট ঘোষণা।
বাজেট বক্তৃতায় প্রশাসক বলেন, করপোরেশনের নিজস্ব আয় সীমিত হলেও নাগরিকদের ওপর বাড়তি করের বোঝা চাপানো হয়নি। অপচয় রোধ, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং ব্যয়ের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে নগর উন্নয়ন সচল রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
"করপোরেশনের আয় সীমিত। এরপরও কর বৃদ্ধি না করে এ বাজেট ঘোষণা করা হলো। স্বল্প সময়ে বরিশালকে জনবান্ধব, সমৃদ্ধ ও মডেল নগরীতে পরিণত করতে চাই। সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত করা হবে।"
— অ্যাড. বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, প্রশাসক, বিসিসি
বিসিসির বাজেট কাম হিসাবরক্ষণ শাখার তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ছিল ৫২০ কোটি ৮৬ লাখ ১৬ হাজার ৯২৮ টাকা, যা পরবর্তীতে সংশোধিত হয়ে ৪৬২ কোটি ৮৬ লাখ ২২ হাজার ৮ ৩৭ টাকায় দাঁড়ায়। সেই তুলনায় নতুন অর্থবছরে বাজেটের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মেগা প্রকল্প ও অবকাঠামো খাত
প্রস্তাবিত বাজেটে বরিশাল নগরের অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে ১২টি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
খাল সম্প্রসারণ ও পাড় সংরক্ষণ: নগরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ৭৬৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
শহর রক্ষা বাঁধ: নদী ভাঙন ও প্লাবন রোধে ৫৩৩ কোটি টাকার প্রকল্প।
জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজিত নগর উন্নয়ন: ৩০৯ কোটি ১৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা।
নতুন নগর ভবন নির্মাণ: ১৯৫ কোটি ৬৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা ব্যয়ে বেজমেন্টসহ ১৫ তলাবিশিষ্ট আধুনিক ভবন।
সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট: কীর্তনখোলা নদীতে ৪৮ কোটি ৮২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ব্যয়ে প্ল্যান্ট নির্মাণ।
ফুটওভার ব্রিজ ও অডিটোরিয়াম: ৪৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ এবং সিটি অডিটোরিয়াম সংস্কার।
সড়কবাতি স্থাপন: নগরজুড়ে আলো নিশ্চিত করতে ২৪ কোটি ৭৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা।
প্রায় ৬ লাখ লোকসংখ্যার এই নগরীর বাসিন্দাদের সুবিধার্থে এবং সবুজ বরিশাল গড়ে তুলতে একাধিক বড় পদক্ষেপের কথা জানানো হয়:
ইকোপার্ক ও খেলার মাঠ: নগরবাসীর বিনোদনের জন্য একটি বড় ইকোপার্ক এবং ৩০টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে ১টি করে মোট ৩০টি খেলার মাঠ তৈরি করা হবে।
বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ: বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২০০ টন বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প শুরু হচ্ছে।
বৃক্ষরোপণ: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আগামী অর্থবছরে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হবে।
সামাজিক ও নাগরিক সুবিধার অংশ হিসেবে বাজেটে নারী ও শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে:
নারীবান্ধব উদ্যোগ: কর্মজীবী নারীদের জন্য হোস্টেল, বিশেষ মার্কেট এবং আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হবে।
শিশু বিনোদন: গ্রিন সিটি পার্ক সংস্কার, নতুন রাইড স্থাপন, শিশুদের জন্য খেলাধুলার সরঞ্জাম ক্রয় এবং নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা থাকবে।
বাজেট উপস্থাপনকালে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী, সচিব রুম্পা সিকদার, সাবেক প্যানেল মেয়র আলতাফ মাহমুদ সিকদারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষাবিদ, সামাজিক ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
বরিশালকে একটি জনবান্ধব, সমৃদ্ধ ও আধুনিক মডেল নগরীতে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি নিয়ে কোনো ধরনের নতুন করারোপ ছাড়াই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। প্রস্তাবিত এই বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৬৪৭ কোটি ৫৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩০৯ টাকা।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নগর ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন আনুষ্ঠানিকভাবে এ বাজেট পেশ করেন। গত ১৬ মার্চ প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম বাজেট ঘোষণা।
বাজেট বক্তৃতায় প্রশাসক বলেন, করপোরেশনের নিজস্ব আয় সীমিত হলেও নাগরিকদের ওপর বাড়তি করের বোঝা চাপানো হয়নি। অপচয় রোধ, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং ব্যয়ের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে নগর উন্নয়ন সচল রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
"করপোরেশনের আয় সীমিত। এরপরও কর বৃদ্ধি না করে এ বাজেট ঘোষণা করা হলো। স্বল্প সময়ে বরিশালকে জনবান্ধব, সমৃদ্ধ ও মডেল নগরীতে পরিণত করতে চাই। সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত করা হবে।"
— অ্যাড. বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, প্রশাসক, বিসিসি
বিসিসির বাজেট কাম হিসাবরক্ষণ শাখার তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ছিল ৫২০ কোটি ৮৬ লাখ ১৬ হাজার ৯২৮ টাকা, যা পরবর্তীতে সংশোধিত হয়ে ৪৬২ কোটি ৮৬ লাখ ২২ হাজার ৮ ৩৭ টাকায় দাঁড়ায়। সেই তুলনায় নতুন অর্থবছরে বাজেটের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মেগা প্রকল্প ও অবকাঠামো খাত
প্রস্তাবিত বাজেটে বরিশাল নগরের অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে ১২টি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
খাল সম্প্রসারণ ও পাড় সংরক্ষণ: নগরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ৭৬৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
শহর রক্ষা বাঁধ: নদী ভাঙন ও প্লাবন রোধে ৫৩৩ কোটি টাকার প্রকল্প।
জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজিত নগর উন্নয়ন: ৩০৯ কোটি ১৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা।
নতুন নগর ভবন নির্মাণ: ১৯৫ কোটি ৬৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা ব্যয়ে বেজমেন্টসহ ১৫ তলাবিশিষ্ট আধুনিক ভবন।
সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট: কীর্তনখোলা নদীতে ৪৮ কোটি ৮২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ব্যয়ে প্ল্যান্ট নির্মাণ।
ফুটওভার ব্রিজ ও অডিটোরিয়াম: ৪৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ এবং সিটি অডিটোরিয়াম সংস্কার।
সড়কবাতি স্থাপন: নগরজুড়ে আলো নিশ্চিত করতে ২৪ কোটি ৭৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা।
প্রায় ৬ লাখ লোকসংখ্যার এই নগরীর বাসিন্দাদের সুবিধার্থে এবং সবুজ বরিশাল গড়ে তুলতে একাধিক বড় পদক্ষেপের কথা জানানো হয়:
ইকোপার্ক ও খেলার মাঠ: নগরবাসীর বিনোদনের জন্য একটি বড় ইকোপার্ক এবং ৩০টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে ১টি করে মোট ৩০টি খেলার মাঠ তৈরি করা হবে।
বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ: বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২০০ টন বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প শুরু হচ্ছে।
বৃক্ষরোপণ: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আগামী অর্থবছরে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হবে।
সামাজিক ও নাগরিক সুবিধার অংশ হিসেবে বাজেটে নারী ও শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে:
নারীবান্ধব উদ্যোগ: কর্মজীবী নারীদের জন্য হোস্টেল, বিশেষ মার্কেট এবং আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হবে।
শিশু বিনোদন: গ্রিন সিটি পার্ক সংস্কার, নতুন রাইড স্থাপন, শিশুদের জন্য খেলাধুলার সরঞ্জাম ক্রয় এবং নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা থাকবে।
বাজেট উপস্থাপনকালে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী, সচিব রুম্পা সিকদার, সাবেক প্যানেল মেয়র আলতাফ মাহমুদ সিকদারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষাবিদ, সামাজিক ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন