১৯ জুলাই ২০২৪। ক্যালেন্ডারের পাতায় আজকের দিনটি অনেকের কাছে সাধারণ মনে হলেও, আমার কাছে এটি এক বিভীষিকাময় যুদ্ধের দিন। সেই শুক্রবারের সকাল থেকেই বাতাসে ছিল বারুদের গন্ধ আর আসন্ন ঝড়ের পূর্বাভাস। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ভাইয়ের কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রেসক্লাব অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছিলাম।
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সহযোদ্ধাদের নিয়ে জুমার নামাজ আদায় করে যখন প্রেসক্লাবের দিকে এগোচ্ছিলাম, তখনো জানতাম না কী ভয়াবহতা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। বিজয়নগর পানির ট্যাংকি এলাকা—সেখানে পৌঁছাতেই পুলিশের অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু হলো। নিমিষেই চারপাশ পরিণত হলো এক রণক্ষেত্রে।
আমার চোখের সামনেই ঝরে গেল তাজা প্রাণ। আমার পাশেই থাকা এক যুবদল নেতা হঠাৎ লুটিয়ে পড়ল। গুলির আঘাতে তার মগজ ঝরে গিয়েছিল—সেই বীভৎস দৃশ্য আজো আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আমরা কয়েকজনে মিলে তার নিথর দেহটা ধরাধরি করে একটি রিকশায় তুলেছিলাম। সেই রক্তমাখা হাত আর প্রিয় সহযোদ্ধার বিদায়—সেদিনের সেই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে সেই মরণপণ লড়াই চলল। কিন্তু থামিনি। এরপরই আমার গন্তব্য ছিল নয়াপল্টন। স্বৈরাচারী শাসকের পুলিশের ডিবি হারুন বাহিনী তখন পার্টি অফিসের দরজায় তালা ঝুলিয়ে রেখেছিল। কিন্তু আমাদের কণ্ঠস্বর কি তালা দিয়ে আটকানো যায়? আমি নিজ হাতে সেই তালা ভেঙেছিলাম। আমার হাতের কাঁপুনি ছিল না, ছিল কেবল এক অদম্য জেদ—পার্টি অফিসকে মুক্ত করার জেদ। যখন তালাটা ভেঙে গেল, মনে হলো আমরা যেন দীর্ঘদিনের শিকল ভেঙে বেরিয়ে এলাম।
স্বৈরাচারী হাসিনার পেটোয়া বাহিনী সেদিন অকাতরে ছাত্র ও জনতার রক্ত ঝরিয়েছিল। চারিদিকের আর্তনাদ, পুলিশের গুলি আর মৃত্যুর মিছিলের মাঝে আল্লাহ অশেষ রহমতে আমাকে সেদিন বাঁচিয়ে রেখেছেন। আজও যখন একা হই, ১৯ জুলাইয়ের সেই পল্টনের রাস্তাগুলো আমাকে তাড়া করে ফেরে।
সেই রক্তস্নাত শহীদদের আত্মা কি আজ মুক্তি পেয়েছে? আমি জানি না। কিন্তু আমি গর্বিত—আমি লড়াই করেছি, আমি তালা ভেঙেছি, আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছি।
আজ ১৯ জুলাই। সেই দিনের প্রতিটি রক্তবিন্দু আমার শপথকে আরো দৃঢ় করে। আমরা লড়েছিলাম বেঁচে থাকার জন্য, লড়েছিলাম মিথ্যার শিকল ভাঙার জন্য। আজকের দিনে সেই শহীদদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।
লেখক: সদস্য সচিব, যুবদল, ঢাকা মহানগর উত্তর

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬
১৯ জুলাই ২০২৪। ক্যালেন্ডারের পাতায় আজকের দিনটি অনেকের কাছে সাধারণ মনে হলেও, আমার কাছে এটি এক বিভীষিকাময় যুদ্ধের দিন। সেই শুক্রবারের সকাল থেকেই বাতাসে ছিল বারুদের গন্ধ আর আসন্ন ঝড়ের পূর্বাভাস। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ভাইয়ের কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রেসক্লাব অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছিলাম।
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সহযোদ্ধাদের নিয়ে জুমার নামাজ আদায় করে যখন প্রেসক্লাবের দিকে এগোচ্ছিলাম, তখনো জানতাম না কী ভয়াবহতা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। বিজয়নগর পানির ট্যাংকি এলাকা—সেখানে পৌঁছাতেই পুলিশের অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু হলো। নিমিষেই চারপাশ পরিণত হলো এক রণক্ষেত্রে।
আমার চোখের সামনেই ঝরে গেল তাজা প্রাণ। আমার পাশেই থাকা এক যুবদল নেতা হঠাৎ লুটিয়ে পড়ল। গুলির আঘাতে তার মগজ ঝরে গিয়েছিল—সেই বীভৎস দৃশ্য আজো আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আমরা কয়েকজনে মিলে তার নিথর দেহটা ধরাধরি করে একটি রিকশায় তুলেছিলাম। সেই রক্তমাখা হাত আর প্রিয় সহযোদ্ধার বিদায়—সেদিনের সেই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে সেই মরণপণ লড়াই চলল। কিন্তু থামিনি। এরপরই আমার গন্তব্য ছিল নয়াপল্টন। স্বৈরাচারী শাসকের পুলিশের ডিবি হারুন বাহিনী তখন পার্টি অফিসের দরজায় তালা ঝুলিয়ে রেখেছিল। কিন্তু আমাদের কণ্ঠস্বর কি তালা দিয়ে আটকানো যায়? আমি নিজ হাতে সেই তালা ভেঙেছিলাম। আমার হাতের কাঁপুনি ছিল না, ছিল কেবল এক অদম্য জেদ—পার্টি অফিসকে মুক্ত করার জেদ। যখন তালাটা ভেঙে গেল, মনে হলো আমরা যেন দীর্ঘদিনের শিকল ভেঙে বেরিয়ে এলাম।
স্বৈরাচারী হাসিনার পেটোয়া বাহিনী সেদিন অকাতরে ছাত্র ও জনতার রক্ত ঝরিয়েছিল। চারিদিকের আর্তনাদ, পুলিশের গুলি আর মৃত্যুর মিছিলের মাঝে আল্লাহ অশেষ রহমতে আমাকে সেদিন বাঁচিয়ে রেখেছেন। আজও যখন একা হই, ১৯ জুলাইয়ের সেই পল্টনের রাস্তাগুলো আমাকে তাড়া করে ফেরে।
সেই রক্তস্নাত শহীদদের আত্মা কি আজ মুক্তি পেয়েছে? আমি জানি না। কিন্তু আমি গর্বিত—আমি লড়াই করেছি, আমি তালা ভেঙেছি, আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছি।
আজ ১৯ জুলাই। সেই দিনের প্রতিটি রক্তবিন্দু আমার শপথকে আরো দৃঢ় করে। আমরা লড়েছিলাম বেঁচে থাকার জন্য, লড়েছিলাম মিথ্যার শিকল ভাঙার জন্য। আজকের দিনে সেই শহীদদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।
লেখক: সদস্য সচিব, যুবদল, ঢাকা মহানগর উত্তর

আপনার মতামত লিখুন