জনতার প্রেস

মূল পাতা

সারাদেশ

গড় সূচকে স্বস্তি থাকলেও ঢাকার পকেটে পকেটে বিষাক্ত বাতাস: শীর্ষে গুলশান-বারিধারা।

গড় সূচকে স্বস্তি থাকলেও ঢাকার পকেটে পকেটে বিষাক্ত বাতাস: শীর্ষে গুলশান-বারিধারা।
ফাইর ছবি

ঢাকার সামগ্রিক বায়ুমান আপাতদৃষ্টিতে সহনীয় মনে হলেও, ভেতরের চিত্রটা বেশ উদ্বেগজনক। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের (IQAir) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, আজ রবিবার (১৯ জুলাই) ঢাকার গড় বায়ুমান সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও গুলশান ও বারিধারার মতো সুনির্দিষ্ট কিছু অভিজাত এলাকার বাতাস ইতিমধ্যে সবার জন্য 'অস্বাস্থ্যকর' অবস্থায় পৌঁছে গেছে।

​সামগ্রিক সূচক বনাম মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা

​আইকিউএয়ারের সকাল ৮টা থেকে ৯টার রেকর্ড অনুযায়ী, বৈশ্বিক দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা বর্তমানে ২১তম অবস্থানে রয়েছে। ঢাকার গড় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) স্কোর ৭৬, যা পরিবেশগত মানদণ্ডে 'সহনীয়' বাতাসের নির্দেশক।

​তবে রিয়েল-টাইম একিউআই স্টেশনগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঢাকার সব এলাকার চিত্র এক নয়। বিশেষ করে গুলশানের গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এলাকার বাতাস বর্তমানে সবচেয়ে দূষিত অবস্থায় রয়েছে, যার স্কোর ১৫২। পরিবেশ বিজ্ঞানের ভাষায় এই স্কোরটি সবার জন্যই অস্বাস্থ্যকর।

​ঢাকার শীর্ষ দূষিত এলাকাগুলো

​র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী ঢাকার যেসব এলাকার বাতাস বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ:

গুলশান এলাকা: গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, বেজ এজওয়াটার আউটডোর, গুলশান লেক পার্ক এবং গুলশান ২-এর রব ভবন।

বারিধারা এলাকা: পার্ক রোড ও বারিধারা লেকসাইড।

অন্যান্য এলাকা: উত্তর বাড্ডা, পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ি, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) এলাকা, ধানমন্ডি এবং গোড়ান।

​বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: শীর্ষ দূষিত শহরের তালিকা

​আজকের রেকর্ড অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা। এক নজরে বিশ্বের শীর্ষ ৫ দূষিত শহরের চিত্র:

১,কাম্পালা( উগান্ডা) -১৯৮ সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর

২,কিনশাসা (কঙ্গো) -১৮২ সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর

৩,জাকার্তা( ইন্দোনেশিয়া)-১৬৮সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর

৪. শিকাগো (যুক্তরাষ্ট্র)-১৬০ সবার জন্যঅস্বাস্থ্যকর

৫. দিল্লি (ভারত)-১৫১সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর

বাতাসের মূল শত্রু 'পিএম ২.৫' এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি

​ঢাকার এই দূষিত বাতাসের প্রধান কারণ হলো পিএম ২.৫ (PM2.5) বা অতিসূক্ষ্ম ধূলিকণা। ২.৫ মাইক্রোমিটারের চেয়েও কম ব্যাসের এই ক্ষতিকর কণাগুলো নিঃশ্বাসের সাথে সরাসরি ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে এবং একপর্যায়ে রক্তপ্রবাহে মিশে যায়। এর ফলে হাঁপানি (অ্যাজমা), ব্রঙ্কাইটিস এবং হৃদ্‌রোগের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।

ভয়াবহ পরিসংখ্যান: ২০২৩ সালের নভেম্বরে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে (BMJ) প্রকাশিত এক সমীক্ষা অনুযায়ী, জীবাশ্ম জ্বালানিজনিত বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ৫২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যমতে, গৃহস্থালি ও পারিপার্শ্বিক বায়ুদূষণের সম্মিলিত প্রভাবে বছরে প্রায় ৬৭ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়।

দূষণের প্রধান উৎস: অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজ থেকে সৃষ্ট ধুলো, যানবাহন ও শিল্পকারখানার ধোঁয়া এবং ঢাকার চারপাশের ইটভাটাগুলো এই সংকটের জন্য প্রধানত দায়ী।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি নির্দেশনা

​ঢাকার বাতাস অতিমাত্রায় দূষিত হওয়ায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে নাগরিকদের বাইরে বের হলে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দূষণ রোধে অংশীজনদের প্রতি কিছু কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:

নির্মাণসামগ্রী এবং তা পরিবহনের সময় ট্রাক বা লরি অবশ্যই ঢেকে রাখতে হবে।

​নির্মাণস্থলের আশপাশে দিনে অন্তত দুবার পানি ছিটানো বাধ্যতামূলক।

​যেকোনো ধরনের কঠিন বর্জ্য বা প্লাস্টিক পোড়ানো সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে।

​ফিটনেসবিহীন পুরোনো ও ধোঁয়া তৈরি করা যানবাহন রাস্তায় বের করা যাবে না।

​এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের করণীয়

সংবেদনশীল গোষ্ঠী (শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টের রোগী): খুব বেশি প্রয়োজন না হলে ঘরের বাইরে যাওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।

সাধারণ সুস্থ ব্যক্তি: বাইরে কাটানো সময় সীমিত করুন এবং বাইরে ভারী শারীরিক পরিশ্রমের কাজ এড়িয়ে চলুন।

সুরক্ষা কবচ: ঘরের বাইরে পা রাখার আগে অবশ্যই উচ্চ সুরক্ষাসম্পন্ন মাস্ক ব্যবহার করুন। ঘরের ভেতরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে জানালা বন্ধ রাখুন এবং সম্ভব হলে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন।

আপনার মতামত লিখুন

গড় সূচকে স্বস্তি থাকলেও ঢাকার পকেটে পকেটে বিষাক্ত বাতাস: শীর্ষে গুলশান-বারিধারা।
0:00 0:00
1.0x
জনতার প্রেস

রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬


গড় সূচকে স্বস্তি থাকলেও ঢাকার পকেটে পকেটে বিষাক্ত বাতাস: শীর্ষে গুলশান-বারিধারা।

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

ঢাকার সামগ্রিক বায়ুমান আপাতদৃষ্টিতে সহনীয় মনে হলেও, ভেতরের চিত্রটা বেশ উদ্বেগজনক। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের (IQAir) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, আজ রবিবার (১৯ জুলাই) ঢাকার গড় বায়ুমান সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও গুলশান ও বারিধারার মতো সুনির্দিষ্ট কিছু অভিজাত এলাকার বাতাস ইতিমধ্যে সবার জন্য 'অস্বাস্থ্যকর' অবস্থায় পৌঁছে গেছে।

​সামগ্রিক সূচক বনাম মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা

​আইকিউএয়ারের সকাল ৮টা থেকে ৯টার রেকর্ড অনুযায়ী, বৈশ্বিক দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা বর্তমানে ২১তম অবস্থানে রয়েছে। ঢাকার গড় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) স্কোর ৭৬, যা পরিবেশগত মানদণ্ডে 'সহনীয়' বাতাসের নির্দেশক।

​তবে রিয়েল-টাইম একিউআই স্টেশনগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঢাকার সব এলাকার চিত্র এক নয়। বিশেষ করে গুলশানের গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এলাকার বাতাস বর্তমানে সবচেয়ে দূষিত অবস্থায় রয়েছে, যার স্কোর ১৫২। পরিবেশ বিজ্ঞানের ভাষায় এই স্কোরটি সবার জন্যই অস্বাস্থ্যকর।

​ঢাকার শীর্ষ দূষিত এলাকাগুলো

​র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী ঢাকার যেসব এলাকার বাতাস বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ:

গুলশান এলাকা: গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, বেজ এজওয়াটার আউটডোর, গুলশান লেক পার্ক এবং গুলশান ২-এর রব ভবন।

বারিধারা এলাকা: পার্ক রোড ও বারিধারা লেকসাইড।

অন্যান্য এলাকা: উত্তর বাড্ডা, পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ি, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) এলাকা, ধানমন্ডি এবং গোড়ান।

​বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: শীর্ষ দূষিত শহরের তালিকা

​আজকের রেকর্ড অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা। এক নজরে বিশ্বের শীর্ষ ৫ দূষিত শহরের চিত্র:

১,কাম্পালা( উগান্ডা) -১৯৮ সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর

২,কিনশাসা (কঙ্গো) -১৮২ সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর

৩,জাকার্তা( ইন্দোনেশিয়া)-১৬৮সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর

৪. শিকাগো (যুক্তরাষ্ট্র)-১৬০ সবার জন্যঅস্বাস্থ্যকর

৫. দিল্লি (ভারত)-১৫১সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর

বাতাসের মূল শত্রু 'পিএম ২.৫' এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি

​ঢাকার এই দূষিত বাতাসের প্রধান কারণ হলো পিএম ২.৫ (PM2.5) বা অতিসূক্ষ্ম ধূলিকণা। ২.৫ মাইক্রোমিটারের চেয়েও কম ব্যাসের এই ক্ষতিকর কণাগুলো নিঃশ্বাসের সাথে সরাসরি ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে এবং একপর্যায়ে রক্তপ্রবাহে মিশে যায়। এর ফলে হাঁপানি (অ্যাজমা), ব্রঙ্কাইটিস এবং হৃদ্‌রোগের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।

ভয়াবহ পরিসংখ্যান: ২০২৩ সালের নভেম্বরে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে (BMJ) প্রকাশিত এক সমীক্ষা অনুযায়ী, জীবাশ্ম জ্বালানিজনিত বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ৫২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যমতে, গৃহস্থালি ও পারিপার্শ্বিক বায়ুদূষণের সম্মিলিত প্রভাবে বছরে প্রায় ৬৭ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়।

দূষণের প্রধান উৎস: অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজ থেকে সৃষ্ট ধুলো, যানবাহন ও শিল্পকারখানার ধোঁয়া এবং ঢাকার চারপাশের ইটভাটাগুলো এই সংকটের জন্য প্রধানত দায়ী।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি নির্দেশনা

​ঢাকার বাতাস অতিমাত্রায় দূষিত হওয়ায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে নাগরিকদের বাইরে বের হলে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দূষণ রোধে অংশীজনদের প্রতি কিছু কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:

নির্মাণসামগ্রী এবং তা পরিবহনের সময় ট্রাক বা লরি অবশ্যই ঢেকে রাখতে হবে।

​নির্মাণস্থলের আশপাশে দিনে অন্তত দুবার পানি ছিটানো বাধ্যতামূলক।

​যেকোনো ধরনের কঠিন বর্জ্য বা প্লাস্টিক পোড়ানো সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে।

​ফিটনেসবিহীন পুরোনো ও ধোঁয়া তৈরি করা যানবাহন রাস্তায় বের করা যাবে না।

​এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের করণীয়

সংবেদনশীল গোষ্ঠী (শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টের রোগী): খুব বেশি প্রয়োজন না হলে ঘরের বাইরে যাওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।

সাধারণ সুস্থ ব্যক্তি: বাইরে কাটানো সময় সীমিত করুন এবং বাইরে ভারী শারীরিক পরিশ্রমের কাজ এড়িয়ে চলুন।

সুরক্ষা কবচ: ঘরের বাইরে পা রাখার আগে অবশ্যই উচ্চ সুরক্ষাসম্পন্ন মাস্ক ব্যবহার করুন। ঘরের ভেতরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে জানালা বন্ধ রাখুন এবং সম্ভব হলে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন।



জনতার প্রেস

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ আরেফিন ইসলাম 
নির্বাহী সম্পাদক
আবুল কালাম আজাদ
বার্তা সম্পাদক
মুক্তা আক্তার

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস